পোস্ট বার দেখা হয়েছে
বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ ভারত ভিত্তিক সংগঠন হলেও এটি এখন আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। বাংলাদেশেও আছে এর ব্যাপক কাজ। সুতরাং দর্পণ এখন সবার কাছে বিষ্ময়। তাই দর্পণকে নিয়ে নানান অলোচনা চতুর্দিকে। সম্প্রতি দর্পণকে ঘিরে বেশ কিছু প্রশ্নোত্তরে মঙ্গল মিদ্যা , অতিথি এ কে আজাদ
________________________

১. প্র: বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণের সাথে পরিচয় কি করে?
এ কে আজাদ:
প্রথমেই ধন্যবাদ জানাই প্রিয় Mangal Middya ভাই চমৎকার কিছু প্রশ্নমালা নিয়ে আমার মুখোমুখী হবার জন্য।
ব্যক্তিগতভাবে আমি একজন সাহিত্যপ্রেমী মানুষ বলে নিজেকে দাবী করি। ফলে সাহিত্যের বিভিন্ন সংগঠনের সাথে আমি জড়িত। নিজের এলাকাভিত্তিক আমার একটি সংগঠনও অাছে 'বগুড়া লেখক ফোরাম' যার সভাপতি আমি নিজে। ফলে সাহিত্য সংগঠনের প্রতি আমার বিশেষ দুর্বলতা অাছে।
অনলাইন সংগঠন অনেক অাছে। কিন্তু সেগুলোর লেখকদের লেখা পড়ে অনেক ক্ষেত্রেই ভাল লাগেনি। দু'একজনের সাথে যোগাযোগ হলেও তাদের ভেতরে কেমন যেন একটা মেকীভাব চেখে পড়েছে আমার। লেখার চাইতে ঢং বেশী। ফলে ওই সংগঠনগুলোর সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠেনি। বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ ঠিক তার উল্টো মনে হয়েছে। সেখান থেকেই দর্পণে লেখা শুরু। দর্পণের প্রেমে আটকে আছি আজও।
২. প্রঃ) আচ্ছা, আপনারা চাইলে দর্পণ থেকে বাইরে বেরিয়ে নিজস্ব কোন ফেসবুক গ্রুপ বা পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন। কিন্তু সেটা না করে বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ (বাংলাদেশ শাখা) কেনো ?
এ কে আজাদ:
চমৎকার প্রশ্ন করেছেন প্রিয় Mangal Middya ভাই। দেখুন -আগেই বলেছি আমার নিজের সাহিত্য সংগঠন অাছে, কিন্তু অনলাইন গ্রুপ বা ফেসবুক গ্রুপ নেই। এখন প্রশ্ন হলো নিজস্ব গ্রুপ তৈরি করছি না কেন?
প্রথমত: সে রকম অনলাইন ভিত্তিক সংগঠন তৈরি করার অাগেই দর্পণের সাথে জড়িয়ে পড়ি। এখন দর্পণই আমার নিজের সংগঠন। এর বাইরে যাবার প্রয়োজন নেই।
দ্বিতীয়ত: আমি একজন লেখক হিসেবে কি চাই? হ্যাঁ একজন দায়ীত্বশীল লেখক হিসেবে সমাজ ও সংসারের সংস্কারই আমারই উদ্দেশ্য। সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে জেঁকে বসা কুসংস্কার, অনাচার দূর করার জন্য যে বুদ্ধিবৃত্তিক আলো সমাজে ছড়িয়ে দেয়া দরকার, সেটা লেখালেখির দ্বারা এবং সাহিত্যের মত নান্দনিক মাধ্যমে অতি সহজেই করা সম্ভব যা মানুষের কাছে অনায়াসে গ্রহণীয়ও বটে। বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ সে কাজটাই করে যাচ্ছে।
তৃতীয়ত: মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করা একজন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে মনে করি। সে ক্ষেত্রে বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছে। ভারত ও বাংলাদেশের কবি সাহিত্যিকদের চমৎকার মেলবন্ধনে যৌথভাবে দর্পণের সদস্যবৃন্দ স্বতস্ফুর্ত সমাজসেবার কাজও করে চলেছেন।
সুতরাং দর্পণকে বাদ দিয়ে অন্য কোথাও যাবার তো দরকার নেই। কেননা একজন বিবেকবান মানুষের মত আমার নিজের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই তো দর্পণ কাজ করে চলেছে। যতদিন দর্পণ নিরহংকারভাবে সাহিত্য সাধনায় ব্রত থাকবে, মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করবে, ততদিন দর্পণের জন্য জানপ্রাণ দিয়ে অবশ্যই কাজ করে যাবো, অালাদা সংগঠন করার দরকার নেই বলেই মনে করি।
৩. প্রঃ) আচ্ছা দর্পণ ভারত শাখার পরিচালন সদস্যদের থেকে কেমন সাড়া বা সাহায্য পান ?
এ কে আজাদ:
দেখুন দর্পণের জন্ম ভারতে। এটাই একটা বড় সাড়া যে দর্পণের ভারত শাখার পরিচালন সদস্যরা এমন সুন্দর একটি অনলাইন গ্রুপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। তদুপরি সাহিত্য সাধানায় ভারতের পরিচালকবৃন্দ নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। একটা সাহিত্য সংগঠনের সব থেকে বড় কাজ হলো প্রকাশনা। সে কাজ খুব দারুনভাবে করতে সক্ষ হয়েছেন তারা। এমনকি বাংলাদেশ শাখাতেও তাদের পরিকল্পনা, লেখা সম্পাদনা, ফান্ড তৈরি ও মানসিক সাহস সহ সব ধরনের সহযোগিতা আমরা পেয়ে আসছি। ফলে দর্পণের প্রায় ৪০০ পৃষ্ঠার সংকলন "কলম চলবে ২য় খণ্ড" এবং প্রায় ১০০ পৃষ্ঠার অণু কবিতা সংকলন "সাধের খাতা" আমরা বাংলাদেশ থেকে সফলভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছি ।
শীতকালে শীতার্ত মানুষের পাশে শীতবস্ত্র নিয়ে দাঁড়াতে পেরেছি, মুসলমানদের ঈদের সময় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে গরীব মানুষের মুখে একমুঠো খাবার দিতে পেরেছি।
সভাপতি দেবাশীষ দা, ভারত শাখার সহ সম্পাদক জয়তী দাস, দেবলীনা চক্রবর্তীসহ ভারত শাখার পরিচালকদের অক্লান্ত শ্রমে দর্পণ আজ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে আসতে পেরেছে। ব্যক্তিগতভাবে তাদের সকলের প্রতি জানাই বিশেষ কৃতজ্ঞতা।
৪. প্রশ্নঃ) "বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ- এটা মূলত ভারতীয় ফেসবুক গ্রুপ বা পত্রিকা " এই নিয়ে সমালোচকদের মুখে পড়েছেন কখনো ?
এ কে আজাদ:
দেখুন- কবিতা, গান, শিশু সাহিত্য ও প্রবন্ধ মিলিয়ে আমার নিজস্ব প্রকাশনার সংখ্যা প্রায় ২০ এর অধিক। এতদিনে আমি যেটুকু বুঝেছি তা হলো যে, একজন লেখকের কোন দেশ নেই, কোন জাত নেই, কোন ধর্ম নেই, নেই কোন সীমানার বাঁধন। তিনি বিশ্বনাগরিক। তিনি সকল দেশের, সকল মানুষের। তিনি সকল অন্যায়-অত্যাচার ও অনাচার বিরোধী, তিনি পশুত্ববিরোধী, তিনি কেবলই মানবতাবাদী। মানবতাই তার বড় পরিচয়। তবে হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে, যে সমাজে একজন লেখক বেড়ে ওঠেন, সে সমাজের সংস্কৃতিকে ধারণ করেই তিনি সমাজে বসবাস করেন, কিন্তু মানুষ ও মানবতার জন্য তিনি নিবেদিত। এখানে দেশের পরিচয়ের চাইতে মানুষ ও মানবতার পরিচয়ই তার কাছে সব থেকে বড়।
আমেরিকার জাতীয় কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান তার Song of myself কবিতায় লিখেছেন-
I don't ask the wounded person
how he feels,
I myself become wounded.
(কোন আহত মানুষকে আমি জিজ্ঞাসা করি না -
কেমন কষ্ট তার,
(বরং) আমি নিজেই হয়ে যাই আহত।)
পৃথিবীর যে প্রান্তেই মানবতা লঙ্ঘিত হোক না কেন, সে অাঘাত কবিকেই লাগে। সুতরাং তার কাছে ভারত, বাংলাদেশ বা অন্য কোন দেশ নেই।
যে দেশেই প্রতিষ্ঠা হোক, যে দেশেরই গ্রুপ বা সংগঠন হোক, মানুষ ও মানবতার পক্ষে যারা, একজন প্রকৃত বিবেকবান কবি তাদরেই পক্ষে। সুতরাং কারও সমালোচনায় কিছু যায় আসে না।
তবে সে রকম কোন সমালোচনার মুখে এখনও পড়িনি।
৫. প্রঃ) দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক দেবাশীষ দাদার সম্পর্কে কি বলবেন ?
এ কে আজাদ:
বঙ্গীয় সাহিত্য দর্পণ এর সভাপতি এবং দর্পণ পত্রিকার সম্পাদক দেবাশীষ দাদা সম্বন্ধে কি বলব ইতিমধ্যেই তা বুঝতে পেরে গেছেন আশা করি। অসম্ভব শ্রম, মেধা ও মনন দিয়ে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন দর্পণকে। দর্পণই তার কাছে সব। অনেক মানুষই এমন শ্রমসাধ্য কাজ করতে সাহস পান না। সাহিত্য ও সমাজ সেবাই তার বড় পরিচয়। তার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা জানাই।
তার পাশে আছি সব সময় সাহিত্য সাধনা আর সমাজসেবা নিয়ে মানুষ ও মানবতার কল্যাণে।
2 মন্তব্যসমূহ
উত্তরমুছুনঅসাধারণ আলোচনা
নূতন ভাবনায় নতুনত্বে সমৃৃৃদ্ধ হলাম
এগিয়ে চলুক পরের পর্বে.....
উত্তরমুছুনঅসাধারণ আলোচনা
নূতন ভাবনায় নতুনত্বে সমৃৃৃদ্ধ হলাম
এগিয়ে চলুক পরের পর্বে.....