দর্পণ || নির্বাচিত সাপ্তাহিক হোয়াটসএপ সাহিত্য




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

অনুত্তীর্ণ 

সৌমেন্দ্র দত্ত ভৌমিক 


আউট সুইং !

ভুল ব্যাট চালিয়ে মনস্তাপের জ্বালা 

আপাদমস্তক,

ক্রিজে আর থাকা চলে না। 

পল্লবিত ভুলগুলো ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে 

মালা হয়ে ঝোলে  নিশিদিন। 

কেউ আর তাকায় না পাঁচিলের ওধারে,

এককালে আলোর পুত্রদের বসত ছিল ওখানে ,

এখন শুধু হানাবাড়ি আর তার রহস্য 

দারুণতর জনপ্রিয়। 

আউটের পর আউট হতে হতেই 

রহস্যের নানা কথা ভাবতে ভাবতেই 

দিন গুজরানের পালাপর্বে দিগন্তের স্পর্শসুখ 

স্বপ্নে ওড়ে। 

===

 সীমাহীন আস্কারা 

সুজিত চক্রবর্তী 


 বাহবা দিচ্ছ সুন্দরীদের দেখছে সবাই 

খেলার ফল হোক সে জেতা , কিম্বা হারা ।

আদিখ্যেতার ছলে কানাকানি হচ্ছে-টচ্ছে 

দেখে কেউ বিরক্ত , কেউ-বা হেসেই সারা ! 

শুধু  দু'একজনে বলেছিল , বাংলা ভাষায় 

এটার নামই জেনো  ' সীমাহীন আশকারা '।

====

 যদি হতে পারতে 

নীলাঞ্জনা ভৌমিক


তোমার জন্যে সমুদ্র হতে পারতাম

     হাতদুটো দিতে যদি বাড়িয়ে,

উচ্ছ্বলতায় সুনামির ঢেউ হতে পারতাম

     একটু যদি ভালোবাসতে।

কলঙ্কের কালো সারা মুখে মাখতাম

      একটু বেশি কাছে আসতে,

তোমার জন্যে কুমারী মা হতে পারতাম

       আমার বিপ্লবের সঙ্গী যদি হতে।

আদিসুখ চাই না আমি চিরাচরিতের মতো

       ভেসে যেতাম পরিবর্তনের স্রোতে, 

স্বাধীন চিত্তের জয়ধ্বজা উড়িয়ে দিতাম

       যদি তুমি আকাশ হতে পারতে।

সমাজের বুকে পেখম মেলে ধরতাম

       তুমি যদি বর্ষার মেঘ হতে পারতে,

এলে না তুমি, হলে না আমার সাথী 

      দিন কাটে সুখের স্বপ্ন দেখতে দেখতে। 

====

 "পরিহাস "

কৌশিক গাঙ্গুলী


অনেকদিন ধরে ভাবছি বলবো এবার মাটিতে পা রাখো , এতদিন তো কংক্রীটের অরণ্যে হারিয়ে গিয়েছিলে । এবার মানুষের কথা ভাবো । সবাই আর দেশজুড়ে ক্ষমতার কাছে হাত পেতে দান গ্রহন করেনা ।  বিনিময়ে প্রথার শর্তে নিজের জায়গাটা পাকা করেনা , সারা জীবনটা তো অনেক চালাকি করলে এবার একটু বোকা হতে শেখো ,অনেকে নিজের কাজ করে যায় যন্ত্রনা আর ভালবাসা দিয়ে , কৌশলে নয় । তোমাদের ভাঁড়ামোতে পাতি পাবলিকদের মনোরঞ্জন হয় , তোমরা ক্ষমতাশালীদের দালালদেরও খুশী করতে ওস্তাদ , তোমাদের ধূর্ততায় খুশী হয় পচা সমাজ । আর তোমরা চালাকি করা পয়সায় সমবেত ফূর্তির আসর করো । সেইরকম আলোড়ন ফেলে দেওয়া ভূমিকা কোথায় তোমাদের ? আছে কি সুস্হ পৃথিবীর ছবি , অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা ? স্রেফ বিনোদন , স্রেফ বাতেলাবাজি । তাই অনেকদিন ধরে ভাবছি বলবো এবার মাটিতে পা রাখো , কংক্রীটের জঙ্গলে হারিয়ে গিয়েছো ... 

====

 আবহমান

 অসীম দাস 


ঘরের মানুষও অসম্পৃক্ত পর হতে পারে ।


পথে হাটে সাহিত্য আসরেও 

পাওয়া যায় অবিকল ভাবনার ছড়ে 

বেজে- ওঠা মনের মানুষ ।


এই তো সেদিন ফেসবুকের 

সুদূর কুয়াশা ঢাকা মুখ ,

অপরূপ সন্ধ্যার মিলন বাসরে 

দেখা মাত্রই বলে উঠলেন 

-- দেখলেন , আপনাকে ঠিক দেখেই চিনেছি ?

মনে হচ্ছে যেন কতো দিনের চেনা !

আমার মনও নেচে উঠলো 

চিরচেনার মহানন্দে টিক্ টিক্ স্বরে 

-- এই তো পেয়েছি 

যাঁকে খুঁজছিলাম এতোকাল ধরে !


হঠাৎই কোজাগরী জ্যোৎস্না 

ছড়িয়ে পড়লো পৃথিবীর সমস্ত প্রাচীন কন্দরে ,

অসময়ে ডেকে উঠলো বসন্তের সহস্র কোকিল ,

যত বনানীর সুমিষ্ট বাতাসে 

ভরে উঠলো দশদিক !

আমাদের চার চক্ষুতে তখন 

এক আকাশ ঝিকিমিকি জোনাকির আলো ,

অনর্গল আলাপে বিস্তারে 

সাত সমুদ্রের উত্তাল জোয়ারের ঢেউ !


এক প্রশান্ত চিত্রপটে স্থির ,

লিঙ্গ নির্বিশেষ আমরা 

তাকিয়ে রইলাম আবহমান !

===

 Indian Woman 

Ms Gargi Saha  (C)


They knit, cook, carry 

Weave, water, wash 

Pattern, plaster, parsimony 

Attract, dance, dictate 


Ride, drive, dog paddle 

Pigeonhole to roles 

Within and without 

And adore to be 


Battling, winning, felicitating 

Ambitious yet noble 

Honeypot yet lonely 

Conservative and ultramodern 


Penitent yet challenging 

That makes her an Indian Woman 

Pampered, pestered, fettered 

And left on an island to befriend 'Man'.

===

      "লাল অতীতে ভবিষ্যতে"

                   রম্যরচনা

             অরবিন্দ সরকার

        

পাড়ায় মণ্ডপে সান্ধ্যকালীন জলসা। প্রতিদিন পাড়ার মোড়ল মাতব্বর তারা সব আসরে বসে। হ্যারিকেনের আলোয় ওই স্থানটি আলোকিত হয়।

গ্রামের নাম লালদীঘি, গ্রামে ওই নামে দিঘী থাকায় নামকরণ হয়েছে।

বাহারী হালদার বললো আবার লাল ফিরবে।ভোম্বল হুকোয় টান দিয়েই ফুৎকারে ধূমো উড়িয়ে দিলো। রবি পদ্ধান কলকেটা চাইলো ,এক ছিলিম টানের আশায়।কলকে গোলাকারে ঘুরতে লাগলো। বাতাস মোহ মোহ গন্ধে মাতোয়ারা।

এবার ভোম্বল বললো বাহারীকে কি যেনো বললি? আজকের বিষয়বস্তু কি?

বাহারী বললো আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু লাল আছে থাকবে!

ভোম্বল- লাল বাতি মানে চুলোয় যাওয়া! লাল পতাকা মানে থামিয়ে দেওয়া।লাল জল মানে মদ! 

রবি পদ্ধান বললো- লাল জবা মানেই মায়ের পদতলে স্থান,লাল গোলাপ মানেই প্রেমিক প্রেমিকার ভালবাসা নিবেদন,আর এই লালদীঘি আছে বলেই গ্রামের নাম।

বাহারী শুরু করলো- লাল ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকেই আছে। জওহরলালে নেহেরু লাল,ওই লাল নিয়েই এলো লালবাহাদুর, গুল মেরে গুলজরীলাল তারপরে মসনদে বসলো। লালবালপাল স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলো। লালকেল্লায় লালরা ভাষন দিয়েছে।

ভোম্বল বললো- লাল খুব চোখে লাগে! জমিদারের পেয়াদারা লালচোখ বের করে খাজনা আদায় করতো। পলাশ শিমুল কৃষ্ণ চূড়া লালে লাল। চোখে লাগে তাই নীল ভালো।ও চোখের নিদ্রা আনে।নীল সাগরের জল,নীল আকাশ,নীল রানীর স্বপ্নের রং।" নীল শাড়ি পরে নীল যমুনায় কে যায়- কে যায়" গানটি গেয়ে আসর মাত করলো।

বাহারী বললো- মায়ের জন্য নিবেদনে নীলপদ্ম খুঁজে পাওয়া যায় নি তাই নীলচোখ দিতে হয়েছিল। চোখের রোগে লালবর্ন হওয়ার জন্য জয়বাংলা বলা হয়েছিলো।লালকে ভয়ের জন্য। রক্তের রং লাল, সেই রক্তকে নীলে পরিবর্তন করা যায় না। স্বাধীনতা যুদ্ধে বীরেরা লালরক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছে।

গান্ধীর মুখ দিয়ে হারাম শব্দ বের করেছে গুলি মেরে।লাল রক্তে ভেসে গেছে স্থান। নন্দলাল কৃষ্ণ কালো হয়েও লাল। ফসল পাকলে লাল হয় কিন্তু পোঙাপাকাদের রং হয় নীল।

গরীবের রক্ত লাল চিরদিন।সেই রক্তচুষে ধনীদের আগমন। গরীবের লাল রক্তে ধনীদের ভোগ। তাদের সুযোগ সুবিধায় লাল কালির দাগ টেনে যোগ দানে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। শহীদের রক্ত রাঙানো শহীদ মিনার নীলে ঢেকে তাদের অপমান করা হচ্ছে।

শিকাগো শহর মার্কিন মুলুকে আটঘন্টা কাজের দাবিতে শ্রমিকদের উপর মালিকদের গুলি।ভেসে যায় রাজপথ লালরঙে। আজ পৃথিবীর বুকে লালঝাণ্ডা উড়িয়ে মে দিবস পালন করা হয়। লাল রক্তের বন্যায় ভেসে যায় নীলগ্রহের প্রাণীরা। দাবি আদায়ে লাল পতাকার মিছিল। নীল লোকের লালচোখে শাসানোর দিন শেষ। আবহমান রক্তের লাল বর্ণ।রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা পাওয়া যায় -- চেয়ে পাওয়া যায় না। জোর করে মসনদ ছিনিয়ে নিতে লাল পতাকার মিছিলে আকাশ বাতাস মুখরিত করে ঝাণ্ডা মেরুদণ্ড সোজা রেখে রুখে দাঁড়ালে রাজা রানী পগাড়পার।

ভোম্বল বললো- যদি সামনে উন্নয়ন দাঁড়িয়ে যায় তাহলে? চড়াম চড়াম্ শব্দে ঢাক বাজিয়ে ক্রীতদাস বানিয়ে রাখে তখন? যদি মোমবাতি জ্বালিয়ে বিদ্বজ্জনেরা হাড়হিম হয়ে যাওয়া রক্তে মিছিল করে মদৎ দেয় তাহলে?

বাহারী- মুখপোড়া হনুমানের আবার লজ্জা শরম। আইন আদালতে মুখ পুরলেও কালো টাকা সাদা করার নানান ফন্দি বিদ্যমান। আজ গরুর পেটে টাকা, বালিতে কয়লাতে চাকুরী বিক্রিতে মিশে গেছে টাকা। 

ভোম্বল- যাই বলিস ভাই- অপা যেন লায়লা মজনু! টাকাতে কিনা হয়। বুড়ো বয়সে মেরুদণ্ড সোজা হয়,তাই নারে মদনা!!

বাহারী বললো আইনের নানা পথে এখানে বিচার পাওয়া দেরী। দ্রুত সমাধানের পথ মাষ্টারদার। রক্তের হোলি খেলা বন্ধ হবেই লালের মধ্যে দিয়েই।---

হ্যারিকেনের লাল আলোর শিখায় সকলে মণ্ডপ ছেড়ে বাড়ীর পথে পা বাড়ালো।

===

 কেবলই ছবি নয়

সরদার মুক্তার আলী 


কে বলেছে কেবলই ছবি 

মরহুম মুকুল কেশরী কবি

 রাতের আকাশের উজ্জ্বল শশী 

সকালের মাঠ ভরা ফসলের শিশিরে

প্রভাত রবির ঝলোমলো হাসি  

ঝর্ণার জল বলে তার কুল কুল তানে

পদ্মা পাড়ের পড়ন্ত বিকেলের নরম রোদ  

তার সাথে আরো সাক্ষ্য দেয় অস্তায়মান রবি।

বন্যা বিধৌত নদীর দু পাড়ে জেগে উঠা নতুন চরে

পাখিদের মহাসভায় দুর্দান্ত কিচিরমিচিরে

বিশ্বজোড়া ফুল বাগানের কুঁড়িরা 

শিল্প সাহিত্যের সম্মেলনে শ্লোগান দিয়ে বলছে

 মর্ত লোকের সাহিত্য সভায় 

সভাপতিত্ব করছেন মুকুল কেশোরী কবি।


হুর গুলো সব মোহনীয় আকর্ষণে

প্রবন্ধ গল্প ছড়া গান উপন্যাস

নাট্য রসিকতায় মেতে উঠেছে

কবি সরদার হাস্সান বিন সাবিত

দর্শক কবিগন তুমুল হাত তালিতে

বলছে স্বাগতম কবি স্বাগতম  

এবার নিশ্চয়ই হবে তোমার সাধনার মূল্যায়ন।

====

 অন্ত:পুরে একচিলতে আলো

পল্লব ভট্টাচার্য অনন্ত


অন্ত:পুরে তখন অন্ধকার

জটিলতার জলছবি সব কালো

শুকনো নদীর শুকিয়ে যাওয়া চরে

দেখেছিলেম একচিলতে আলো।

সবুজ সবই আবছা আবছা

মেঘের কালো আস্ত আকাশ জুড়ে

ক্লান্ত পাখির ফুরিয়ে যাওয়া গান

ডুব দিয়েছে ভূমধ্যসাগরে।


কোমল কোমল নধর দূর্বাগুলি

আলতো তোলে মাথা, উর্ধপানে

বলতে কিছু অধর কাঁপে যেন

অতর্কিতে সতর্কিত চোখ পাহারা 

গভীর নীরব গোপন নাড়ীর টানে।

ডাক দিয়ে যায় সুকাজ কুকাজ

নাড়িয়ে কড়া দ্বারে-

নীল সে বাতাস ছোবল মারে

ছেলেবেলার ছেলেখেলার ভূমধ্যসাগরে।


তখনো নবীন শিশুর চোখে

মিটমিটাবে একচিলতে আলো

দিন ফুরাবে ক্ষীন আশাতে উঠে দাঁড়ায়

স্বপ্ন আঁকুক দুচোখে তার আলোর তুলি

রাত্রি শেষে হারিয়ে যাবে

ভূমধ্যসাগর হতে অন্ধকারের কালো ।।

=====

 Proclamation  

Rajit Bandopadhyay 


O dear ! Where you have opened the sheath !!  

Are not you seeing throughout the country

Has settled down today the impostors .  

They are pious successively ,  

First they are in fit of stupid !  

Now the touch of religion venom  

Insane , cast away sense by thrust of Rama .  

Hung it the pride of red ochre --  

Constantly politics are warping it !  

And you and I --  

Only the victim on the sacrificial post !!  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ