শতবর্ষে সুকান্ত || কবিতা গুচ্ছ -৫




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 
অধরা স্বপ্ন

সুব্রত সাহা


মাত্র একুশ বছরের জীবদ্দশাতেই,

সৃষ্টির যে সম্ভার তার কোনো তুলনা নেই!

দারিদ্র্যপীড়িত শৈশব,কৈশোর,যৌবন

বুকভরা বারুদে বিদ্রোহের বিস্ফোরণ!

অঙ্কুরিত বীজের স্বাধীন সোচ্চার বাণী,

দৃপ্ততায় ঘোচায় পরাধীনতার গ্লানি;

সাম্যবাদী চেতনার দীপজ্বলা বুকে

সমাজতান্ত্রিক স্বপ্ন মরে মাথা ঠুকে!

গদ্যময় নিষ্ঠুর সমাজ বোঝেনি তোমায়,

দেয়নি সঠিক মূল্য তাই, হায়! জীবদ্দশায়!

শিশুর বাসযোগ্য বিশ্ব গড়ার অঙ্গীকার

নিয়ে আজও ছুটে চলেছে রানার!

শতবর্ষ পেরিয়ে সেই পূর্ণিমা চাঁদ

পেতে রাখে আজও ঝলসানো রুটির ফাঁদ!

স্বাধীনতার আশিয়ানায় ঢেউ খেলে যায়

অধরা স্বপ্নের দুমরানো অপূর্ণতায়!

====

ক্ষুধার শহরে এখনও সুকান্ত

রানা জামান


শতবর্ষ পেরিয়ে সুকান্ত—

ক্যালেন্ডার বদলেছে, বদলায় নি ক্ষুধার মুখ

শহরের বিলবোর্ডে এখন সুখের অফার

ফুটপাতে শিশুটি খোঁজে একমুঠো ভাত

কবিতার খাতায় তিনি এখনও আগুন রাখেন

যেন শব্দগুলো রাতের কারখানায় তৈরি শ্রমিক।


একটি রুটি আজও সূর্যের মতো গোল

কিন্তু তার দাম মাপা হয় বিজ্ঞাপনের ভাষায়

যে তরুণ কবি স্বপ্ন দেখেছিলেন সমতার

তার স্বপ্ন আজ ডেটাবেসে লগইন খোঁজে

বিপ্লব এখন হ্যাশট্যাগ হয়ে স্ক্রিনে জ্বলে-

ক্ষুধা নোটিফিকেশনহীন এক পুরোনো খবর।


সুকান্তের শতবর্ষে প্রশ্ন রাখি মহাশূন্যে—

আমরা কি সত্যিই বদলেছি, নাকি কেবল পোশাক?

শিশুর হাতে বই এলেও ভাতের প্রশ্ন রয়ে গেছে

শ্রমিকের ঘামে শহর দাঁড়ায়, শহর তাকে ভুলে যায়

শতবর্ষ শেষে সুকান্ত আরও তরুণ হয়ে ওঠেন—

কারণ ক্ষুধার রাজ্যে তাঁর কবিতা এখনো অসমাপ্ত।

======

তোমার "আঠারো"র ডাকে

সুমিতা চৌধুরী


হে গণকবি, তোমার "দেশলাই কাঠি"র স্ফুলিঙ্গ 

আজ মশাল জ্বেলে "ডাক" দিয়েছে আবারও, 

তোমার "বিদ্রোহের গান" ধরেছে কণ্ঠে

দৃপ্ত স্বরে তোমারই  "আঠারো"।


তোমার "রাণার" আজ অবিরাম ছোটে,

তোমারই "কবিতার খসড়া" নিয়ে।

"ঘুম নেই" আজ শহর গ্রামের চোখে,

সূচনা হয়েছে "ঘুম ভাঙার গান" দিয়ে।


"হদিশ" পেয়েছে আজকের তরুণ প্রজন্ম 

  তোমার ছেড়ে যাওয়া "সিঁড়ি"র, 

"বোধন" হয়েছে নব কলেবরে

বহুকালের "বিক্ষোভ"-এরই। 


"জনরব" আজ ফের সোচ্চার, 

"কলম" লিখছে "মৃত্যুঞ্জয়ী গান",

"দিন বদলের পালা" এসেছে আবার

"স্বপ্নপথ"-এ গেয়ে "রৌদ্রের গান"।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ