পোস্ট বার দেখা হয়েছে
জয়ীতা চক্রবর্তী আচার্য
প্রজাতন্ত্র দিবস হল আপন স্বাধিকার উদযাপনের উৎসব। ভারতবর্ষের মতন পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণতন্ত্রের মুকুটে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন একটি অতিরিক্ত মাত্রা যোগ করে দেয়।
প্রজাতন্ত্র দিবস ভারতের অন্যতম জাতীয় উৎসব। এই দিনটি সারা দেশে ব্যাপক
আড়ম্বরের সাথে পালিত হয়।
১৯৫০ এর ২৬ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হল ভারতীয় সংবিধান। সেই থেকেই ২৬ জানুয়ারি দিনটি পালিত হচ্ছে প্রজাতন্ত্র দিবস।
‘তন্ত্র’ শব্দটিকে এই ক্ষেত্রে ‘মত’ অর্থে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অর্থাৎ রাজতন্ত্র বলতে যেমন বোঝানো হয় রাজার ‘মত’ তেমনই প্রজাতন্ত্র বলতে বোঝানো হয়ে থাকে প্রজার ‘মত’। অর্থাৎ ভারতবর্ষে প্রজাতন্ত্র বলতে বোঝানো হয় এই দেশে প্রজার মতই শাসনের ক্ষেত্রে শেষ কথা বলবে।
ভারতের গণতন্ত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিন প্রজাতন্ত্র দিবস।
২৬ জানুয়ারি দিনটিকে মহাত্মা গান্ধী নাম দিয়েছিলেন, 'স্বতন্ত্রতা সংকল্প দিবস'।
১৯৪৯ সালের ৯ নভেম্বর গণ পরিষদের প্রথম অধিবেশনে যোগ দিলেন ২০৭ জন সদস্য। সভার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ‘ভারতীয় সংবিধানের রূপকার’ ভীম রাও আম্বেদকর ।
২৬ নভেম্বর গৃহীত হল ভারতীয় সংবিধান । কার্যকর হল আরও মাস দুয়েক পর, অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি, ১৯৫০।
মূল ভারতীয় সংবিধানে ৩০৮জন সদস্যের স্বাক্ষর আছে।এই সদস্যরা ২৪শে জানুয়ারি ১৯৫০সালে তাদের স্বাক্ষর করেন।
২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসের, মূল অনুষ্ঠান হয় দিল্লির রাজপথে। কুচকাওয়াজও অন্যান্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতীয় রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে সাধারণতন্ত্র দিবস পালন করা হয়।
এই উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির আবাসস্থল রাষ্ট্রপতি ভবনের নিকটবর্তী রাইসিনা হিল থেকে রাজপথ বরাবর ইন্ডিয়া গেট ছাড়িয়ে অনুষ্ঠান চলে।
কুচকাওয়াজ আরম্ভ হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি রাজপথের একপ্রান্তে অবস্থিত ইন্ডিয়া গেটে কর্তব্যরত অবস্থায় মৃত সৈন্যদের উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মারক অমর জওয়ান জ্যোতি-তে একটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এর পর ঐ সৈন্যদের উদ্দেশ্যে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
তাছাড়া প্রতি বছর সরকারিভাবে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের সময় কোন একটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো এবং তার আগমন আন্তর্জাতিক বিশ্বের দরবারে ভারতের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করে।।
এই বিশেষ দিনে পরমবীর চক্র,মহাবীর চক্র, বীর চক্র কীর্তি চক্র, অশোক চক্র ইত্যাদি বিশেষ সম্মান প্রদান করা হয় ভারতের বীর সেনাদের সম্মান জানানোর জন্য।ভারতীয় রাষ্ট্রপতি নিজের হাতে মেডেল ও সম্মাননা পত্র তুলে দেন বীরদের হাতে বা তাদের পরিবারের হাতে।এছাড়া যে সমস্ত বালক বালিকারা বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে তাদেরও পুরষ্কৃত করা হয়।
প্রজাতন্ত্র দিবসের মূল অনুষ্ঠান তিন দিন ধরে চলে মূল অনুষ্ঠানের প্রথম দিন মহাত্মা গান্ধীর প্রিয় ইংরাজি গান ’Abide with me ‘এর মিউজিক বাজানো হয়। ২৯শে জানুয়ারি ‘বিটিং দা রিট্রিট ‘অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করা হয়।এই অনুষ্ঠানটি হয় বিজয় চকে।স্থলসেনা, বায়ু সেনা, ও নৌ সেনার বাদকরা নানা দেশাত্মবোধক গানে তাদের বাদ্য পরিবেশন করে।।
প্রকৃতপক্ষে এই দিনটি পালনের মাধ্যমে ভারতীয় জনগণ নিজেদের দীর্ঘ মানসিক দমন-পীড়ন থেকে মুক্তির আনন্দকেই উদযাপন করে থাকে।
বছরে একটি মাত্র দিন সকলে একত্রিত হয়ে সেই সংবিধানের উদ্দেশ্যে চিরসম্মান জানানোর মধ্যেই লুকিয়ে আছে প্রজাতন্ত্র দিবস পালনের প্রকৃত সার্থকতা।
*******************************
ভারত আমার বুকে
পাপু মজুমদার
ভারত আমার বুকে
ভারত নতুনদের স্বপ্নীল চোখে,
এ দেশ শস্য-শ্যামলা
বীর-বীরাঙ্গনার ত্যাগের ফসল।
কত ত্যাগ, কষ্টের পর
পেয়েছি স্বরাজ
ভারত আমাদের চিরনমস্য
ভারতবাসীর মাথার তাজ।
ভারত পুণ্য তীর্থভূমি
জন্মভূমির চরণে শতকোটি প্রণাম জানিয়ে
বলতে চাই--
আমরা ভারতবাসী
বিশ্বের সেরা ধনী ।
কবিগুরুর গানে-কবিতায়
ভারতের ছবি প্রস্ফুটিত,
স্বামীজীর বাণীতে
ভারতের জয়গান চির প্রবাহিত.....
নেতাজীর হুঙ্কারে
ক্ষুদিরামের সংগ্রামে
ভারত পেয়েছিল
স্বাধীনতা।
শত সহস্র জনের রক্তে লেখা
মুক্তির ইতিহাস।
ভারতের জয়ধ্বনি
সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ুক,
ভারত আবার নতুন করে
রামরাজ্য হয়ে ওঠুক।
এটাই মোদের আশা
ভারত মোদের জননী
কোটি সমুদ্র সম ভালোবাসা ।

0 মন্তব্যসমূহ