পোস্ট বার দেখা হয়েছে কলমে মঙ্গল মিদ্যা (রিপল)
প্রিয় দর্পণ,
বন্ধু পায়েল খাঁড়া
জানি তুমি এই চিঠির উত্তর দেবে না, তাই কেমন আছো জিজ্ঞাসা করবো না। জানি তো তুমি যেখানে থাকবে সবার মুখে হাসি ফুটিয়ে আনন্দে থাকবে। আর আমিও বর্তমান পরিস্থিতিতে আপাততো বেঁচে আছি, তবে এই চিঠি যখন তোমার কাছে পৌঁছাবে তখন কেমন থাকবো জানি না।
যাইহোক শোনো, তোমাকে কয়েকটা কথা জানাতে চাই তাই চিঠি ছাড়া উপায় নেই। তোমার মনে আছে ২০১৬ তে যখন তুমি দর্পণে প্রথম যুক্ত হয়ে আমাকেও নিয়ে গেলে, সেদিনের সেই দর্পণ আর আজকের দর্পণ অনেক পাল্টে গেছে। তুমি নিজে ২০১৯ পর্যন্ত দেখেছিলে তো, তারপর এখন আরো পরিবর্তন হয়ে গেছে আসলে পরিস্থিতির সাথে সাথে হতে হয়েছে। তোমার মনে আছে তখন পিনপোষ্ট প্রতিযোগিতা হতো আর ১,২,৩ পুরস্কার মোবাইল রিচার্জ ৫০,৩০,২০ টাকা থাকতো আর আমরা দুজনে বলতাম যদি কেউ একজন জিতি তাহলে অন্যজনকে ফোন করে সেই টাকা শেষ করবো কিন্তু। অবশ্য কোন দিনই কেউ পাইনি, এখন বুঝি তখন আমাদের লেখা ওতোটাও ভালো ছিলো না তাই। এখন পিনপোষ্ট প্রতিযোগিতা হয় কিন্তু সেইরকম রিচার্জ করা পুরস্কার নেই। তারপর প্রতি সপ্তাহে একবার একজনকে "কবি দর্পণ" সম্মানে ভূষিত করে ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হতো। পায়েল তুমি তো ২য় সপ্তাহে পেয়েছিলে, আর আমরা আলোচনা করেছিলাম তোমার লেখার মানের উন্নতি হয়েছে এবার আমাকেও আমার লেখার মান ভালো করতে হবে তবেই দুজনে দর্পণের চোখে পড়বো।
পায়েল, তুমি কিন্তু দর্পণের চোখে পড়েছিলে তাই তোমার মৃত্যুর পর তাঁদের পুজো সংখ্যা ছাপার বই তোমার নামে উৎসর্গ করেছিলো। মঞ্চে তোমার বড় বড় ফটো ছিলো, এমনকী তোমার বাবাকেও মঞ্চে ডেকে প্রদ্বীপ জ্বালানো হয়েছিলো। তোমার পর বইমেলায় বেরলো তারপর আর ছাপার বই প্রকাশ পেলো না, আর এবছরেও হয়তো হবে না কারণ বর্তমান মহামারী সমাজে যে কি ব্যাপক প্রভাব ফেলছে তা তুমি কল্পনা করতে পারবে না। তবুও দর্পণ থেমে নেই, সুযোগ পেলেই কখনো স্যানিটাইজার মাক্স বিতরণ করছে কখনো কম্বল, শিশুদের কেক্ পেন দিচ্ছে আবার পরিবেশের জন্য গাছ বসানোর উদ্দ্যোগও করছে। এই বছর খানেক হলো দর্পণ নিজের ওয়েবসাইট খুলেছে DARPANPATRIKA.COM ওখানে বিভিন্ন স্বাদের নানা সময় লেখা প্রকাশ হয়। তোমার নিজের লেখাও কয়েকটা আছে দেখেছি, আলাদা ফোল্টার করে।
জানো পায়েল, আমরা যখন দর্পণে প্রথম প্রথম নুতন ছিলাম, আমাদের কাঁচা হাতের লেখাগুলো সম্পূর্ণা'দি শুধরে দিতো "তোদের এই এই বানানগুলো ভুল হয়েছে দেখ, এইখানে এভাবে না লিখে ওভাবে চেষ্টা করে দেখতে পারিস......"
হয়তো দিদির সেইসময়ের অনুপ্রেরণা আর তুমি সবসময় পাশে থাকার ফলে আজ দর্পণের বহু পরিচালক ও তার বাইরেও অনেক মানুষের চোখে আসতে পেরেছি। তারা ব্যক্তিগত ভাবে তোমার কথা জানতে চায় আর আমি তাদেরকে বলি কারণ আজ আমিটা তুমি না থাকলে যে হতো না।
পায়েল, দর্পণে তোমাকে খুব মিস করি। দর্পণের গ্রুপে দুজনে আবার লেখা পোষ্ট করবো চলো, কারটা সবাই বেশি ভালো বলে দেখবো চলো।
জানি তা আর হবে না..........।
ইতি
তোমার বন্ধু ও ছাত্র
মঙ্গল মিদ্যা (রিপল)

2 মন্তব্যসমূহ
উত্তরমুছুনআমিও উপস্থিত ছিলাম দর্পণ পুজো সংখ্যা উদ্বোধনের সেই সুন্দর মুহূর্তে ৷ফোন রিচার্জ ! দারুন ব্যাপার ৷ যা! আমি পেলাম না ৷ সম্পূর্ণাদি কাঁচা হাতের লেখা শুধরে দিত !
আমি পেলাম না তাকে ৷ হয়তো আমার লেখার ত্রুটি গুলো বুঝতে পারতাম ৷
খুব ভালো লাগলো রে অনেক পুরোনো কথা মনে করিয়ে দিলি
উত্তরমুছুন