পোস্ট বার দেখা হয়েছে
🌼 মুখোমুখি
বিশিষ্ট সাহিত্যিক সুকুমার রুজ-এর সাক্ষাৎকার
গ্রহণে ও অনুলিখনে - দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য এবং দেবলীনা চক্রবর্তী
_________________________________
দেবাশীষ -- সুকুমারদা', আপনার সাহিত্য জগতে প্রত্যাবর্তন সম্পর্কে জানতে চাই। কীভাবে আপনি সাহিত্য জগতে এলেন এবং বিশেষ কোন ঘটনা যদি থাকে?
সুকুমার রুজ -- হ্যাঁ, 'সাহিত্য জগতে প্রত্যাবর্তন' কথাটা আক্ষরিক অর্থে ঠিকই বলেছ। কেননা, স্কুল-জীবনে ও কলেজ-জীবনে কিছু কবিতা ও গল্প লিখলেও, পরে চাকরি-জীবনে প্রবেশ করে লেখালেখি চালিয়ে যাইনি। বরং নাটকের অভিনয়ে বেশি-বেশি যুক্ত হয়ে পড়েছিলাম। কলকাতায় চাকরি করাকালীন 'থিয়ে ক্যাল' নামের একটা নাটকের গ্রুপে যোগ দিয়েছিলাম। বছর পাঁচেক অভিনয় শেখা ও অভিনয় করার পর, পেশাদারী মঞ্চে বছর দুয়েক অভিনয় করেছিলাম। তখন লেখালেখি থেকে সত্যিই দূরে চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন সাহিত্য পড়াটা জারি ছিল।
দেবাশীষ -- আবার সাহিত্য-জগতে ফিরে আসার ক্ষেত্রে বিশেষ কোন ঘটনা ছিল কি?
সুকুমার রুজ -- বিশেষ ঘটনার কথা তুমি হয়তো না জেনেই জিজ্ঞাসা করেছো। কিন্তু সত্যিই একটা বিশেষ ঘটনা আমাকে আবার সাহিত্য জগতে ফিরিয়ে আনে। সংক্ষেপে বলি, কলকাতায় রাজ্য পরিবহন বিভাগে চাকরি পাওয়ার পর আমি থাকতাম, বেলেঘাটার একটা মেসবাড়িতে। সেখানে থাকাকালীন একসময় আমি পেশাদারি মঞ্চে চুটিয়ে অভিনয় করছি। এমন সময়ে একজন অবসরপ্রাপ্ত মানুষ আমার পাশের ঘরে থাকা শুরু করলেন। তিনি গান ও ছড়া লিখতেন। আর আমি পাশের ঘরে তারস্বরে নাটকের ডায়লগ মুখস্ত করতাম। তাঁর খুবই অসুবিধা হতো। তিনি প্রায়শই আমাকে বলতেন ওসব নাটক-ফাটক ছেড়ে দিতে। বলতেন, 'তার চেয়ে ভালো কবিতা লেখা।' আমার সে ক্ষমতা নেই বলেই নাকি আমি 'লাটক গাইতে' যাই।
তাঁর এই কথার খোঁচা,সেইসঙ্গে চাকরি করাকালীন পেশাদারী মঞ্চে অভিনয় করার অসুবিধা এবং আমার নাটকের অভিনয় করাতে বাবা-মায়ের অসমর্থন আমাকে পুনরায় লেখাই ফিরিয়ে আনে।
দেবাশীষ -- বাঃ! দারুন ব্যাপার! আচ্ছা, আপনার 'রাই কিশোরী সিরিজ' তো দর্পণ ব্লগ এবং অন্যত্র বিপুল সাড়া ফেলেছে। রাইকিশোরী সিরিজের মাহাত্ম্য আপনার কাছে কতোটা ?
সুকুমার রুজ -- 'রাই কিশোরী সিরিজ' আমার লেখা অন্যতম একটা কবিতা সিরিজ, আমার খুব ভালো লাগা সিরিজ। এটা ফরমায়েসী লেখা নয়। ভেতরের তাগিদ থেকে বেরিয়ে আসা কিছু বোধ ও ভাবনা এই কবিতাগুলোতে এসেছে। বাহ্যিকভাবে রাই ও কৃষ্ণের কথা এখানে থাকলেও আমি এখানে বলতে চেয়েছি নারী ও পুরুষের সম্পর্কের কথা। তার অভ্যন্তরীণ ব্যঞ্জনা ও দর্শনের কথা। বর্তমানে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের সম্পর্ক মানেই শরীরী সম্পর্ক কিংবা কাম চরিতার্থ করার সম্পর্ক। যেটা আমাকে খুব ব্যথিত করে। এই দেহজ সম্পর্ককে অতিক্রম করে আত্মিক সম্পর্কে উত্তরণ ঘটানো, যা মানব-কল্যাণে সহায়ক হবে। সেই জায়গায় মানুষের মনন-মানসিকতাকে আমি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি এই কবিতাগুলোর মাধ্যমে। রাই এখানে নারী সমাজের প্রতিভূ এবং নওলকিশোর পুরুষ সমাজের প্রতিভু।
এই সিরিজের কয়েকটা পঙক্তি আমি বলছি। তাহলে যা বলতে চাইছি তা স্পষ্ট হবে। যেমন ধরো, 'বিরহ' কবিতায় নওল কিশোর বলছেন --
শারীরিক প্রেমে আর কাজ নেই রাই
মানব-প্রেমের কাজে ব্যস্ত কানাই।
মানুষের দুখ্-জ্বালা বেদন-কথা
শুনে মনে যন্ত্রণা, হৃদয়-ব্যথা।
তাই হাতে বাঁশি নয়, চক্রধারণ
বেশি দরকারি যে অশুভ নিবারণ।
জানি বিরহেতে তুমি বেদনা-আকুল
একাকি কুড়োবো আমি আলোময় ফুল!
তোমাকেও নেবো সাথে হৃদয়-মাঝে
চলো প্রেম বিলোবে মানব-কাজে।
কিংবা 'প্রেম-পারাবার' শিরোনামের কবিতায় --
..............
বিশ্বপ্রেম শিখে নাও নওলের কাছে,
এ ধরায় এর চেয়ে বড় কিবা আছে!
...............
অথবা 'হৃদয় শুশ্রূষা' কবিতায় --
এই রক্তাক্ত ফাগুনে কামনার পথ ঘুরে,
রোমাঞ্চিত প্রস্তুতি নিয়ে ত্রিকোণ-আহ্বানে
শরীরী আগুনে নিঃশেষে না পুড়ে,
সবকিছু উপেক্ষা করে, হৃদয়ের আনন্দগানে
স্বচ্ছতোয়া নদীটির মত নিঝুম প্রণয়ের নাম প্রেম।
......................
আবার দেখো, 'প্রেমগান গাও' কবিতার শেষ দুটো লাইন --
...................
তাই বলি ওগো কমলিনী রাই ইচ্ছের মালা পাল্টাও
নওলকে তুমি কন্ঠে জড়িয়ে নতুন প্রেমের গান গাও।
যদি 'গড়বো স্বর্গ' কবিতার শেষ লাইন তিনটে বলি --
...............................
প্রশমিত ক'রে রিপুর ঝড় গো
আমরা দু'জন গড়বো স্বর্গ
প্রত্যেক নিশিদিনতে।
তাহলে দেখো, এই সিরিজের কবিতাগুলোর মধ্যে দিয়ে আমি অন্য এক দর্শনের কথা বলতে চেয়েছি। আর আমার সেই ভাবনার কথা 'দর্পণ ব্লগজিন' পাঠকের কাছে সাদরে পৌঁছে দিয়েছে এবং পাঠকের মনেও রেখাপাত করতে সফল হয়েছে। পাঠকের মন্তব্য ও প্রফুল্লতা সে কথাই বলে।
দেবাশীষ -- আচ্ছা সুকুমারদা', আপনার সেরা কবি - লেখক - বা গল্পকারের নাম জানতে ইচ্ছে করছে।
সুকুমার রুজ -- দেখো ভাই, সেরা কবি বা গল্পকার বলে বস্তুত কিছু হয় না। ভালো কবিতা বা ভালো গল্প হতে পারে। কেননা, অনেক প্রথিতযশা কবির কলম থেকে অনেক সময় বাজে কবিতা বেরোয়। আবার অনেক অনামি সাধারণ কবির কলম থেকেও অনেক ভালো কবিতা-গল্প বেরিয়ে আসে।
সুতরাং লেখাটাই বিচার্য, কবি বা লেখক নয়। তবুও বেশিরভাগ লেখাই ভালো লিখেছেন, এমন কবি বা লেখকের নাম বলা যেতেই পারে। আমার এখন অবধি পড়া কবির মধ্যে মহাকবি কালিদাস আমার কাছে সেরা কবি এবং দ্বৈপায়ন বেদব্যাস আমার কাছে সেরা গল্পকার।
দেবাশীষ -- আমরা প্রায়শই ধর্ম বা ধার্মিকতার সাথে আধ্যাত্মিকতাকে জড়িয়ে ফেলি, কিন্তু আদতে দুটি তো আলাদা বোধ ... আপনার মতে এই আধ্যাত্মিকতা কী ?
সুকুমার রুজ -- দেখো ভাই দেবাশীষ, ধর্ম বলতে বোঝায়, যা সমস্ত কিছুকে ধারণ করে আছে এবং যাকে অবলম্বন করে সমষ্টিগতভাবে সুষ্ঠুভাবে বাঁচা যায়। ধর্ম ব্যক্তি-জীবন ও সামাজিক-জীবনকে সুন্দর ও পবিত্র করে। সুবিধাবাদী ব্যক্তি দ্বারা সৃষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করাকে কিংবা ঈশ্বর আছে, এটা প্রমাণ ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অহেতুক কিছু তর্কাতর্কি করাকে ধর্ম বলে না। যাকে ছাড়া নিজের অস্তিত্ব থাকে না, অর্থাৎ প্রাণ, তাকে উপলব্ধি করতে হবে। অর্থাৎ প্রাণের যে স্থূল রূপ হল শ্বাস-প্রশ্বাস, তাকে অবলম্বন করে বা লক্ষ্য করে এর গভীরে বা উৎসমূলে যেতে হবে। প্রাণের আধার তথা আত্মাকে জানলেই হয় প্রকৃত ধর্ম। এ হলো বেদ-উপনিষদ-এর কথা। আমাদের ঘরের ছেলে স্বামী বিবেকানন্দ ধর্ম সম্পর্কে কী বলেছেন শোনা যাক। তিনি বলেছেন-- 'রিলিজিয়ান ইজ রিয়ালাইজেশন'। অর্থাৎ ধর্ম হল বোধ, পূর্ণতার বা অখণ্ডের বোধই হলো ধর্ম। ধর্ম যদি সত্য ও অখণ্ড হয়, তাহলে ধর্ম অবলম্বন করে মানুষের প্রকৃত কল্যাণ, মনুষ্য-সমাজে শান্তি ও প্রতিটা মানুষের আনন্দ হওয়া উচিত। কিন্তু তা না হয়ে ধর্মকে নিয়ে মানুষের মধ্যে যদি হিংসা-দ্বেষ মারামারি-হানাহানি ইত্যাদির সৃষ্টি হয়, তাহলে সেটা ধর্ম হতেই পারে না। যারা অজ্ঞানতা ও অবিদ্যাবশত নিজও নিজও তথাকথিত ধর্মগ্রন্থ-পাঠ ও ইষ্টনাম জপ করে ঈশ্বরলাভ করতে আগ্রহী হয় এবং তাদের ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থ শ্রেষ্ঠ এইরূপ প্রচার করতে থাকে, তারা মোটেও ধর্মবুদ্ধি-সম্পন্ন কিংবা প্রকৃত অর্থে ধার্মিক নয়। জীবনে বা বাস্তবে ধর্ম পালন করতে গেলে এমনভাবে জীবন যাপন করতে হবে, যাতে নিজের বাঁচা ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অপরের তথা সমষ্টির বাঁচা ও বৃদ্ধির কোনোরূপ বিঘ্ন সৃষ্টি না হয়। 'নিজে বাঁচো এবং অপরকে বাঁচতে সাহায্য করো', এটাই হল জীবন ধর্ম বা প্রকৃত ধর্ম। যারা এই ভাবে জীবন যাপন করেন তারাই প্রকৃত ধার্মিক।
আর আধ্যাত্মিকতা হলো মানুষের দৃষ্টিকোণকে বিচ্ছিন্নতা বিভিন্নতা ও সঙ্কীর্ণতা থেকে সরিয়ে এনে বিশ্বাত্মা বা পরমাত্মার দর্শন ও অনুভূতির সন্ধান করা। মানুষ যখন তোমার সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করবে, তখনই সমস্ত ক্ষুদ্র সংস্কার সুবিধাবাদী ধর্মাচরণ নিঃশেষ হয়ে যাবে। এটাকেই আমি আধ্যাত্মিকতা বলে মনে করি। এ বিষয়ে উপনিষদের একটা শ্লোক মনে পড়ছে --
তে সর্বগং সর্বত প্রাপ্ত ধারা যুক্তাত্মানং সর্ব সেবা বিশন্তি।
অর্থাৎ ধৈর্যশীল ব্যক্তিগণ সর্বব্যপী সত্তাকে সকল দিশায় প্রাপ্ত করে তাতেই সমাহিত চিত্ত রূপে বিরাজ করেন।
দেবলীনা -- আচ্ছা দাদা, আধ্যাত্মিকতা অর্জনের উপায় কী ? আর বর্তমান পরিস্থিতিতে এর গুরুত্ব কতখানি আপনি মনে করেন ?
সুকুমার রুজ -- আধ্যাত্মিকতা অর্জনের উপায় কিন্তু খুব একটা কঠিন নয়। আমি আগেই বলেছি যে, আত্মা যখন বিশ্বাত্মার অনুভূতি লাভ করে, জীব- চৈতন্য ও বিশ্ব-চৈতন্য যখন একাকার হয়ে যায়, তখনই আধ্যাত্মিকতার উপলব্ধি হয়।
আমাদের স্থূল দৃষ্টিতে আমরা মানুষকে ইন্দ্রিয় যুক্তি স্বার্থ সংস্কার এইসব দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অভ্যস্ত। এই বিচারে আমরা মানুষকে সৎ-অসৎ নিষ্ঠুর-দয়াবান, কুরূপ-সুন্দর ইত্যাদি শ্রেণীবিভাগ করি। এই সংকীর্ণতা থেকে আমরা সহজে বের হতে পারি না। বিচ্ছিন্নতা ও বিভিন্নতার মধ্যে নিজেদেরকে সুরক্ষিত মনে করি। সেই সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য আমরা ধন, যশ, প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার পিছনে দৌড় দিই। মারামারি-কাটাকাটি, ঝগড়াঝাঁটি করি। এতে আমাদের দুঃখ অশান্তি উদ্বেগ এসব বাড়ে।
কিন্তু আমরা যদি নিজের দৃষ্টিকোণকে ওই বিচ্ছিন্নতা, বিভিন্নতা ও সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত করে ফেলতে পারি, তাহলেই তো আধ্যাত্মিকতা অর্জন হয়। এর জন্য জঙ্গলে গিয়ে বা পর্বত-গুহায় গিয়ে তপস্যার প্রয়োজন হয় না। সংকীর্ণ অভ্যাস-জনিত সংস্কার ত্যাগ করে দৃষ্টিকোণের বদল ঘটালেই অনায়াসে আধ্যাত্মিকতা এসে যাবে।
বর্তমানে সারা পৃথিবী জুড়ে একটা আগ্রাসন হিংসা ক্ষমতা প্রদর্শনের বাতাবরণ। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে আধ্যাত্মিকতার গুরুত্ব অপরিসীম।
দেবলীনা -- আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞান কি পরস্পর সম্পৃক্ত? বিজ্ঞানের পরিধিতে কতদূর পর্যন্ত আধ্যাত্মিকতা প্রাসঙ্গিক?
সুকুমার রুজ -- আমার মনে হয় আধ্যাত্মিকতা হল মানবজীবনকে শ্রেষ্ঠতম সদ্ব্যবহার করার বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি। বিজ্ঞান বলতে আমরা বুঝি যে, যে কোনও ছোটখাটো কাজের কিছু নির্দিষ্ট পদ্ধতি বা প্রণালী থাকবে। সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করার পর তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ থাকবে। তারপর একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে বা ফল পাওয়া যাবে।
আধ্যাত্মিকতা মানুষের জীবনকে একটা নির্দিষ্ট পদ্ধতির মধ্যে নিয়ে যায় ও পরিকল্পিত বা অসংলগ্ন ভাবে কাজ করা থেকে বিরত করে। আধ্যাত্মিক ভাবনায় যাকে বলা হয় ব্রহ্মরন্ধ্রে অবস্থিত শতদল পদ্ম, বিজ্ঞান তাকে বলছে মস্তিষ্ক। আধ্যাত্মিক ভাবনা যাকে বলছে সূর্যচক্র, বিজ্ঞান তাকে বলছে হৃদপিণ্ড। তেমনি ব্রহ্মগ্রন্থি হল স্নায়ুকেন্দ্র। ষটচক্র হল স্নায়ুতন্ত্রের প্রধান ছয়টি গ্রন্থি। কুণ্ডলিনী হলো বিজ্ঞানের ভাষায় স্নায়ুতন্ত্র। ইড়া-পিঙ্গলা সুষুম্না কান্ডের মূল স্নায়ুদ্বয়।
আধ্যাত্মিকতার পথে যোগাভ্যাস এর সাহায্যে এদেরকে জাগ্রত করা, যা বিজ্ঞানের ভাষায় হলো মস্তিষ্ক হৃদপিণ্ড স্নায়ুতন্ত্রের উদ্দীপনা বাড়ানো বা সু-সঞ্চালন।
সুতরাং বিজ্ঞানের পদ্ধতি ও আধ্যাত্মিকতার যোগাভ্যাস একই। শুধু নামের তফাৎ। অর্থাৎ আধ্যাত্মিকতা ও বিজ্ঞান পরস্পর সম্পৃক্ত। আধ্যাত্মিকতাবাদে যেটাকে আত্মা বলা হয়, বিজ্ঞান সেটাকে বলছে সুপার এনার্জি বা প্রাণশক্তি। যে এনার্জি বা শক্তিকে বিজ্ঞান এখনও সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পারেনি। বিশ্লেষণ করতে পারেনি। দেহ যন্ত্রের মতো জড় বস্তু। আত্মা অর্থাৎ ওই মহাশক্তি দেহকে সচল রেখেছে। যার নাম জীবন। যেমন বিদ্যুৎ শক্তি সচল রাখে যন্ত্রকে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেই যন্ত্র স্তব্ধ। তেমনি আত্মা শক্তি বেরিয়ে গেলেই জীবন স্তব্ধ, অর্থাৎ মৃত্যু।
তুমি বললে, বিজ্ঞানের পরিধিতে কতদূর পর্যন্ত আধ্যাত্মিকতা প্রাসঙ্গিক? আমি বলব,আধ্যাত্মিকতার পরিধিতে বিজ্ঞান কতখানি প্রাসঙ্গিক হতে পেরেছে? আধ্যাত্মিকতার বিস্তার ও ফলাফল যতখানি, বিজ্ঞান ততদূর অবধি এখনও পৌঁছতে পারেনি। যতটা আবিষ্কার করতে পেরেছে সেটাকেই বিজ্ঞান বলা হচ্ছে। যা বাকি আছে তাকেই আধ্যাত্মিকতা বলা হচ্ছে আসলে আধ্যাত্মিকতার মধ্যেই বিজ্ঞান নিহিত আছে।







3 মন্তব্যসমূহ
উত্তরমুছুনজীব চৈতন্য ও বিশ্ব চৈতন্যের একাকার
অসাধারণ উপলব্দি
সমৃৃৃৃৃদ্ধ হলাম
উপলব্ধি
মুছুনহৃদয় গ্রাহী,সমৃদ্ধ হলাম
উত্তরমুছুন