পোস্ট বার দেখা হয়েছে
আমাদের গ্রাম সামাগুড়িতে একটা পুরনো ডাকবাক্স আছে। লাল রঙের। বহু বছর ধরে কেউ চিঠি ফেলে না। সবাই এখন মোবাইল ব্যবহার করে।
কিন্তু আমি রোজ দেখি, বিকেল ৪টের সময় একজন বুড়ো লোক এসে বাক্সটা খোলে, ভেতরে দেখে, আবার বন্ধ করে চলে যায়। উনি পোস্টম্যানও না।আমি একদিন জিজ্ঞেস করলাম, "দাদু, আপনি রোজ কী দেখেন? বাক্স তো ফাঁকা।"দাদু হেসে বলল, "ফাঁকা না। রোজ একটা চিঠি থাকে, কিন্তু সেটা আমার জন্য না। তাই আমি নিই না।"
আমার কৌতূহল বেড়ে গেল।পরদিন ৪টের আগেই আমি গিয়ে লুকিয়ে থাকলাম। ঠিক ৪টায় দেখি, একটা ৮ বছরের বাচ্চা মেয়ে এসে একটা ভাঁজ করা কাগজ বাক্সে ফেলে দৌড়ে চলে গেল।আমি দৌড়ে গিয়ে কাগজটা বের করলাম।
তাতে লেখা — *মা*
আজ স্কুলে আঁকার খাতায় ১০ এ ১০ পেয়েছি। তুমি যেখানে আছো, সেখান থেকে দেখতে পাচ্ছো তো?"আমার বুকটা ধক করে উঠল।খোঁজ নিয়ে জানলাম, মেয়েটার মা দুই মাস আগে মারা গেছে। মেয়েটা বিশ্বাস করে, ডাকবাক্সে চিঠি ফেললে সেটা মায়ের কাছে যায়। কারণ ওর মা বলত, "ডাকবাক্স হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় জাদুর বাক্স, এখানে ফেললে চিঠি যেখানে খুশি চলে যায়।"আর ওই বুড়ো লোকটা? উনি হলেন আগের পোস্টম্যান। উনি জানেন বাক্সে এখন আর সরকারি চিঠি আসে না। কিন্তু উনি রোজ আসেন, যাতে মেয়েটা ভাবে — পোস্ট অফিস এখনো চলে, ওর মা চিঠি
পাচ্ছে।আজ বিকেলে আমি আবার গেলাম। বাক্সে একটা নতুন চিঠি।
লেখা — "মা, আজ বাবা আমার জন্য নতুন রঙ পেন্সিল কিনে দিয়েছে।"
আমি চিঠিটা আবার ভেতরে রেখে দিলাম। আর মনে মনে বললাম, কিছু
রহস্য না খোলাই ভালো। এই ডাকবাক্সটা জাদুর বাক্স হয়েই থাক।
0 মন্তব্যসমূহ