পোস্ট বার দেখা হয়েছে
হে প্রেম হে জোছনা ধোয়া জল
সুব্রত হালদার
অমল আলোর শিশুরা হেসে উঠেছিল নিজস্ব নিয়মে,
হানাদার অন্ধকার এসে লুঠে নিয়ে যায়…
প্রতিটা শিশুই দেব শিশু ছিল…
তবু অমৃতের সন্তান সব সাদা-কালো, আমরা-ওরা, আরো কতশত ভাগে ভাগ হয়ে যায়…
বারুদের গন্ধ এসে মুছে দিয়ে যায় সাদা ভাতের ঘ্রাণ..
নক্ষত্র খসে পড়ে, উড়ে যায় সাদা ছাই…
ধূসর এই পৃথিবী আস্ত এক মৃত্যু উপত্যকা ..
চারপাশে শুধু লড়াই আর লড়াই..
মানুষ ভালো নেই …
কতদিন হয়ে গেল বৃষ্টি নেই…
জোছনার জলে ভেজেনা গোপন অলিগলি…
পোড়া প্রান্তরে লক্ষ্মীপেঁচা আসে না আর ,
ঘাস ফড়িং লাফায় না আর শুকনো মরা ঘাসে…
রুপোলি আলোর নিচে শিশিরের জলে ভেজেনা রূপকথার কলি…
মানুষ ভালো নেই ..
হৃদয়ে প্রেম নেই ….
মহেঞ্জোদারোর পাঁজর থেকে ভেসে আসা দীর্ঘশ্বাস মরা নদীর বুক ছুঁয়ে ভেসে যায় সমুদ্রের নোনা হাওয়ার দেশে…
কোন সে শূন্য থেকে সহসা অলৌকিক ক্ষিপ্রতায় চিল শকুন নেমে আসে ..
অন্ধকারে ওরা সব দেখে বড় ভালো..
ছোঁ মেরে তুলে নিয়ে যায় বোধহীন মৃতের শরীর…
অন্ধকার ক্রমশ করে আসে ভিড় ..
মানুষ ভালো নেই…
কোথাও কোন আলো নেই…
হে প্রেম, হে জোছনা ধোয়া জল,
ফিরে এসো অসহায় মানুষের পাশে ,অন্ধকারের ওপার থেকে উৎসারিত প্রথম আলোর মত…
আরো একবার হও ক্ষতের প্রলেপ…
আরো একবার বাজাও তোমার আলোরবেনু দিগন্ত জুড়ে ওই..
মানুষ ভালো নেই...
হে প্রেম,
তোমার করুণাঘন নৈঃশব্দ্যের কাছে আবারো একবার নত হই…
*********
আমি অপরাজিতা
মৌসুমী মুখার্জী
পলাশের লাল রং মেখে ছিলেম দেহে,,
জড়িয়ে তরু উত্তরণ, মগডালের আলিঙ্গন লিপ্সা।
নিবিষ্ট ছিলেম দোঁহে, হঠাৎ প্রপাত ধরনিতলে।
ঝড়ে ভেঙে গেলো পলাশ, রক্ত স্নাত, হৃদয় চুরমার,,
তবু তো আমি অপরাজিতা, বাতাসে দৈববাণী , হাল ছাড়িস না ,
ধীরে অপোক্ত দেহ নিয়ে এগোলাম আরো কিছুটা ,,
অদূরেই কৃষ্ণচূড়া, লতিয়ে দিলাম দেহ।
কিছুটা শান্তি, একটুকরো আশ্রয়।
পাশেই রাধাচূড়ার কটাক্ষ,,, রাগত দৃষ্টিপাত,
ভয় নেই গো......
আমি অপরাজিতা , হারবো না জীবনে।
শুধু বাঁচার অবলম্বন চাই, দুর্বল মেরুদন্ড
বিধাতার সৃষ্টি,
তোমরা দুই মহীরুহ , নিও বাসন্তিক শুভেচ্ছা।
শুধু কেড়ে নিওনা আমার আশ্রয়। ষড়ঋতুর দিক চক্রবালে আমার সতত উপস্হিতি।
স্বয়ং মা দুর্গার অতি প্রিয়, নামেও.......
আমি অপরাজিতা, হারতে শিখিনি দশভুজার অদম্য মনোবলে পরাজিত হবো না কখনো।
*********
ক্ষয়িষ্ণু
নবনীতা
ভেঙে পড়া পাঁচিলে লিখতে গিয়েছিলাম তোর নাম।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় ন্যুব্জ হয়ে যাওয়া...
বৃষ্টির দাগের স্মৃতি বহন করা...
তবু কোনক্রমে টিকে আছে শহুরে ব্যস্ততায়।
যাকিছু পুরনো তা ফুরিয়ে যায়না....আজকাল এটা বড্ড ভালো বুঝি।
নতুন চালের খিচুড়ির সাথে নতুন ওঠা মরসুমি সবজির ঘ্যাঁট।
তবু পুরনো চালের গন্ধটাই ভালো লাগে রোজকার ডালভাতের জীবনে।
নির্বিঘ্নে নির্দ্বিধায় সেই যে চলে গেলি না ফেরার বিকেলে...
সেদিনই টের পেয়েছিলাম, সব পাখি পোষ মানার নয়।
যদিও উড়তে দেওয়ার খেসারত আমাকেই গুনতে হচ্ছে একা।
পাঁচিলটা আজও আছে ঐ পুকুরপাড়ের অন্ধকার ঘেরা বাড়িটায়।
এখনও লেখালিখি চলে বোধহয়.....
সে সবটা বহন করে।
তোর স্মৃতিও ওখানেই জমা করা আছে।
*******
কেয়াপাতার নোঙর
তনুশ্রী মন্ডল
হাজার কোলাহলের মাঝে
ব্যস্ত নীরাবতা,
আকাশের বুকে জমছে
কালো মেঘ ;
করুণতার বাণী দিকে দিকে
সবুজতা তলিয়ে যায় গাঢ় আঁধারে।
কাজের সাথে কাজ নিয়ে
থাকা সর্বক্ষণ,
ঘুর্ণিঝড়ের এক ধাক্কায় ভেঙে
হয় চুরমার ;
কখনো গৃহের পথে অগ্রসর
না হয়ে,
মিশে যেতে ইচ্ছে হয়
প্রবল জনস্রোতে।
কিছু পাওয়া কিছু না পাওয়া
থেকে যায় এক গ্লাস ধোঁয়াশার বুকে,
নিঃশ্বাস বায়ু এগিয়ে চলে
ভ্রাম্যমাণ পথে।
বিশাল ইমারতের কাছে পড়ে থাকে
বকেয়া কিছু দেনাপাওনা,
জন্ম নেয় ক্ষনিকের আশা..
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ফিরে আসে পাড়ে
জমা হয় ফেনা।
নিদারুন দৃষ্টি নিয়ে চেয়ে থাকে
ল্যাম্পপোষ্টের আলো,
মনের আঙিনায় সুবিশাল ঢেউ
হচ্ছে উথাল-পাতাল,
জীবন-যাত্রা দৈনন্দিন ছন্দপতন ;
কাছের মানুষের কাছে অনেক না-
বলা কথা,
জমে ওঠে একে একে হৃদয়
পর্ণকুটির,
চলছে জীবনের প্রতিক্ষণ -
কেয়াপাতার জীর্ণ নোঙর।
*******
নারী
মধুমিতা আদক
চোখের ভাষায়-
মার কাটারি, ভাব-ভঙ্গি
সবাই ডাকে 'রনচন্ডি'!
দশ হাতে সংসার সামলায়-
'মা দুগ্গা' বলে সবাই!
লেখাপড়া ভালোবাসে,লক্ষ্য চাকরি-
আওয়াজ আসে 'বিদ্যেধরী'!
কি সুন্দর গলা,কি ভালো তাল জ্ঞান-
'সরস্বতী' যেন গলায় বিরাজমান!
গায়ের রঙ্ টা চাপা হলেই-
দেখ,দেখ, যেন-'মা কালী'!
কালো চুল হলেই সাদা-
ও-'ঠাকুমা',দাঁড়াও হাতটা ধরি!
জলুস চেহারার, সুন্দরী-
কি 'মাঞ্জা' দিচ্ছ মাইরি!
মনের ভাষায়-
রাজকুমারী,আদরের বোন,অর্ধাঙ্গীনি,বৌমা-
কখনও আবার রনরঙ্গীনী সবার উপর "মা" হওয়া! নর্ত্যকি,বাইজি,দুষ্চরিত্রা,কলঙ্কিনী,পতিতা-
কখনও আবার ঝগরুটি,দজ্জাল বা 'নষ্ট হওয়া'!
সমাজতন্ত্র বা সংখ্যাতত্ত্ব!কি বুঝবে,আমার স্পর্ধা!
আমি ধাত্রী,আমি ক্ষমাদাত্রী,আমি আদি,অকৃত্রিম-
মাতৃশক্তি,পরম ব্রহ্মের অর্ধাঙ্গীনি,প্রকৃতি স্বরূপা !
সংসারের "পরিত্রায়িণী",সঙ্-সারে "লাঞ্ছিতা"-
ব্রহ্মান্ডের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, আমি "নারী মূর্তিকা"!!
********
স্বপ্ন
জয়ীতা চক্রবর্তী আচার্য
ঘোর শ্রাবণ
নিমগ্ন আঁচলে সন্ধ্যার আলো
জ্যোৎস্নার আভাষ, মেঘেদের খেলা
একটি যন্ত্রণার ধুমকেতু!
জানালা দিয়ে ফিনকি আলো,
পড়ে থাকে,অস্তরাগের আলোয়
দেহতত্ত্বের নিত্যতা সূত্র ভেসে বেড়ায়
পথে পথে চৌরাস্তার মোড়ে পুড়ছে সুখ,
কতদূর থেকে দেখা যায় মেঘ?
পাহাড়ের ওপর জমে থাকা,
ঘন কালো মেঘ
সন্ধের প্রদীপ,
ঢেউ এলে ভেসে যায় মগ্নতায়
কি যেন তার ভাষা—বুঝি স্বপ্ন।।

1 মন্তব্যসমূহ
সাপ্তাহিক নির্বাচিত কবিতাগুলো পড়ে সত্যিই অভিভূত হয়ে গেলাম। সকলকে অভিনন্দন।
উত্তরমুছুন