পোস্ট বার দেখা হয়েছে
জন্মদিন
নরেন নাইয়া
সময় জানিয়ে দিল সঞ্চয়ের ঝুলিতে জমা হল
আরেকটা শূন্য।
কলমে আসেনা ব্যক্তিগত কবিতা...
শুধু, চোখের কোণে একটা ফোঁটার পৃথিবী দোদুল্যমান সময়ের অনন্য কিনারায়।
আর এই জীবনটা যেন কয়েকটা মুহূর্ত মাত্র.....
প্রতি দিন ছিটকে যাচ্ছি
কুয়াশায় মোড়া অতীত শূন্যতায়....
এক এক সময়ে পাগলের মত
থামতে চাইছি.... হয়তো একবার স্থির হতে চাইছি....
হয়তো এক বার, ভেসে উঠব জানলায় –
গোলাপের পাপড়ির মত
আটকে থাকা চোখের পাতায়-
হয়তো আরও এক বার সম্মতি পাব,
প্রিয়তম চুমু, শেষ ছুঁয়ে ফেলার আকুতি...
হয়তো আরও এক বার দম আটকানো কামনায়
আরও এক বার বেঁচে নেব আমি ।
মানুষ কতটা সঞ্চয় নিয়ে যেতে পারে ?
বিস্মৃতির স্টেশন আর কত দূর ?
সেখানে কি ছড়িয়ে আছে
মাইল মাইল বিস্তৃত মহুয়ার বন?
যার মদির গন্ধ, ভুলিয়ে দেবে সব!
সেখানে কি ছড়িয়ে আছে
দিগন্ত রেখা পর্যন্ত বালিয়াড়ি?
যার বিস্তীর্ণ বৈরাগ্য, মুছিয়ে দেবে সব!
এই
প্রেম, নশ্বর কামনা, মলিনতা....
সেই শেষ স্টেশন
আর কোথাও যাবার থাকবে না।
********************
মধ্যবিত্ত মশারি এবং কৃপণ মেঘ
অসীম দাস
টুকরো টুকরো শব্দদৃশ্য ভাবনার ভরসা রঙে
সাজিয়ে সাজিয়ে ট্র্যাপিজের বার টপকে টপকে
কবিতা কোলাজ কূলের এক পশলা আগেই
মহা মাকড়সার জালে জড়িয়ে পড়েছি
সাপ আসে ব্যাঙ আসে কিছু পাঠকও আসে
ধরে থাকে বৃষ্টির ছাতা
দেশে দেশে কবিতার মন্তাজ ভাসানোর মনোবাঞ্ছা জেনে
কক্সবাজারে সন্ধ্যা নেমেছে
ভাসানের পিছু পিছু এসে কুঁড়েমির দিনগুলো
ছোঁ মেরে শুষে নেয় আস্ত বঙ্গোপসাগর
আমার চারিদিকে মধ্যবিত্ত মশারি যেখানে আমি জন্মেছিলাম
তখনও সাপ ব্যাঙ এবং কিছু পাঠক
বৃষ্টির ছাতা নিয়ে আমারই অপেক্ষায়
কৃপণ মেঘের ভাঁড়ে খুচরো পুকুর
**********************
সুজন তোমায়
মধুপর্ণা বসু
কখনো নাম নিয়ে খুঁজিনি তোমায়,
নিজেই নামহীন অজ্ঞাতবাস চেয়ে ফেলি নিজেকে তোমার চৌহদ্দিতে আসক্ত করে তুলবো ভেবে।
শরীরের প্রতারণা আঙুলের নাড়াচাড়া দিয়ে যতই অনুভাবী করে তোলার মিথ্যে চেষ্টা করেছি,
তুমি আমার ধূসর কোষে অতর্কিত হামলায়
পরাজিত করলে আমাদের আপাত নিকট লৌকিক উদাসীনতা।
সুজন... চমৎকার সুজন... এই ভাঙা অনুপ্রাসের কলাদোষ তোমারই অহঙ্কার।
আমি আজও অনসূয়া তোমার চন্দ্রকলা সমারোহে।
শুনেছো সুজন?
অসূর্যম্পশ্যা এই মিথ্যে অতিশয়োক্তি আমি ধীরে ধীরে দুরূহ নিরাসক্তিতে চাক্ষুষ করে তুলছি।
*************************
মা
অয়ন দাস
ছোটোবেলায় মা'কে দেখে মনে হত
সংসারের জোয়াল কাঁধে হেঁটে যাওয়া
এক অসহায় মহিলা শ্রমিক।
মনে হত আমি ও মা যেন সমবয়সী দুই বন্ধু।
গরমের ছুটির দুপুরে দাবা খেলায় যখন জিতে যেতাম,
মায়ের মুখে খেলে যেত এক মায়াবী রোদ্দুর।
এখন মায়ের থেকে বয়স্ক হয়ে গেছি আমি
ক্লান্ত মা দাবা খেলতেই ভুলে গেছে হয়তো ,
বয়স থাবা বসিয়েছে শরীরে,
জং ধরেছে স্মৃতিতে
তবু তার মুখে লেগে থাকে শেষ বিকেলের মায়াবী রোদ।
আজ মেয়ের সঙ্গে দাবা খেলি আমি
খেলার ছলে শেখাই অধীত বিদ্যা,
মেয়ের কাছে হেরে গেলে অবাক হয়ে দেখি,
মায়াবী রোদ কখন যেন তার ঠিকানা বদলেছে।
***********************
শীতের উষ্ণতায়
জয়ীতা চক্রবর্তী আচার্য
শীতের সকাল,রোদের অল্প আয়ুতে
চিলেকোঠার ছাদে, এক অবশিষ্ট
ভগ্নাংশে লেপ্টে থাকা
কিছু একটা আভাস মিলেছে,
বাতেসের আনাগোনায়।
অধীর আগ্রহে-বাঁকাদৃষ্টি
চেয়ে রয়, হালকা সমীকরণে –
কেউই অপরিচিত নই, আমরা।
এই আকাশ সবার নিজস্ব আকাশ।
মনের সমস্ত প্রশ্ন,অন্ধকার দূর,
অবরুদ্ধ যন্ত্রণার গাঢ় ছবি,
প্রেম হীন সম্পর্ক টিকে রয়
চলমান লেখচিত্র,
স্বপ্নের ছায়াবীথি।
বিশৃঙ্খল মনকে মাতাল করে
হারিয়ে যাওয়ার ব্যাকুলতা!
তার প্রতিটি স্পর্শ লেগে আছে,
ব্যক্তিগত গল্পে,
গোধূলির নতুন পাঠে,
আকাশি কল্পনায়...
বিরহে রচিত পুরোটাই
দুঃখের গদ্যাংশ।

0 মন্তব্যসমূহ