পোস্ট বার দেখা হয়েছে
আজ আকাশের গায়ে
শুধু শ্রাবণের বৃষ্টিমেঘ নয়
কোনো এক করুণ বাঁশির
প্রান্তিক সুর মিশে আছে।
এই দিনেই
একটি নক্ষত্র পড়েছিল খসে।
অশ্রুসিক্ত হয়েছিল মানুষ।
একটি কণ্ঠ থেমেছিল প্রকৃতি নিয়মে
তার গান থামেনি।
একটি হাত আর ধরেনি কলম
কিন্তু তার অবিনাশী অক্ষরমালা
আজও কড়া নাড়ে প্রতিটি দরজায়।
তুমি চলে গেছো
কিন্তু রেখে গেছো
একটি প্রশস্ত জানালা
যার ওপারে
আকাশের সঙ্গে মানুষের
প্রতিদিনের কথোপকথন।
সবুজ প্রকৃতির সঙ্গে
মানুষের বন্ধুতার হাতছানি।
বাইশে শ্রাবণ
শুধু বিষাদের দিন নয়
এ এক আয়না,
যেখানে দাঁড়িয়ে আমরা দেখতে পারি
আমাদেরই অন্তর্লোক।
কখনো অজান্তে জিজ্ঞাসা করি
তোমার এত এত আলো পেয়েও
আমাদের অন্তর প্রদীপটি
বারেবারে কাঁপছে কেন ?
বদল হয়েছে সময়ের
প্রযুক্তি- পৃথিবী বদলেছে দ্রুত
মানুষের ভাষারও হয়েছে বদল
তবু তোমার শব্দের ভেতর
কেন আজও
আমাদের আগামী সকাল প্রবলভাবে
জেগে থাকে?
হয়তো এটাই
সৃষ্টির অমরত্ব।
সমকালীন হয়েও চিরকালীন অভিযাত্রার
অনন্ত সাধনা...
প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে কবি চলে যান
কিন্তু তার শব্দব্রম্ভ
মানুষের ভেতরে
নিতে থাকে নতুন জন্ম।
তাই আজ
নিঃসঙ্গ শ্রাবণ আকাশের নিচে
শুধু শোক নয়,
তোমার চরণে রাখি
আমাদের জেগে ওঠার প্রবল আকুতি।
তোমার জ্বালানো
আলোর মশাল
আমরা তুলে নিতে চাই হাতে।
অন্ধ বিশ্বাসের অন্ধকার পেরিয়ে
আত্মার গভীরে প্রোথিত করতে চাই
সত্য, জ্ঞান ও মানবতার দীপশিখা।
আমাদের ছোট্ট প্রদীপগুলি
একদিন মিলুক অনন্ত আলোর উৎসবে।
বাইশে শ্রাবণ হয়ে উঠুক
নতুন অঙ্গীকারের পরিভাষা।
মহাপৃথিবীর কাছে আমাদের
অমলিন ভালোবাসার চিঠি।
------------------------------------------
রচনাকাল - বাইশে শ্রাবণ ১৪৩৩,
8 August 2026
Copiright reserved

0 মন্তব্যসমূহ