পোস্ট বার দেখা হয়েছে
বাংলাদেশের কালিয়া গ্রাম। সময়টা ব্রিটিশ পরাধীন ভারতের প্রায় শেষ লগ্ন। গ্রামটা যেন নিঃশব্দে ফাঁকা হয়ে যেতে লাগল। কেন ?? বাতাসে কান পাতলে শোনা যায় দেশ নাকি দুইভাগ হয়ে যাবে। সেইসাথে জনগনেরও বিভাজন হবে। কিন্তু এই বাংলাদেশেইতো জন্মেছি। এতো আমাদের বাপ- ঠাকুরদার দেশ। এই পদ্মা , এই চাষের জমি, এতো সুন্দর দেশ ছেড়ে নাকি চলে যেতে হবে। মানুষের মন যেন শিকড়বিহীন ভূমিখণ্ড। বানের জলে ভেসে আসা কচুরিপানা। গঙ্গা আর পদ্মা দুই বোন। এদের পারে বাস করা মানুষেরা কোনদিন এই দুই নদীকে আলাদা ভাবেনি। কিন্তু পদ্মাপারের হিন্দুরা দেশ ছাড়ছে বেশ কিছুদিন ধরেই রাতের অন্ধকারে। অল্পবয়সী মেয়ে- বৌদের জন্যে নাকি আর নিরাপদ নয়।
ওদিকে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ভারত উত্তাল হয়ে উঠেছে। ভারতমাতাকে বিদেশী শক্তির হাত থেকে মুক্ত করতে , দেশকে বিট্রিশদের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলন চলছে সারা দেশ জুড়ে। কিশোর কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কলমে ঝরছে আগুন ---
হে মহাজীবন , আর এ কাব্য নয়
এবার কঠিন , কঠোর গদ্য আনো,
পদ - লালিত - ঝঙ্কার মুছে যাক
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো !
প্রয়োজন নেই,কবিতার স্নিগ্ধতার -
কবিতা আজকে দিলাম তোমায় ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময় :
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি ।।
মাত্র একুশ বছরে জীবনাবসান। জাতীয়তাবোধে অনুপ্রাণিত কবি ব্রিটিশদের তীব্র শোষণের বিরূদ্ধে কলম ধরেন। জন্ম তাঁর ১৯২৬ এর ১৫ই আগষ্টে হলেও মৃত্যু তাঁর ১৯৪৭ এর ১৩ই মে। দেখে যেতে পারেন নি স্বাধীন মাতৃভূমি। তাঁর লেখনী বৈষম্যের বিরূদ্ধে গর্জে উঠেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতকে নিংড়ে ব্রিটিশ যুদ্ধে কাজে লাগাচ্ছিল। ভারতের মুখের অন্ন কেড়ে মন্বন্তরে ইংরেজদের সৃষ্ট দেশ জুড়ে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের বিরূদ্ধে কড়া জবাব --" ততদিন প্রাণ দেব শত্রুর হাতে / মুক্তির ফুল ফুটবে সে সংঘাতে।"
যক্ষারোগে আক্রান্ত হয়ে দেশ স্বাধীন হওয়ার কয়েকটা মাস মাত্র আগেই চিরতরে হারিয়ে গেলেন। পরবর্তী প্রজন্মের হাতে দিয়ে গেলেন তাঁর ' ছাড়পত্র '। " নেই অমরত্বের লোভ / আজ রেখে যাই আজকের বিক্ষোভ।"
" চলে যাব -- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপনে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল ,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি -
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার। "

0 মন্তব্যসমূহ