দর্পণ || ইপত্রিকা || ১৩ তম সংখ্যা || নিবন্ধ - অলিপা পাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

এক রাত 

অলিপা পাল


উত্তর কলকাতায় জন্ম স্বামীবিবেকানন্দের ৷ তাঁর বাড়ির কাছে রেভারেন্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্রাইস্ট চার্চ ও রেভারেন্ড ডাফের মিশন কলেজ ৷ফলে ছোট থেকে তিনি খ্রিষ্টান মিশনারিদের সংস্পর্শে এসেছেন ৷তিনি যখন স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়েন,তখন কলেজের প্রিন্সিপাল ছিলেন দার্শনিক কবি উইলিয়াম হেস্টি ৷অধ্যাপক হেস্টি ওয়ার্ডসওয়ার্থের কবিতা পড়ানোর সময় বলেন,ওয়াডর্সওয়ার্থ মাঝে মাঝে সমাধি 

হত ৷তবে সমাধির ভাবনা বোঝার জন্য দক্ষিণেশ্বর যেতে হবে ৷সেখানে এক ব্যক্তি আছে যাঁর মাঝে মাঝে সমাধি হয় ৷স্বাভাবিক ভাবে ছাত্র'রা সমাধির কথা বুঝতে না পেরে জানতে চান ৷অধ্যাপক হেস্টি আরও বলেন মনের পবিত্রতা ও বিশেষ বিষয়ে একাগ্রতা থেকে ভাব সমাধির উদয় হয় ৷এরকম অবস্থা এখন বিরল ৷একমাত্র দক্ষিণেশ্বরের রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের মধ্যে এরকম অবস্থা হয় ৷ অধ্যাপক হেস্টিই বিবেকানন্দকে দক্ষিণেশ্বরে পাঠিয়ে ছিলেন ৷


রামকৃষ্ণের মৃত্যুর সময় বিবেকানন্দ ২৪বছরের যুবক ৷সন্ন্যাস গ্রহণের জন্য ভাবছেন ৷এই সময় আমন্ত্রণ এলো স্বামী প্রেমানন্দের মা মাতঙ্গিনী দেবী শ্রীরামকৃষ্ণের শিষ্যদের আঁটপুরে আসার জন্য নিমন্ত্রণ করেন ৷আঁটপুর হুগলি জেলার একটি গ্রাম ৷ হাওড়া-তারকেশ্বর ট্রেনে হরিপাল থেকে যেতে হয় ৷


দিনটি ছিলো ২৪শে ডিসেম্বর ৷সবুজে ঢাকা মন্দিরময় গ্রাম আঁটপুর ৷শীতের রাত ৷ উঠানে কাঠের আগুন জ্বলছে ৷আগুনের শিখা ক্রমশ আকাশের দিকে ৷লক্ষ লক্ষ তারার মেলায় প্রকৃতি নিস্তব্ধ ৷সবাই গভীর ধ্যানমগ্ন ৷ নরঋষি বিবেকানন্দের ধ্যান ভঙ্গ হল ৷চোখ খুললেন তিনি ৷বলতে শুরু করলেন আত্মত্যাগের ব্রত ৷ রামকৃষ্ণের নয়জন শিষ্যের প্রাণ মুহূর্তে নূতন আবেগে স্পন্দিত হল ৷ এক প্রাণস্পর্শী দৈবকণ্ঠে স্বামী বিবেকানন্দ বলতে শুরু করলেন যিশু খ্রীষ্টের ত্যাগ ও তপস্যাময় মহাজীবন ও আত্মবিসর্জনের কাহিনী ৷এরপর তাঁর গুরুভাইদের আহ্বান করেন মানব সেবায় নিজেদের বিলিয়ে দিতে ৷জ্বলন্ত আগুনকে সাক্ষী রেখে শপথ গ্রহণ করলেন ,তাঁরা  গৃহত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করবেন—আর কোনদিন ঘরে ফিরবেন না ৷এই মহান ঐতিহাসিক ঘটনাটি ঘটেছিল ২৪শে ডিসেম্বর,যে রাত্রিকে বলা হয় Christmas Eve বা বড় দিনের পূর্ব রাত্রি ৷ অর্থাৎ যিশু খ্রিষ্টের আবির্ভাবের প্রাক্ মহাসন্ধিক্ষণ ৷ যিশুর জন্মের প্রাক্ মহেন্দ্রক্ষণে যিশুর মহিমা কীর্তন করতে করতে স্বামী বিবেকানন্দ সহ  শ্রীরামকৃষ্ণের নয়জন শিষ্য গ্রহণ করলেন সন্ন্যাসজীবনের সঙ্কল্প ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

7 মন্তব্যসমূহ

  1. লেখাগুলি পড়ে বিবেকানন্দ সমন্ধে অনেক কিছু জানা গেল।
    অনেক অনেক ধন্যবাদ সব সুধী লেখকবৃন্দকে। অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ দেবাশিস বাবুর প্রচেষ্টাকে। সালাম দর্পণকে।
    আমার একটি কবিতা "বিবেকানন্দ" স্থান পেয়েছে জেনে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ রইলাম দর্পণের দরবারে।

    শুভরাত্রি।
    অমল কুমার ব্যানার্জী

    উত্তরমুছুন
  2. এক অজানা তথ্য উন্মোচিত হল। এরকম বহু তথ্য বিবেকানন্দ সম্পর্কে রয়েছে। বহু অলৌকিক ঘটনা বিবেকানন্দের জীবনের সাথে জড়িয়ে আছে, শংকরের লেখায় বার বার উঠে এসেছে।
    খুব ভালো লাগলো লেখাটা। ছোট্ট অথচ তথ্য পূর্ণ।

    উত্তরমুছুন