"মরণরে তুহু মম শ্যাম সমান" || সৌম্য কর




পোস্ট বার দেখা হয়েছে


রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "মরণরে তুহু মম শ্যাম সমান" উক্তিটি জীবনের এক গভীর ও চিরন্তন সত্যকে উদ্ভাসিত করে, যেখানে মৃত্যু কোনো ভয়াল কিংবা ধ্বংসাত্মক রূপ নয়, বরং পূর্ণতার প্রতীক।

​ভগবান বা পরমাত্মার বিচারে বৈষ্ণব পদাবলীর রাধা-ভাবাশ্রিত জীবাত্মা মৃত্যুকে দেখেন - পরম প্রিয়তম কৃষ্ণের সমতুল্য হিসেবে। সংসারের সীমানা পেরিয়ে, সমস্ত বিরহ ও যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে মৃত্যু যেন পরমাত্মার সাথে আত্মার সেই চরম ও পরম মিলনের মুহূর্ত রচনা করে। এখানে মৃত্যু কোনো বিলুপ্তি নয়, বরং অসীমের কোলে নিজেকে সমর্পণ করে একাকার হয়ে যাওয়া।

​অন্যদিকে, সাধারণ মানব জীবনের দৃষ্টিতেও এই দর্শনের আবেদন অপরিসীম। নশ্বর জীবনে মানুষের সমস্ত ক্লান্তি, জরা ও পূর্ণতার আকাঙ্ক্ষার এক পরম আশ্রয় হলো মৃত্যু। এটি জীবনের শেষ অধ্যায় হলেও প্রকৃতপক্ষে শেষ নয়—পুরোনো ও জীর্ণকে পেছনে ফেলে এক নব রূপান্তরের পথ।

​জীবন ও মৃত্যুর এই অবিচ্ছেদ্য চক্রকেই স্মরণ করিয়ে দেয় সেই চিরন্তন বাণী— "अन्तः अस्ति प्रारम्भः" (অন্তের মধ্যেই নিহিত থাকে নতুন সূচনা)। রবীন্দ্রনাথের এই দর্শনে মৃত্যু জীবনের কোনো ট্র্যাজিক সমাপ্তি নয়, বরং মানবাত্মার এক বৃহত্তর ও সুন্দরতর যাত্রার প্রারম্ভিক দুয়ার।

আমার কাছেও সেটাই মূল বিষয় মনে হয়েছে। 

রাধার কাছে প্রেমরসে বিভোর হয়ে কৃষ্ণে বিলীন হয়ে যাওয়া এবং সাধারণ অহম বোধে আচ্ছন্ন প্রাণীর জগৎ সংসারের চিরাচরিত দুঃখকে ত্যাগ করে পরমাত্মায় বিলীন হয়ে যাওয়া - দুটোই সমান।

শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হবে, সম্পর্ক রক্তসম্পর্ক নামক বৃক্ষের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে শাখা-প্রশাখায়, জীবন এর প্রতীকস্বরূপ মানবদেহ রূপান্তরিত হবে এক রূপ থেকে অন্য রূপে। 

জীবনের রূপের এই পরিবর্তন এবং আঁধার থেকে আলোর দিকে যাওয়াই কৃষ্ণপ্রাপ্তি। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ