মানুষ চরিত্রের ইতিহাস।। অনিরুদ্ধ দত্ত




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

রাত এগারোটা।

পড়ছিলাম একটি বই। বইটি ছিল বর্তমান সমাজব্যবস্থায় শোষিত, নিপীড়িত জনগণের কথা—তাদের ওপর সবলের অত্যাচারের কথা।

টিউবলাইটের জোরালো আলোয় ঘর আলোকিত। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে টানা পড়ছিলাম বইটি। ঘুমে চোখ দুটো জড়িয়ে আসছিল, কিন্তু কিছুতেই বইটি ছাড়তে পারছিলাম না।

ঘাড়ে অল্প অল্প ব্যথা হওয়ায় বই থেকে চোখ সরিয়ে আস্তে আস্তে ঘাড়টি ঘোরাতে লাগলাম, যাতে একটু আরাম বোধ হয়।

হঠাৎ নজরে এলো—টিউবলাইট থেকে সামান্য দূরে, বাঁদিকে দেওয়ালের ওপর একটি বেশ মোটা সাদা টিকটিকি। তার থেকে একটু তফাতে থাকা একটি উইচিংড়ের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে।

বুঝতে পারছিলাম, এবার কী হবে!

সত্যি কথা বলতে কী, খাদ্য-খাদক সম্পর্কের কথা তখন কিন্তু মাথায় আসেনি। মনে হচ্ছিল—দেখি না, কী হয়!

উভয়েই উভয়ের দিকে স্থিরভাবে তাকিয়ে আছে।

একবার মনে হলো, টিকটিকিটিকে তাড়িয়ে দিই। কিন্তু কী এক আদিম কৌতূহল, কী এক অদ্ভুত মজা দেখার প্রবৃত্তি মনের মধ্যে কাজ করে উঠল! তাই কিছু না করে অপেক্ষা করতে লাগলাম—কী ঘটে দেখব বলে!

প্রায় তিন মিনিট কেটে গেল।

তারপর টিকটিকিটি খুব সন্তর্পণে এগিয়ে এসে উইচিংড়েটিকে ধরে ফেলল।

উইচিংড়েটিও বেশ বড় ছিল। তার অর্ধেক শরীর টিকটিকিটির মুখের মধ্যে, আর অর্ধেক শরীর মুখের বাইরে ছটফট করছে। আমি বসে বসে দেখতে লাগলাম সেই শিকার ধরার দৃশ্য।

উইচিংড়েটি ছটফট করছিল।

প্রায় পাঁচ মিনিট পর দেখলাম, টিকটিকিটি তাকে সম্পূর্ণ গলাধঃকরণ করে নিল।

শিকার শেষ।

টিকটিকিটি তখন আরও বেশ মোটা হয়ে গেছে।

মনে হলো, টিকটিকিটি যেন বলছে—“আহ্! কী আরাম! এবার একটু সুখনিদ্রায় যাই।”

সত্যিই তাই। টিকটিকিটি আর নড়াচড়া করছে না। বেশ আরাম করে যেন দেওয়ালে বসে আছে!

হঠাৎ আমার সমস্ত স্নায়ু আলোড়িত হয়ে উঠল।

আমার মানসপটে ধীরে ধীরে ফুটে উঠতে লাগল বর্তমান সমাজের চিত্রপট।

এইমাত্র যে দৃশ্যটি দেখলাম, সেটি কি শুধুই একটি টিকটিকি আর একটি উইচিংড়ের গল্প?

জানি না।

শুধু জানি, বইটি আর পড়া হলো না।

বইটি বন্ধ করে আমার লেখার খাতা বের করলাম। কলম হাতে নিয়ে লিখতে লাগলাম—

‘মানুষের চরিত্রের ইতিকথা।’

নিজের মধ্যেই নিজেকে কেমন যেন অচেনা লাগছিল।

ব্যস, এইটুকুই—

আর কী!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ