পোস্ট বার দেখা হয়েছে
হয়তো তুমি অনলাইন ক্লাস নিচ্ছো,
হয়তো সবে শুয়েছো ক্লান্ত শরীরে,
হয়তো রান্নাঘরে ফুটছে চাল..
কিংবা অবেলার ভেজা চুলে কাঁধ ছুঁয়ে নামছে
শীতের সন্ধ্যা।
কিংবা বসেছো মেডিটেশন করতে।
হঠাৎ আমার ফোন।
তুমি কখনো ঘুমচোখে বলো,
“হ্যালো… বলো…”
আমি লজ্জা পাই—
কারণ কোনো জরুরি কথা নেই,
কোনো আলোচনাও নেই..
সেরকম দরকারও না।
শুধু কণ্ঠের মধ্যে দিয়ে তোমার উষ্ণতা ছোঁয়ার
একটু চেষ্টা...
তুমি হয়তো সৌজন্যের হাসি ছড়িয়ে বলো, “এই তো… সবে চোখ লেগে গিয়েছিল।”
আর আমি বুঝি
ওই মানুষটাইতো আমার পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ ভূমি।
গতকাল রাতে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল মাটি।
রিখটার স্কেল জানালো ৬.৪
সংবাদ মাধ্যমে এখন শুধুই দুর্নীতি, হানাহানি
আর যুদ্ধের উত্তাপ।
আকাশে পারমাণবিক শঙ্কার কালো ছায়া।
কখনো কখনো মনে হয়
পৃথিবীর আয়ু বুঝি শেষ হয়ে এলো।
কেন জানিনা, আজকাল অস্থিরতা বেড়েছে আমার।
কারণে–অকারণে ফোন করি,
হ্যাংলার মত যখন তখন তোমাকে কাছে ডাকি।
তোমার গহণের উত্তাপ নিতে চাই।
বেশ কয়েকবার মতের অমিল হয়েছে আমাদের।
দু’দিন বন্ধ থেকেছে কথা।
কখনো অভিমান দাররক্ষী হয়ে এসে দাঁড়িয়েছে সম্পর্কের মধ্যে।
তবু মনান্তর হয়নি কোনোদিনো।
কারণ আমরা জানি,
শ্রদ্ধা আর বিশ্বাসের মজবুত সেতু আমাদের।
আমি তোমাকে বুঝি।
তোমার নীরবতা, ক্লান্তি, প্রতিদিনের লড়াই।
তুমিও বোঝো আমাকে—
আমার অযথা রাগ, হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়া,
ভেতরে জমে থাকা যন্ত্রণা।
আমার যত অভাব, অভিযোগ,
ব্যর্থতা, স্বপ্ন
সব এসে নোঙর করে তোমার সমৃদ্ধ বন্দরে।
এই ভাঙাচোরা, অস্থির শব্দে ভরা কঠিন পৃথিবীতে
একমাত্র তুমিই পারো
এই রক্তমাংসের মানুষটাকে
শান্ত করতে,
সৃজনশীল রাখতে,
ভালোবাসায় বাঁচিয়ে তুলতে।
আমি বারবার তোমাকে ফোন করি—
কারণে, অকারণে…
সময় অসময়ে বলি, বড্ড দেখতে ইচ্ছে করছে ।
একবার এসো প্লিজ।
তুমি হয়তো আমার ছেলেমানুষী দেখে মনে মনে হাসো।
আসলে তোমার ভেতরেই আছে আমার পৃথিবীর নিরাপদ আশ্রয়।
এক বিকল্পহীন ভালোবাসা।
-------------------------------
বালি ০৪/০২/২০২৬

0 মন্তব্যসমূহ