দর্পণ || কবিতা গুচ্ছ ~ কাজরী বসু




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

(১)

ঠিকানা


কথা হয় রোজ, কত কথা হয় রোজ।

তবু সেই কালজয়ী শব্দেরা নয়

বুকের গভীরে ডুবে থাকা চোরাস্রোত

আমাদের পেরোবার সেতু মনে হয়।


রঙ লাগে প্রতিদিন,জঙের উপরে।

অথচ অবাক, নয় সে অ্যাক্রিলিক

জলরঙ তেলরঙ বাতিলের পর

তোমার আমার রঙ পেয়ে গেছি ঠিক।


ছবিদের সীমা হয়,জেনেশুনে তা

কিংবা এ বলা যায়  নাই বা জানো

আঁকা হয়ে যায় কিছু অসীম আকাশ

একদিন পৃথিবীতে নামিয়ে আনো।


দেখা হয় রোজ, শুধু দেখা হয়ে যায়।

তবু সেই দৃষ্টি অবাধ্য হলেই

সেদিনই জানার থাকে আসল কারণ 

হৃদয়ের খাতগুলো চিনবে বলেই।


আমাদের আরও কথা বোধহয় ছিল। 

যেভাবে সুবাস থাকে ফুলের ঘরে

ছিনিয়ে আনার কিছু কারণ তো নেই

বেপরোয়া হতে তবু ইচ্ছে করে।


আমাদের দু একটা কথা প্রতিদিন। 

তবু সেই বিদগ্ধ বাক্যেরা নয়

এলোমেলো টুকিটাকি ভুলের মাশুল

আমাদের ঘরের ঠিকানা মনে হয়।


(২)

দখিন হাওয়ার গল্প


মনের মধ্যে লাগিয়ে রাখা

কমলা হলদে সবুজ পাখা

জানত!


সময় এলে বলবে, না না!

করবে শুধু টালবাহানা

ক্লান্ত!


চাঁদের দেওয়া চরকাগুলো

চুপটি করে গা -ময় ধুলো

মাখবে!


বলতে গিয়ে গিলবে সে ঢোঁক 

ঝরবে ডানা, শুধুই পালক

থাকবে!


সেই কবে এক হারিয়ে যাওয়ার

সমুদ্র আর দখিন হাওয়ার

গল্প


উড়তে উড়তে নামবে ঘুরে

তাল হারিয়ে লাগবে সুরে

অল্প!


গান যখনই মধ্যরাতে

কাটবে দাদরা কাহারবাতে

ছন্দ!


সংশোধনে নিছক ভুলের

খুঁজবে ছেঁড়া পাপড়ি, ফুলের

গন্ধ!


ভরবে যে মন কানায় কানায় 

লাগিয়ে রাখা ইচ্ছেডানায়

উড়লে!


জ্বলবে আকাশ শেষ ফাগুনে।

কী হবে তার সেই আগুনে 

পুড়লে!


(৩)

গল্প যখন সেই দিনের


সুর লেগেছে! কোথাও একটু কম।

কিন্তু তবু জন্ম নিল সুর

নীল আর সবুজ সুরেলা হরদম

মেঘলা সকাল ছড়ালো রোদ্দুর।


সেই তো সেদিন। আকাশে বাতাসে। 

রেলিং জুড়ে। । ব্যালকনিতে,টবে।

ফুলের গায়ে গন্ধ যেমন আসে।

পৌঁছেও যায় মিলনে, উৎসবে। 


দুপুর রোদে ছাদের চিলেকোঠা। 

দরজা ভাঙা৷ ঘুলঘুলিতে ফাঁক।

একটু করে সিঁড়ির উপর ওঠা।

একটা ভ্রমর । কখনো এক ঝাঁক।


বিকেলবেলা৷ লাগামছাড়া ঝড়।

বৃষ্টি নামে। আর কখনো শীতও।

স্মরণে নেই! উজানে অক্ষর। 

ইচ্ছেডানা আজানুলম্বিত। 


সূর্যমুখী। চন্দ্রমল্লিকাও।

শীত ভেঙেছে ভাঙারই অভ্যেসে।

তুমিই একা টের পেলে না তাও

কে কী পাঠায় কারই বা উদ্দেশে।


সেদিন ছিল। সবই সেদিন থাকে।

ডুবতে ডুবতে ভাসতে থাকে চাঁদ

ঘাম লাগা খাম সঞ্চয়িতার তাকে

গ্রহণ জুড়ে মুক্তাকাশের স্বাদ। 


একটু উড়ান। একটু নেমে আসা।

একটু পুরু। বাকিটা ফিনফিনে।

চৈত্র ফাগুন সবই সর্বনাশা

গল্প যখন সবটুকু সেই দিনের।


(৪)

খাদ ও সিঁড়ি 


খাদের ওপারে অন্য খাদেরা আছে

প্রশ্ন করেছ,নামতে বিকেল হবে?

তাড়া কি দিচ্ছ দেরি হয় যদি পাছে!

ওঠবার কথা কে জানে বলেছ কবে!


কখনো সিঁড়িরা স্বপ্নেই ভিড় করে

ঘুম ভাঙতেই সবটুকু সমতল

স্বপ্নের মতো ভেঙে যায় ঘরে ঘরে

জন্মের আগে গর্ভের জমা জল।


অথচ কখনো আকাশের পরিসীমা 

ভ্রান্তিবিলাসে যদি লঙ্ঘন করি

বাদ পড়ে যায় অনুগত শ্যামলিমা

নীলাভ সবুজ আলো উপর্যুপরি...


বাদ পড়ে যায় চন্দ্রিমা সহযোগ।

প্রশ্ন করোনি দাগছোপ কবে থেকে

হারাতেই পারে সম্পদ সম্ভোগ

সহজ রাস্তা যেতেই তো পারে বেঁকে।


খাদের পাশেই আছে আরও কিছু খাদ।

তুমিও রয়েছ জানি তো আমারই পাশে

অবনমনের রাখো সব সংবাদ

সিঁড়ি এযাবৎ থাকেইনি সিলেবাসে।


(৫)

নতুন আকাশ


 খাঁচার মধ্যে শরীর,বন্ধ তালার চাবির ঘর

বুকের মধ্যে আকাশ ছিল, ডানার ছিল জ্বর।

পরিযায়ীর গল্পগুলো গল্প,সত্যি নয়! 


রূপকথাদের গ্রন্থনাতে শব্দেরা টিকটিক

এক পৃথিবী বাস্তবতায় একটু অলৌকিক।

কোন আকাশে রোদের আলোয় চাঁদের গল্প হয়!


তেমন একটি আকাশ খুঁজে পেলেই বা কী আর!

যে খাঁচারা হারায় তালার চাবি দু চার বার

গল্পগুলো মুড়িয়ে পাতা গুটিয়ে রাখে বই।


সকালবেলা দুপুরবেলা কিংবা নিটোল সাঁঝ

দানাপানির ইচ্ছেমতো আর খোলেনি ভাঁজ

প্রশ্নেরা সব নিভিয়ে আলো থামালো হইচই।


এক বাটিতে জলের গন্ধ,অন্যটাতে  সুর

জলতরঙ্গ বাজল না তাও গেল অনেক দূর

সেই সুরেরা গান হলো না, নাম হলো তার ঢেউ।


ঢেউ এসেছে সাগরতটে তখন বালির বাঁধ 

ভুলতে থাকা নীল আকাশের স্থানীয় সংবাদ

কাচের ফ্রেমে দু চোখ রেখে পড়ছিল তা কেউ?


জল ছিল চোখভর্তি বলে ঝাপসা কাচের নীল

অনেক ভেবেও না বানানো এক মিনিটের রিল

মুছেই গেল যেমনটা হয়, হয়েছে হরদম।


যেদিন রাগের পালটা রাগে করল চাবির খোঁজ

বদলে গেল রূপকথারা একান্তে রোজ রোজ 

আকাশ হলো কলমকথায় আকাশী ডট কম


ভাঙার গল্পে সেদিন কিছু গড়তে পারার ধূম।

গরাদ ভাঙা ঘুম ভাঙানো শব্দকল্পদ্রুম 

কান ফাটানো বর্ণমালায় শ্রবণও সঙ্গীন 


নীলের পরে অলিপ সবুজ সুবর্ণ ধানক্ষেত

মিথ্যে মিথের ফেনিয়ে তোলা অশনিসংকেত 

সেদিন তবে নতুন আকাশ,নতুন আলোর দিন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ