পোস্ট বার দেখা হয়েছে
ইয়া সিন
আমাদের মন আদি ঘোড়া৷
বিধ্বংসী বোমারু বিমানের ভয়ে
পালিয়ে বেড়ায়।
আবাদি জমি উজাড় করে তুললো
কবির পরিত্যক্ত পাজামা।
বন্দুক আবিষ্কারের
কথা ভেবে ফুলেরা ঘুমন্ত মাটির
কোলে
পুঁতে রেখেছে
নিজ নিজ সঞ্চিত সুভাষ।
যুদ্ধের আগে কিংবা পড়ে—
ক্ষুধার উচ্চারণ
অতি তীক্ষ্ণ এক বোমা বিস্ফোরণে
সাহসা
আগুনে
দৈত্য বিকৃত দেয় মনন ও কবি সত্ত্বা।
একদিন সুকান্ত;
ফুলিয়ে ওঠে ঢেউ মস্তিষ্কে নদী।
====
স্বাধীনতা ও কিশোর কবি
চান্দ্রেয়ী দেব
মঞ্চে তখন আমি একা
ঠোঁটের গোড়ায় আঠারো বছর বয়স
অনুভূতিতে বারবার করাঘাত করছিল কারোর উপস্থিতি
এই কবিতা শুধু আপনার নয় গোটা সমাজের
রন্ধ্রে রন্ধ্রে থেমে যাওয়ার বার্তা নেই
দীর্ঘশ্বাসে এগিয়ে চলার মূল মন্ত্র
ভয়ের ছাপের কোনও অবশিষ্টাংশ নেই
দুঃসাহসেরা উঁকি দিয়ে যায় অহরহ
এ কেমন কবিতা বিপদের ডঙ্কা নয় বেজে ওঠে বিজয়ের জয়ধ্বনি
এ কেমন কবিতা যেখানে চলতে হবে ঝড় কিংবা দুর্যোগে
কলমের শব্দ কলমের কালিকে প্রণাম
অগ্নিদগ্ধ সৃষ্টি ভাঙনের কথা বলে না
প্রত্যাশা দেয় আগুনের এর মতো জ্বলে উঠবার
লিখতে লিখতে নীরবে হাওয়া এসে ছুঁয়ে গেল
বাইরে তাকাতেই দেখি প্রকৃতি রং মেখেছে স্বাধীনতার
একফালি স্বাধীনতার রোদে মনে পড়ে তাকে লোকারণ্যের ভীড়ে
আজ আলোয় আলোকিত স্বাধীনতার দিন
আজ সৃষ্টির আঙিনায় দীপ্তমান কিশোর কবির জন্মদিন।।
====
যে আগুন সময়ের কাছে ঋণী
গুরুদাস গঙ্গোপাধ্যায়
শহরের দেওয়ালে তখনও সন্ধ্যা নামে,
কারখানার সাইরেন পেরিয়ে ঘরে ফেরে ক্লান্ত মানুষ।
একটি কিশোর অন্ধকারের ভিতর
কবিতার খাতায় লিখে রাখে ভাতের গন্ধ।
আকাশে যুদ্ধ, রাস্তায় মানুষের দীর্ঘ সারি,
ইতিহাসের পাতায় তখনও রক্ত শুকোয়নি।
কেউ ভবিষ্যৎ লিখছে সোনার অক্ষরে,
কেউ একমুঠো ভাতের কাছে নিজের স্বপ্ন বন্ধক রাখে।
সেইখানেই কবিতা তার অন্য অর্থ খুঁজে পায়—
প্রেমের পাশে এসে দাঁড়ায় ক্ষুধা,
রুটির দাবি হয়ে ওঠে মানুষেরই প্রাচীন অধিকার,
শ্রমের ঘামে জেগে ওঠে আগামী দিনের পৃথিবী।
একশো বছর পরে প্রশ্নগুলি আরও গভীর—
সভ্যতা কি সত্যিই এগোয়, যদি ক্ষুধা থেকে যায়?
আলো কি তবে কেবল আলোরই নাম,
যদি তার নিচে কোনো মুখ অন্ধকারে পড়ে থাকে?
হয়তো কবিতা কোনো উত্তর নয়—
মানুষের অসমাপ্ত প্রশ্ন হয়ে বেঁচে থাকাই তার নিয়তি;
আর সেই প্রশ্ন যতদিন জেগে থাকে,
ততদিন পৃথিবী বদলানোর সম্ভাবনাও নিঃশেষ হয় না।

0 মন্তব্যসমূহ