'রবীন্দ্র মননে মৃত্যুর স্বরূপ || শান্তা সরকার।




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 শ্রীমদ্ভগবদগীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ের২২নং শ্লোক

"বাসাংসি জীর্নানি যথাবিহায়

নাবানি গৃহ্নতি নবোহপরানি"

রবীন্দ্র মননে তার ই কাব্যিক প্রকাশ ---

"মরণরে  তুহু মম শ্যাম সমান।'

রাধা ও কৃষ্ণের রূপকে জীবনের এক পরম সত্য কবির এই  উচ্চারণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।

রবীন্দ্র প্রজ্ঞায়  'মরণ'  কোনো ভয়ের বিষয় নয়,------যার শুরু আছে তার শেষ ও অবশ্যম্ভাবী। এই সত্যকে মেনে নিয়ে শান্ত প্রসন্ন মনে মৃত্যুকে বরণ করে নেওয়ার মানসিকতায় উজ্জীবিত করতে চেয়েছেন তিনি।।

তার বহু গান কবিতায় 

বার বার  এই সত্য সামনে এসেছে।

"জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে 

বন্ধু হে আমার রয়েছো দাঁড়ায়ে।"

সেই বন্ধুর সঙ্গে মিলিত 

 হওয়ার জন্য যে একক অভিসারে যেতে হবে মৃত্যুর দরজা খুলে এবং সেই  অসীমের উদ্দেশ্যে যাত্রায়--"কোথাও দুঃখ কোথাও মৃত্যু কোথা বিচ্ছেদ নাই।"

পরমাত্মার সঙ্গে জীবাত্মার যে অবিচ্ছেদ্য সংযোগ তা বিস্মৃত হলেই মৃত্যু ভীতি সঞ্চারিত হয় মনে। অন্যথায় প্রিয়মিলনের আনন্দ যাত্রা।


ভানুসিংহের পদাবলীর এই পদের শেষ লাইন দুটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

"জীবন বল্লভ মরণ -অধিক সো

অব তুহু দেখ বিচারি।"

  মৃত্যু আছে বলে জীবনের মূল্য কমে না বরং আরও মহার্ঘ্য হয়ে ওঠে। যা অবশ্যম্ভাবী তাকে নির্ভয়ে গ্রহনের সঙ্গে সঙ্গে যা পেয়েছি তাকেও যথার্থ মর্যাদা দেওয়ার শক্তি যেন অর্জন করতে পারি।


জীবন ও মৃত্যুর পূর্ণ সত্যরূপ  দেখাতে চেয়েছেন কবি এবং সার্থক হয়েছেন --তাই আজ তিনি ভীষণভাবে রয়েছেন আমাদের ভাবনায় মননে , দুঃখ দিনের আশ্রয় হয়ে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ