পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কবিতা :-
ঈশ্বর এবং অভিপ্রায়গুলো / শর্মি দে
শব্দকল্পে ভরা তোমার জীবনবোধ
রঙ তুলিতে লিখেছো সহজ পাঠ
একাধিকবার করেছো পর্যালোচনা
তবেই তো বানিয়েছো ভাগ্যের দাবিদার।
একটাই কথা *ডেসটিনি*!
কেউ ফেরাতে পারবে না কায়াকল্পে
দাঁড় টেনেছো স্বপ্নের উচ্চতাকে
ছোট করে ছেঁটে দিলে অভিপ্রায়গুলো
আগুন জ্বালিয়ে, দিলে মৌনতার অভিশাপ
আজ আগুন হয়েছে আরতি
ফুলেল নিবেদনে অট্টহাসি
কেবল পাঁজরের ওপাশে বিষাদ!
অতীন্দ্রিয় তরঙ্গ সৃষ্টি করে
তোমার শয্যা করেছো মসৃণ...
কখনো শুয়েছো পাথরে?
ঈশ্বরের তকমায় গড়ে দিলে "ডেসটিনি"।
জলছবি নির্বাক! সংবাদের শিরোনামে...
গর্জে ওঠো প্রতিবাদে / শিবানী বাগচী
বাতাসে ভাসছে ধনেশ পাখীর --
নিত্য গেলা চোয়াল চেড়া খিস্তি ;
লাল ভ্রুকুটিতে দূরবীনে লক্ষ স্থির,
অজস্র মুখ সেখানে একসাথে কথা বলে !
বোতাম টেপা ট্রিগার গর্জে উঠেছে প্রতিবাদে ;
পাক খাওয়া ধোঁয়াটে দীগন্তে কারফিউ হাহাকার,
খাবি খাওয়া হাজার হাজার সফেদী পুলিস তৎপরতা !
রঙচটা দেওয়ালে দুহাত তোলা প্রশ্নবাণে জর্জরিত,
চাওয়া পাওয়ার আব্দারি ক্যাপশন !
চৌকো বাক্স ঘিরে খবর উন্মুখ --
চিল ওড়া নিরালায়,
ওরা ঝরা পাতাদের আবৃত্তি শোনায় ;
সেখানেও খবরের পাতায় শব্দের হানাহানি!
ইতিহাস বিমুখ আধপোড়া কঙ্কাল,
শূন্য ঘরে ক্ষত স্থানে পট্টি মাড়ে,
শুনে পিসাচের সে কি হাসি ?
আর তা শুনে পথের চাপ চাপ --
কালচে লাল রঙা ধুলোরা, মৃত্যুর গল্প বলে!
কৌতুলী চোখ চেয়ে চেয়ে দেখে --
শ্মশান যাত্রী, শব বাহী গাড়ি,
শোকাতুর মানুষের ভীড় আর সারি সারি লাশ!
আমি আর আমার মোক্ষম হোঁচোট না খাওয়া,
দুটিপা,
পাপের জ্বালে না জড়িয়ে,
মুখ ফিরিয়ে পাঁকের দিকেই হেঁটে চলে যাই !
ঠিক বিদ্রোহ কতটা বেঁচে আছে
শর্ত বিহীন রক্তের আঁচে / অপূর্ব মজুমদার
বিয়োগের ফলাফল শূন্য হলে অবসাদ আসে!
বিয়োগের ফলাফল একটা সংখ্যা হলে,
খড়কুটো আঁকড়ে মানুষ সংগ্রামের ময়দানে নামে মানুষ ভালোবেসে।
কি অদ্ভুত এই বিয়োগের ধাঁধা!
অদৃষ্টর দোহাই দিয়ে মানুষ ভাবে
মৃত ঈশ্বর সব জানতা!
বৈকুণ্ঠ আজানের ধ্বনি শুনে প্রত্যুষে মালা জপে
কবি তার কলম ভাবনায় তখন বড্ড চিন্তিত
এ দেশে যবন হরিদাস আবার কবে জন্ম নেবে।
ওরা হিন্দু না মুসলিম
ওই জিজ্ঞেসে কোন জন!
এখানে মানুষ মরছে কাগুজে পরিচয়
দিতে প্রতিক্ষণ।
লৌহ কপাট ভেঙে নতুন প্রাচীর তৈরি হয়!
আজ সমাজের বড্ড অসুখ,
মানুষের মানুষে ভয়।
সুখ / জয়ন্ত_চক্রবর্তী
সে ছিল সৌখিন লোক ।
নায়কের মতো চেহারা
অনুযোগহীন চোখ,
ঠোঁটে অনাবিল হাসি পায়ে দামি হাস্পাপি.. বাটা ।
গলায় চারপাট মাফলার মেরে
দুলে দুলে, টেনে টেনে, শায়েরী বলতো ...
"যিন্দেগি য়ুঁ ভি গুযার হি জাতি
কিঁউ তেরা রাহগুযার য়াদ আয়া"
ময়দানের হাওয়া, ধর্মতলার ট্রামগুমটি, কে সি দাসে কাঁধে কাঁধ
'আপনি' নিঃস্ব হলো 'তুমি'তে
জেব্রা ক্রসিং দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে
হাত ধরেছিল একদিন ।
তারপর হঠাৎ ;
বসন্তের কোন এক উতলা রাতে
একমুঠো জোনাকি লণ্ঠনে পুরে দিয়ে, দৌড়ে চলে গেল
উজানের দিকে ।
স্থির চোখ বলে গেল – আসি ...
শহর জুড়ে তখন শুধুই শব্দ
'ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও '
ক্ষণ থেকে দীর্ঘ, ক্রমে দীর্ঘতর হলো প্রতীক্ষা
ভ্রান্তি আর বিভ্রান্তি...
শেষে, নৈঃশব্দ ।
বড় জটিল গণিত !
'যারা যায়, তারা ফেরেনা;'
ফিরে আসে দুঃখ দ্বেষ ও বিরাগ ।
সুখ থাকে বহুদূরে…
জেব্রা ক্রসিং দিয়ে হেঁটে যাই আজও
যদি এসে হাত ধরে ...
বিবিধ :-
(অনুনাটিকা)
স্বপ্ন ও শরীর / ডাঃ তপন কুমার বিশ্বাস
স্বপ্নঃ 'তুমি কিছু বেশি দিতে পারতে। সারারাত জেগেছি আমি । কত্থক নাচ তোমার কতো প্রিয়। ভেবেছ একবারও?'
শরীরঃ 'সোনা গয়না মণি মুক্তো এসব ছাড়া আর কিছু আসে না তোমার ঠোঁটে?'
স্বপ্নঃ 'না, আসে না। আমরা যে চিনতে পেরেছি তোমাদের। দু’আনা ভালোবাসা আর চৌদ্দ আনা বাহানা।'
শরীরঃ 'ভুল করছ। বাহানা নয়। সব প্রকৃতির বিধান। প্রকৃতি যে সুর বেঁধে দিয়েছে আমরা সে সুরেই বাজাই, সে সুরেই গাই।'
স্বপ্নঃ 'মেলোড্রামাতে কোথাও তো শরীরের সন্ধান নেই। তোমরা পাও কোথায়?'
শরীরঃ 'দেহ ছাড়া ড্রাম বিউগল বাজবে কি করে? শক্তসামর্থ্য শরীর না থাকলে তোমাদের কত্থক নাচ কোনখানে আছড়ে পড়বে? একটু নেচেই ঘুমিয়ে পড়বে। তোমার পায়ের নুপুর খুলবে কে? আমি না থাকলে? তোমার ঘুম ভাঙাবে কে?'
স্বপ্নঃ 'রাতভর শুধু স্বপ্নস্নান চাই। চাই স্বপ্নের গল্প, লেবু পাতার ঘ্রাণ। আমার যে শরীরের গল্প ভালো লাগে না একটুকুও।'
শরীরঃ 'মিথ্যে বলো না। গায়ের ঘামে নাক ডুবিয়ে তোমাকেও হাঁসের মতো চোখ বুজে ঘুমোতে দেখেছি। তোমাকেও তেঁতুল পাতার মতো কাঁপতে দেখেছি পূর্ণিমার শেষ প্রহরে।’
স্বপ্নঃ ‘সে তো ঈশ্বরের আদেশে, তোমার সুখের অত্যাচারে।’
শরীরঃ ‘তাহলে এই ভোরে আবার মুক্তো চাও কেন?'
স্বপ্নঃ 'কেন চাইব না? আমাকে তুমি ঘুমোতে দিয়েছ দু'দন্ড? নিষেধ শুনেছ?
শরীরঃ ‘নিষেধে ছিল তোমার আহ্বান, প্রাচীর ভাঙার আমন্ত্রণ।’
স্বপ্নঃ ‘সব মিথ্যে। মিথ্যে মিথ্যে মিথ্যে। দাও আমার মুক্তো। এ আমার নায্য পাওনা । তোমার পছন্দের কত্থক নাচে আমি এখন ক্লান্ত অবসন্ন। তোমার মুক্তোর হার হবে আমার স্বান্তনা। অনাহারে বৃষ্টি নামে না, বুঝলে?'
শরীরঃ 'আমার পায়ের আওয়াজে পৃথিবীতে ফুল ফোঁটে, তোমার স্নানের জলে পৃথিবীতে ফসল ফলে। এটাই সত্যি। তবু তোমার অকারণ ছলনা কেন?'
স্বপ্নঃ ‘অকারণ? কিছুই নয় অকারণ। ছলনা না থাকলে তোমার ঘুম ভাঙত? ছলনা আছে তাই তোমার এতো ভোরে ঘুম ভাঙা, ছলনা আছে তাই পুরুষ প্রজাপতি সূর্যমুখীর দিকে ছুটে চলা। ছলনা আছে তাই তোমাদের এতো বাহাদুরি।'
(এতোক্ষনে চাঁদের আলো বেয়ে হাসনুহেনার বেহাগ নামতে লাগল পৃথিবীর ঘুমে।)
( ছোটগল্প )
ভালোবাসার নাম / জয়া চক্রবর্তী সোমা
"আমার কাছে ভালোবাসার আরেক নাম তুমিই।" জল ভরা চোখে বলেছিল সাগরিকা। সার্থকের আজো মনে পরে সেই মুখ। সেদিন সার্থক কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলেছিল-"কিন্তু আমি যে সেই ফিলিংস টাই হারিয়ে ফেলেছি সাগর। জোর করে কি কাউকে ভালোবাসা যায় বল? " সাগরিকা বলেছিল-" কিন্তু একটা সময় তো আমাকে তুমি ভালোবেসেছিলে।" সার্থক বলেছিল -"বেসেছিলাম সেটা যেমন সত্যি, আজ আর বাসি না সেটাও ঠিক তেমনই সত্যি। মানুষের অনুভূতি পাল্টায় সাগর। একদিন তুমিও ঠিক বুঝবে। আর ভালবাসাহীন সম্পর্ককে জোর করে টেনে রাখা মুর্খামি। তাই আমার মনে হয় আমাদের সরে যাওয়াটাই ভালো। "
আসলে সার্থক ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। সাগরিকার ভালবাসাই তাকে ক্লান্ত করে তুলেছিলো। এত নির্ভরশীলতা, এত যত্ন, এত আগলে রাখা! কেমন যেন দম বন্ধ হয়ে আসছিল সার্থকের। বিয়ে না করেও সাগর যেন স্ত্রী। এর চেয়ে বরং একটু উদাসীনতা, একটু দূরে সরে থাকা তার কাছে প্রার্থিত হয়ে উঠেছিল।
ঠিক যেমন একটা ছবি শেষ হওয়ার পর তাকে শিল্পী দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখে, আর অনুভব করে, ঠিক সেরকমভাবেই সেও চেয়েছিল একটা ভালোবাসা, যাকে সে একটু দূর থেকে দেখতে পাবে। কিন্তু সাগর বড় জড়িয়েছিল তাকে। তাই একটা অদ্ভুত একঘেয়েমি এসে গিয়েছিলো সেদিন।
সাগরকে ছেড়ে আসতে যে সার্থকের কষ্ট হয়নি তা নয়। বলেছিল-" একই পৃথিবীতে তো তুমিও আছো, আমিও আছি। দেখা হবে, কথা হবে। সবই তো আগের মতনই থাকবে।"
সাগরিকা মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়ে বলেছিল -"শুধু ভেঙে যাবে আমাদের সেই বাসাটার স্বপ্ন যেটা আর তৈরীই হল না।তাইনা?" সার্থক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেছিল -"বাসাটা যদি ভালো না হয়, তবে কি দরকার মন্দবাসা টুকুকে টিকিয়ে রাখার?"
সার্থক এর সেই সময় কেরিয়ার একদম পিক পয়েন্টে। তার ছবি হাজার ছাড়িয়ে লাখে বিক্রি হচ্ছে সেই সময়। অজস্র স্তাবকের স্তুতি তাকে ভরিয়ে রাখে দিনরাত। তাদের মধ্যে থেকে ভাল লেগে গিয়েছিল মন্দিরাকে। একটা উদ্দাম খোলামেলা সম্পর্ক। মন্দিরা তাকে কখনো বাঁধতে চায়নি সাগরের মত। আর সেজন্যই বোধহয় সার্থকের ভালো লেগে গিয়েছিল মন্দিরাকে। মন্দিরা সঙ্গে সার্থক ঘর বাঁধেনি। কিন্তু বাসা না গড়লেও ভালোবাসাটা ছিল। সার্থকের বালিগঞ্জ প্লেসের ফ্ল্যাটেই আজ আট বছর লিভ ইন করছিল ওরা।
আজ মন্দিরা একেবারে চলে গেল। ওর শেষ টুকিটাকি জিনিষগুলো নিতে এসেছিল ও। মন্দিরা বিনোদের সাথে ইউ.এস.এ চলে যাচ্ছে। নতুন ডানা পেয়েছে মন্দিরা নামের উড়ন্ত পাখিটা। যাবার সময় সার্থকের ঠোঁটে গভীর চুম্বন এঁকে দিয়ে গেছে।
তাই আজ প্রায় আট বছর পর সার্থক আবার এসেছে উত্তর কলকাতার পুরানো সেই চেনা বাসায়। সাগরের বাবা কি বেঁচে আছেন? সাগর কি এখনও স্কুলে চাকরি করে? সার্থক জানে না সাগর এখনও এখানেই থাকে কিনা। তবু আজ এই বাসাটাই যে তার একমাত্র চেনা ঠিকানা।
কলকাতার আকাশে আজ দুপুরেই মেঘ ঘনিয়েছে কালো করে। কড়া নাড়তে দরজা খুলে অবাক চোখে চেয়ে থাকে সাগর। স্যাঁতস্যাঁতে অন্ধকার ঘরের ভিতরটা। তবু সার্থক দেখে সেই চোখ সেই মুখ সেই চিবুক। অথচ কেমন যেন অন্যরকম দেখাচ্ছে আজ ওকে।
সার্থক বিষন্ন হেসে বলে-"ঢুকতেও বলবে না সাগর?" একটু অপ্রতিভ সাগরিকা সরে দাঁড়ায়। ঘরগুলো একটুও পাল্টায় নি। ভিতর ঘর থেকে কাশির শব্দ কানে আসে। সার্থক জানে সাগরের বাবার কাশির শব্দ৷ সাগর খাটের ছতরি ধরে মাথা নীচু করে পায়ের নখ দিয়ে লাল মেঝে খুঁটতে থাকে। সার্থকই নীরবতা ভেঙে বলে-"কেমন আছ সাগর?" সাগরিকা কিছু বলার আগেই ভিতরের ঘর থেকে হাতে মোবাইল নিয়ে ছুটে বেরিয়ে আসে একটা বাচ্চা মেয়ে। বলে-" বাবাই ফোন করেছে। জিজ্ঞাসা করছে দাদুভাই এর অষুধটা কি আনতে হবে?" সাগর ফোন হাতে নিয়ে নীচু স্বরে কিছু কথা বলে। তারপর ফোন রেখে বাচ্চাটার হাতে দিয়ে বলে-" তুমি ভিতরে গিয়ে হোমওয়ার্ক টা শেষ কর মিনি।কাল জমা দিতে হবে তো?" তারপর সার্থকের দিকে তাকিয়ে বলে-"চা খাবে সার্থক? " এবার সার্থক বুঝতে পারে তফাৎটা কোথায়। বলে-" না। মিনি তোমার মেয়ে?" সাগর উত্তর দেয় না। সার্থক দীর্ঘশ্বাস ফেলে।তারপর শুকনো হেসে বলে -"ভারী মিষ্টি মেয়ে।আজ বরং আসি।" সাগর গরাদ দেওয়া জানলা দিয়ে বাইরে চেয়ে বলল-" হ্যাঁ এসো। আকাশের অবস্থা ভালো নয়। ছাতা রাখা তো স্বভাব নয় তোমার। এখনই না বেরোলে ভিজে যাবে।তোমার যা সর্দির ধাত..." সাগর চুপ করে। সার্থক মনে মনে ভাবে "সাগর এখনো এত ভাবো আমার কথা। আজ যে আমি তোমায় বলতে এসেছিলাম আমার কাছে ভালোবাসার আরেক নাম তুমিই।" কিন্তু মুখে সে কথা বলে না। দরজা অবধি এগিয়ে গিয়ে বলে- "তুমি এখনো এবাড়িতেই থাকো সাগর? " সাগরিকা বলে-" হ্যাঁ, অসুস্থ বাবাকে ছেড়ে.." সার্থক বলে -" আর তোমার শ্বশুরবাড়ি?" সাগর হেসে বলে-"কেউ নেই। "
গুম গুম করে মেঘ ডাকে। সাগর উদ্বিগ্ন মুখে বলে -" নাও নাও আর দেরী কোরো না। বেরিয়ে পর। মিনির বাবাকে একটা ফোন করি বরং।কতদূর কে জানে।"
দোতলার বারন্দায় দাঁড়িয়ে সার্থকের যাবার পথের দিকে চেয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে সাগর। শাড়ীর আঁচলে টান পরতেই পিছন ঘুরে দেখে মিনি। মিনি বলল-" মিস আমার সব ম্যাথসগুলো হয়ে গেছে।বাবা কখন আসবে মিস।কত্ত মেঘ করেছে।" সাগর মিনিকে কোলে তুলে নিয়ে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বলে-" এই তো সোনা।এক্ষুনি বাবাকে ফোন করছি। বাবা এসে নিয়ে যাবে ঠিক।"
মিনিও সেই কিন্ডারগার্টেন মর্নিং স্কুলেই পড়ে যেখানে সাগর পড়ায়। সাগর এমনিতে টিউশান করায় না। কিন্তু মিনির বাবা প্রায় হাতজোড় করে অনুরোধ করেছিল। মিনির মা নেই। সে এই সাগরিকা মিসের কাছেই একমাত্র ভালো থাকে। হয়ত মায়ের স্নেহ খুঁজে পায়। ভদ্রলোক বলেছিলেন -"আপনি আমার দিদির মত। প্লিজ আমার মেয়েটাকে যদি একটু দেখেন.. মা মরা মেয়েকে একা হাতে মানুষ করা যে কি কষ্ট.."
মিনিকে সাগর খুব ভালোবাসে। সে ভাবে সার্থকের সাথে বিয়ে হলে তার ঠিক মিনির মতই হয়ত একটা মেয়ে থাকত।
মিনির বাবা মানুষটা খুব ভালো। বিপদে আপদে বড় সাহায্য করেন।সাগরের বাবার অষুধ বিষুধ এনে দেন। দরকারে ছোটাছুটিও তো কম করেন না। বলেন -"আমার বোন থাকলে করতাম না দিদি?"
সার্থককে কোন মিথ্যে বলে নি সাগর। আসলে সে কিছুই বলে নি। শুধু চেয়েছিল সার্থক ফিরে যাক। ভুল বুঝে এই মিথ্যেটা জেনেই ফিরে যাক। একদিন তার ভালোবাসাকে যে অপমান সে করেছিল সেই অপমানের শোধ এভাবেই তাকে ফিরিয়ে দিয়ে দিতে চেয়েছিল সে। সত্যিটা বলেও ফিরিয়ে দিতে পারত সে। কিন্তু তাতে সার্থক আত্মতৃপ্তি লাভ করত যে সাগর সার্থককে ভালোবেসে আজো একা। তার চেয়ে এই ভুল বোঝাটুকু থাক।সেই বরং ভালো।
তবু যে কেন চোখটা আজ কলকাতার আকাশের মতই বারবার জলছবি হয়ে উঠছে তার কাছে। আর জিতে যাওয়া আত্মসম্মানের সঙ্গে তার হেরে যাওয়া ভালোবাসার রঙগুলো সব মিলে মিশে এক হয়ে যাচ্ছে। কি করবে সাগর? আজও যে সাগরের কাছে ভালোবাসার নামটা পাল্টায় নি।

1 মন্তব্যসমূহ
বেশ কয়েকটি পড়লাম।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর পরিবেশন।
পুরোটাই পড়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছি।