পোস্ট বার দেখা হয়েছে
সে এক সময় ছিল। আমি বলি মূল্যবান প্রহর! এখন তো নিজেকে সবসময় অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ডের ব্যস্তসমস্ত খরগোশ মনে হয়। এখন শাড়ি পরা উৎসব অনুষ্ঠানে। অথচ যে মূল্যবান প্রহরের কথা বলছি, সেইসব দিনে বাড়ির মেয়েরা শাড়িই পরে থাকতেন সর্বক্ষণ। সেই সব নরম সুতির শাড়ি পরা, লাল সিঁদুরের গোল টিপ পরা নরম নরম মায়েরা এখন আমাদের মনেই রয়েছেন বেশি। আমার ভালো লাগত মায়ের শাড়ির গন্ধ। তেল , হলুদ, মশলার হাত ঝটপট শাড়ির আঁচলে মুছে একনাগাড়ে কাজ করে যেতেন আমার মহীয়সী! জীবনের গল্পটা তখন রূপকথাই ছিল। আমিও পরতাম শাড়ি! গামছা, পর্দার কাপড়, ওড়না যখন যা পেতাম তাই দিয়ে। একবার দুর্গাপুজোয় মামণি (আমার ছোটো কাকীমা) আমাকে দুটো শাড়ি কিনে দিয়েছিল, ছোট্ট শাড়ি। একটা হলদে আর একটা লাল। সেই আমার প্রথম শাড়ি পরা। তারপর মায়ের শাড়ি পরে অনেক অনুষ্ঠান করেছি, আমাদের আলমারি ঘেঁটে খুঁজে বের করেছি গোলাপের মতো লাল, মুক্তোর মতো ঝলমলে, সাগরের মতো নীল, কচি ঘাসের মতো সবুজ সব শাড়ি। আমাদের মধ্যবিত্ত সংসারে বাবার একার উপার্জন। বিলাসিতার কোনো উপায় ছিল না। তবুও মায়ের জন্য বাবা পছন্দ করে বিবাহবার্ষিকীতে শাড়ি নিয়ে আসতেন । বাবা মায়ের ওইটাই ছিল রূপকথা! খোঁপায় বেল ফুলের মালা সেজে গুজে মাকে বড় ভালো লাগত। কিন্তু আমার মন জুড়ে ছিল ওই জংলা সুতির শাড়ির রূপকথার গন্ধ। প্রাণভরে মরমে প্রবেশ করাতাম সেই ঘ্রাণ! শরীরের অন্দরের ছোট্ট ভ্রুণের মতো জন্ম নিত শাড়ি পরা মা। আমার বিয়ের পরের দিন, একরাশ যখন কেঁদেকেটে শ্বশুরবাড়ি এলাম তখন সঙ্গে করে সাতরাজার ধন এক মানিকের মতো নিয়ে এসেছিলাম একটা পুঁটুলি। শাড়ির পুঁটুলি। মায়ের পরা একটা শাড়িকে প্রাণভরে কুচকে মুচকে বাক্সে ভরে এনেছিলাম। যখন নতুন বাড়ি , অচেনা মানুষজন, মনকেমনের নৌকা ভাসছে এদিক ওদিক তখনই ওই সুতির শাড়ি নাকে ঠেকিয়ে নিঝুম হয়ে থাকতাম আর মনে হত গ্রীষ্মের দুপুরে মায়ের পাশে শুয়ে আছি মিটমিটে চোখে। আঁচলের গন্ধ নাকে। শাড়ি আর মা সেই তখন থেকে আমার মনের বৈঠকখানা ঘরে বসে পড়েছে রাণীর মতো। আমাদের নাড়ির এবং শাড়ির টান।
একটা কথা না বললেই নয়।
মায়ের স্মৃতি সেই রান্না করতে করতে শাড়ীতে হলুদ হাত মোছা। আমার মা আবার লাল পেড়ে সাদা শাড়ীই পড়তেন। আমি প্রতি বছর স্কুলের সরস্বতী পুজোর সময় আর স্কুলের প্রোগ্রামে মায়ের শাড়ী পড়েছি। পরে অবশ্য ক্লাস এইট থেকে শাড়ী পড়া শুরু - আগেই মামনির দেওয়া প্রথম শাড়ী পরা। আমি কলেজে পড়তে পড়তে সরকারি চাকরীতে ভর্তি হলাম। প্রথম মাইনের টাকা দিয়ে মাকে দুটো রঙিন শাড়ী শুধুমাত্র রান্না করার সময় পড়বেন কিনে মায়ের দিয়েছিলাম। খুব রাগ করে ছিলেন। কিন্তু আমার ঠাকুমা খুব খুশী হয়েছিলেন বলেছিলেন - "বৌমা মেয়ে প্রথম চাকরীর মাইনে দিয়ে কিনে দিয়েছে তাও রান্না করার সময় বাইরে তো পড়ছো না পড়ো" ।
স্মৃতি সেই রান্না করতে করতে শাড়ীতে হলুদ হাত মোছা। (আমার জ্ঞানত) আমার মা আবার লাল পেড়ে সাদা শাড়ী পড়তেন। আমি ক্লাস টু থেকে প্রতি বছর স্কুলের সরস্বতী পুজোর সময় শাড়ী পড়েছি পরে ক্লাস এইট থেকে শাড়ী পড়া শুরু। আমি কলেজে পড়তে পড়তে সরকারি চাকরীতে ভর্তি হলাম। প্রথম মাইনের টাকা দিয়ে মাকে দুটো রঙিন শাড়ী শুধুমাত্র রান্না করার সময় পড়বেন কিনে দিয়েছিলাম। খুব রাগ করে ছিলেন। কিন্তু আমার ঠাকুমা খুব খুশী হয়েছিলেন ।
*একাল*—
*শাড়ির সাতকাহন*
চলছে দুর্গা পুজোর রিয়র্সাল —
গান, নাচ, নাটকের।
*উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা*
উড়ছে কাকীমার শাড়ীতে
ওরে তুই জানিস না তো কিছুই
*পায়রা নয় বলাকা* আছে *শাড়ীতে*।
মণিমা এলেন কত *হাতি* নিয়ে,
কই? দেখি নাতো কোথায় রে?
আরে ওই দ্যাখ কত *হাতি শাড়ীর আঁচলে* আর *পাড়ে* ।
*ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে*
গাইবে টুটুদিদি
এখনো আসেনি রিয়র্সালে টুটুদিদি।
*নৌকা চলে ছলাৎ ছলাৎ নদীর ওপরে*
নীল সাদা শাড়ীতে টুটুদিদি পড়ে।
সাদা লাল পাড়ে শাড়ীতে
পটের দুর্গা মূর্তি,
সারা গায়ে রয়েছেন লক্ষী গণেশ কার্তিক সরস্বতী।
ওমা!! এ যে দেখি খবরের কাগজের মেলা!
আরে বাহ্ সাদা কালো শাড়ীতে কাগজের মেলা,
পড়েছে ঋতু, পর্ণা, আর শশীকলা,
পুজোয় কতই রঙ্গ দেখবে এবার *শাড়ীর সাতকাহন*
এবার পুজোয় টেক্কা দেবেন সবাই
নতুন নুতন শাড়ীর নিয়ে *শাড়ীর সাতকাহন*।
চলছে মডার্ন শাড়ীর প্রিন্টে *শাড়ীর সাতকাহন*।।
0 মন্তব্যসমূহ