নিবন্ধ | তন্ময় রাণা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে


অধ্যাত্বিকতা ও বিজ্ঞান  
তন্ময় রাণা


বিজ্ঞান যখন মানব সভ্যতার অগ্রগতির জন্য প্রতিনিয়ত প্রগতির ধারক হয়ে 
অশ্বমেধ ঘোড়ার মতো ছুটে চলেছে l 
আধ্যাত্বিকতা সেখানে যুগযুগান্তর ধরে,
তার নিজের সহযাত মহিমায় মানব জীবনকে,তার জীবনের পরম সত্য'যে  
কি তা উপলব্ধি করিয়ে এসেছে l
অধ্যাত্বিকতাও মূলত একটি বিজ্ঞান বা বলা যেতে পারে মনন বিজ্ঞান l
ভারতবর্ষের  ইতিহাস থেকে যুগে যুগে 
বহু মুনিঋষির কথা কথা জানা যায় 
যারা আধ্যাত্মিক শক্তিকে উপলব্ধি করে 
বিশেষ ক্ষমতা অর্জন করে প্রসিদ্ধ লাভ করেছিলেনl
তাই ভারতবর্ষের আধ্যাত্বিক ইতিহাস আজ সারা বিশ্বে পূজিত হয় l
সহজ কথায় অধ্যাত্বিকতা বলতে বলা যেতে পারে যে,আমাদের পঞ্চ ইদ্রিয়র 
অনুভূতি ছাড়া আরো বিশেষ কিছু  অনুভূতি বা বিশেষ কিছু শক্তি যা খালি চোখে দেখা যায়না,শুধু একাগ্রতা ও সাধনার মাধ্যমে তাকে অর্জন করতে হয়l 
যা আমাদের মনের চেতনা কে জাগ্রত করে আমার ভিতরের আমি'কে চিনতে, বা মন কে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে l
যারা এই উপলব্ধি করতে পেরেছেন তারা বিশ্ব সমাজে উজ্জ্বল জোতিষ্ক রূপে চির অমর হয়ে রয়ে গেছেন l
তারা আমির অহংকার থেকে মুক্ত হয়ে আত্মা কে উপলব্ধি করে নিজের মনকে  নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছেন l
উদাহরণ সরূপ মহাপুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের কথা অত্যন্ত উল্লেখ যোগ্য,যিনি শরীর ও আত্মার জন্ম মৃত্যর কথা খুব সহজ কথায় বলে গিয়েছেন যে 
আত্মা অবিনেশ্বর সে শুধু আমাদের জামাকাপড় বদলানোর মতো মৃত্যুর 
পর শুধুই শরীর বদলায়l তাই এই "আমির "অহং থেকে মানুষ কে বারবার বেরিয়ে আসতে বলে গেছেন l
কঠিন একাগ্র সাধনার দারা একে 
নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে যেমন টা 
তিনি পেরেছিলেন l
নিজের শরীর এক স্থানে রেখে  বিভিন্ন সময়ে তার প্রিয় স্বামীজী ও অন্যান্য ভক্তরা দিকভ্রান্ত হলে তাদের  কাছে 
পৌঁছে সঠিক পথ দেখিয়ে এসেছিলেনl
একমাত্র কঠোর সাধনার দারা এমনটা সম্ভব হয় l
এটা অনেকটা সুন্দর ফুলের বাগান পরিচর্যা করার মতন নিয়মিত পরিচর্যার ফলে যেমন সুন্দর ফুল ফুটে বাগান সুন্দর হয়ে প্রাকৃতিক শোভা বৃদ্ধি করে আর পরিচর্যার অভাব হলেই যেমন বাগান আগাছায় ভরে যায় তেমনি কঠিন সাধনার দারা আত্মাকে উপলব্ধি করা বা মনকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় l
আর তা না করলেই মনের মাঝে যত মোহ মায়া কামনা বাসনা নামক আগাছায় ভরে যায় l
এই সাধনাকেই অধ্যাত্বিকতা বলা যেতে পারে যারা এই সাধনাকে আমরা আধ্যাত্বিক বলে থাকি l
এই উপলব্ধি একবার হলে তখন মানুষের মোহো মায়া কামিনী কাঞ্চন পিছনে ছুটে যে কিঞ্চিৎ ক্ষণস্থায়ী সুখের অনুভব হয়  তা সেই উপলব্ধির কাছে নিতান্তই সামান্য বলে মনে হয় lতখন তারা মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে সফল হন l
তবে আজ কালকার দিনে বহু অসাধু মানুষ বিভিন্ন জায়গায় এই আধ্যাতিকতার নামে ব্যবসা ফেঁদে বসেছেl
প্রকৃত আধ্যাতিকতার মতন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও কঠিন সাধনার প্রয়োজন হয় 
যার সাহায্যে মানুষ একের পর এক আবিষ্কার করে চলেছে l পৌঁছেছে আজ উন্নতির চরম শিখরে l
তবে কখনো কখনো এই বিজ্ঞান আজ যেন মানুষের জীবনে অভিশাপ হয়ে 
ঝরে পড়েছে আর তার ফল স্বরূপ 
এখন চারিদিকে শুধুই যুদ্ধ যুদ্ধ রব !
মানুষই বিজ্ঞানের সাহায্যে আজ হয়ে উঠেছে মানুষ মারার কারবারি l 
বর্মানে যে মহামারি আমাদের তারা করে বেড়াচ্ছে যার কবলে ঝরে পড়েছে লক্ষ্য লক্ষ্য প্রাণ তার নেপথ্যেও রয়েছে সেই বিজ্ঞান l  
তাই বিজ্ঞান ও অধ্যাত্বিকতা এই'দুইয়ের মাঝে সব সময় একটা সঠিক মেল বন্ধন ভীষণ ভাবে দরকার l
নাহলে আগামী দিনে উন্নতির সাথে সাথে আমাদের জীবনে আরও এমন আরও অভিশাপ নেমে এসে সব ধ্বংস করে 
দিয়ে যাবে l

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ