পোস্ট বার দেখা হয়েছে
এখানে মৃত্যু 'শ্যাম' অর্থাৎ কৃষ্ণ সম। একমাত্র মৃত্যুর মধ্যে দিয়েই সেই পরমকে পাওয়া যায়, যার সাথে মিলনে অপার আনন্দ, সুখ, মুক্তি।
কবি তাঁর খুব কাছের মানুষদের মৃত্যু অবলোকন করেছেন ও বেদনায় জর্জরিত হয়েছেন বারবার।
তারপরে তাঁর এই জীবন দর্শন খুব স্বাভাবিকভাবেই তাঁর সত্তাকে বারবার আলোড়িত করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত করেছিল যে, সবথেকে সত্য যা, তা হল মৃত্যু। তাকে ভয় না পেয়ে , কৃষ্ণ প্রেমের মত বুকে আগলে ধরা ও তার সহজাত আগমন স্বাভাবিক, এটা মেনে নেওয়াতেই জীবনের সার্থকতা।
দুঃখ, শোক, সন্তাপ অন্ধকারের নামান্তর। মৃত্যু ও দুঃখ আসবেই। তাকে আটকানোর সাধ্য কারো নেই। তার থেকে বরং মৃত্যুকে, তার ভয়কে কাটিয়ে তার উপাসক হওয়াই শ্রেয়।
মৃত্যু যেন কবির কাছে হয়ে উঠেছিল, অনেকটা প্রিয়তমকে পাবার মতই আকাঙ্খিত বস্তু।
তাই একের পর এক কবি মৃত্যুশোক পেয়েছেন ও এই পংক্তি হয়তো তাই বারেবারে ফুটে উঠেছে তাঁর কলমে।
মৃত্যু, একই অস্তিত্বের অন্য একটা দিক।
মৃত্যু মানে তো শেষ নয়, সূচনা। বা এক রূপের রূপান্তর, যা পূর্ণতা দেয় জীবনকে।
কবির কাছে হয়তো, মৃত্যু সেই অবধারিত কিছু যাকে এড়িয়ে গেলে বা জানা না হলে, জীবনকে ই জানা সম্ভব হতো না। কৃষ্ণের মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে যেমন এক যুগের পরিসমাপ্তি ঘটেছে, তেমনি সূচনা হয়েছে আর এক যুগের। সেই অর্থে হয়তো শ্যাম এসেছেন।
কবির কাছে হয়তো, একমাত্র মৃত্যুই সেই পথ যার মাধ্যমে উন্নততর কিছু গড়ে উঠতে পারে। তাই তার আসা সর্বদা সত্য ও সার্থক।
এছাড়াও খুব কম বয়সেই তিনি বৈষ্ণব পদাবলী পড়েছিলেন ও নিয়মিত পাঠ করতেন। এটাও সঠিক।
জন্ম - মৃত্যুর চেতনা তাঁর কাছে মৃত্যুশোকের থেকেও বেশি, রাধিকার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে গড়ে উঠেছিল।
আরও পরে, নিজে গভীর শোক পেয়ে, জীবন - মৃত্যুর অবশ্যম্ভাবী সত্যের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হয়ে সে বিষয়ে আরো নিশ্চিত হন।
পরবর্তীতে এত শোক হয়তো তাই সহ্য করতে পেরেছিলেন যা সাধারণ জীবনযাপনে সম্ভব নয়।

0 মন্তব্যসমূহ