পোস্ট বার দেখা হয়েছে
হাজার সূর্য হয়ে সময় শরীরে অনির্বাণ তুমি। জন্ম আছে আমাদের কাছে, মৃত্যু নেই তোমার। তুমি এক দুরন্ত সাহস আপোষহীন সংগ্রামের জ্বলন্ত প্রতিমূর্তি, এক মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাণ। আবহমানের মুক্তিকামী মানুষের সঞ্জীবনী মন্ত্র, এক চলমান কিংবদন্তি।
স্বাধীনতার এতটা পথ হেঁটে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত আমরা ।
অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল ইন্ডিয়াতে উন্নয়ন হয়েছে অনেক। কিন্তু স্বস্তি নেই মনে, ক্রমশ জমাট হচ্ছে অন্ধকার।
তোমার কাছে চাই স্বদেশব্রতের ঐশী শপথ, জাতি - ধর্ম - বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ভালোবাসার প্রসারিত হৃদয়, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মানবসেবার মহত্বম দিশা।
জীবনের সত্য অন্বেষণে একদিন সন্ন্যাসী হয়ে ঘর ছেড়েছিলে তুমি। গুরুর সন্ধানে ফিরে ছিলে পথে পথে। কিন্তু সময়ের অমোঘ দাবিতে দশের কাজে দেশের কাজে ফিরে আসতে হয়েছিল। উত্তাল সময়ে তোমাকে যে বড় প্রয়োজন।
আদর্শ পুরুষ তোমার যে স্বয়ং বিবেকানন্দ।
কত সংগ্রাম, কারাবরণ,অসুস্থতা ছদ্মবেশ ধারণ, দেশ দেশান্তরে উল্কার মত বিপদ সংকুল ক্লান্তিহীন ছুটে চলা। কত অনাহার, বিনিদ্র রাত, রক্ত রণাঙ্গন, কত বেদনার ইতিবৃত্ত আবার নতুন অঙ্গিকারে ঝলসে ওঠা, দিল্লি চলার ডাক।
নিজের জন্য নয়। সবটাই দেশ মাতৃকার জন্য। অখন্ড ভারতবর্ষের শৃংখল মোচনের জন্য।
হাজার সূর্য হয়ে সময়শরীরে অনির্বাণ তুমি, তুমি ছিলে,আছো,থাকবে, আবহমানের সংগ্রামী চেতনায়, আমাদের চিরায়ত ঐতিহ্যে, প্রগতির অগ্রযাত্রায়।
১৯২৯ সালের এক ছাত্র সম্মেলনে বলেছিলে -
" স্বাধীনতা শব্দের অর্থ সকলের কাছে এক নয়, আমাদের দেশেও স্বাধীনতা শব্দের মানের একটা ক্রমবিকাশ হচ্ছে। আমি স্বাধীনতা বলতে বুঝি সমাজ, ব্যক্তি, নারী ও পুরুষ, ধনী ও গরিব, সকলের জন্য স্বাধীনতা, রাজনৈতিক মুক্তির সঙ্গে সঙ্গে ঐশ্বর্য্যের সমান বণ্টন, জাতিভেদ ও সামাজিক অবিচারের নাগপাশ থেকে নিষ্কৃতি এবং সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ও ধর্মের হাজারো গোঁড়ামি থেকে উদ্ধার লাভ।
আমরা উত্তর প্রজন্মের মানুষ "আত্মজন" বলে মান্য করি আপনাকে। তাই "তুমি" বলে সম্বোধন করলাম শ্রদ্ধেয় মহাপ্রাণ, অপরাধ মার্জনা করবেন।
আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা, আভূমি প্রণাম চিরসংগ্রামী বিশ্ববন্দিত বীর, নেতাজি সুভাষ।
Photo courtesy - Google

0 মন্তব্যসমূহ