পোস্ট বার দেখা হয়েছে
একটি কবিতার জন্য
ড. রাখীবৃতা বিশ্বাস
পরিবর্তে ভালোবাসা পাওয়ার
প্রত্যাশাকে সহস্র যোজন
সরিয়ে রেখেই ভালোবাসি...
নিজের মতো করে,
না হলে যে আর
ভালোবাসাই হবে না!
আনকোরা কবিতাগুলির
প্রতিটি ছত্র
কেউ পড়বে না তা জেনেও
মনের তাগিদে কবিতাকে আঁকি...
আমার মতো করে,
না হলে যে আর
কবিতাকে ছোঁয়াই হবে না!
বর্ণ,মাত্রা, ছন্দেরা ম্রিয়মান
গুরুচন্ডালী, ভুল উপমার স্থান,
সন্ধি সমাসে অনবধানে
গতি যদি হয় শ্লথ, অনুন্নত,
সে হোক...!
তোমাদের জন্য
না হয় তোলা থাক
সব নিয়ম কানুন,
অক্ষরবৃত্ত আর
ব্যাকরণের ব্রজবুলি।
আমার আবেগে
ঠাঁই পাক ঈশ্বর!
কলমের সচলতায়
প্রাণ পাক ভাষাগুলি।
প্রতিটি প্রয়াসের
একনিষ্ঠ স্রোতে
ভেসে ওঠা কবিতার
সব কয়টি উপজীব্যই
আসলে লুব্ধকের মতো সত্যি!
আমার লক্ষ কবিতারা
কাফকার একটি মাত্র লাইনের
মতো সুগভীর
নাই বা হল!
তবু ও লিখে যাব
নিরর্থক অকারণ! কারণ
অনুভবের আঁখরে লেখা এই
কবিতা কখনো মিথ্যা বলে না...
====
অহমিকার উল্লাস
পিন্টু বেতাল
আমরা কেমন নির্বোধ!
কতটা ক্রুর আমাদের ঔদ্ধত্য!
সেটাও আবার ঘটা করে, আড়ম্বরপূর্ণ জাঁকজমকের মাধ্যমে আমাকে লিখে রেখে যেতে
হচ্ছে, সভ্যতার বুকে!
কে ভুলবে, আমার বীরত্ব?
ধন্য আমার মনুষ্যত্ব!
যখন অগুণিত মানুষ ভয়ার্ত মহামারীর করাল গ্রাসে ভীত সন্ত্রস্ত, বিধ্বস্ত!
যখন অর্থনীতির ভেঙেপড়া ধ্বজায় অভুক্ত, কর্মহীন মানুষ, নির্মম অবসাদে বিভীষিকা
গ্রস্ত!
তখনই আমার লোলুপ ধর্মের সোপিয়ানটা, উচ্চশীরে উদ্বেলিত হাওয়ার ঘৃণ্য নেশাটায়,
স্বর্ণাক্ষরে লিখে রেখে, আমি প্রমাণ করে দিলাম, আমার দাম্ভিক স্বত্তাটা,
সত্যিই তারিফ যোগ্য!
আমি আবার বিশ্বমন্দায় জর্জরিত,পীড়িত!
অথচ আমার জৌলুসে কিন্তু খামতি রাখিনি কিছুই!
অবলীলায় উড়িয়ে দিয়েছি কোটি কোটি মানুষের দু-মুঠো আহারের উৎসটাকে,
তাদের স্বপ্নচোখের কর্মপ্রাপ্তির অদম্য ইচ্ছেটাকে,
অনায়াসে নিঃশেষিত করেছি, তাদের রুগ্ন প্রাণের শেষ আশা ভরসাটাকে।
আমার কিন্তু একটুও বাধেনি বিবেকে!
অবশ্য থাকলে তবেই তো বাধবে!
আমি তো মহান! ওই বিবেকটাকেই তো নিলামে চড়িয়ে লক্ষ্যকোটির দরদী দানছত্রটা
তুলে দিয়েছি অসহায় মানুষগুলোর হাতে!
সে হোক না যতই পুঁজিপাতেদের চকমকি চোখের স্ফূর্তি, তাতে কিছু তো ভিক্ষের
সামগ্রী আছে! ওই অর্ধমৃত পরিযায়ী মানুষগুলোর ভাগে।
এটাই বা কে করে?
তাই আমাকে তো সম্মান পেতেই হবে!
আবার সেটা যদি বিশ্বের কোণা কোণা থেকে আকাশ পথে উড়ে আসে! তবে তো আমার মহীমা
অস্বীকার করবে, এমন কে আছে?
অতএব, ওই আধমরা মানুষগুলোর পাংশু মুখের অন্ধকারটা আমার কাছে আজ বেমানান, আমার
ওই প্রজ্জ্বলিত প্রদীপের উদ্ভাসিত নকল আলোর রোশনাই-এর কাছে।
সত্যিই আজ আমি সার্থক! আগামী প্রজন্মের জন্য, কিছু করে তো, রেখে যেতে পারলাম!
যতটুকু প্রাণশক্তি অবশিষ্ট থাকবে ওদের মধ্যে,
ওরা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করবে, সূ-উচ্চ প্রতিকৃতির কালো ছায়াটাকে!
জন্মাবধি ঋণগ্রস্ত উদ্বিগ্ন ভবিষ্যৎটাকে!
আর, ওদের রুগ্ন শরীরটা তো, ওই উচ্চশীর উদ্বেলিত ধ্বজার সুসজ্জিত গর্ভগৃহে পরম
নিশ্চিন্তে পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটাতে পারবে!
বাকি অনাহার, অনাচার, হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, লালসা, ঘৃণা তো! ওদের ত্রিসীমানা
ছেড়ে যেতেই পারবে না।
কে করে এতকিছু, ঘরের খেয়ে পরের উন্নতিসাধনের জন্য?
এর জন্য আমার কৃতজ্ঞতা প্রাপ্তি আবশ্যিক!
ইতিহাসের পাতায় আমি আজ, নামটা লিপিবদ্ধ করে যেতে চাই, এতে আর এমন কি চাইলাম?
এ তো আমার মহানুভবতার পরিচয় মাত্র!
তাই, অসহায়, ঈর্ষাকাতর, সমাজের যত এঁদোগলির অচ্যুত উদ্বাস্তুর দল--- চিরকাল
আমাকে দেবতা জ্ঞানে শুধু মাথায় তুলে রেখো!
ভুল করেও কিন্তু মাটিতে আছড়ে ফেলো না যেন!
যাওবা পৃথিবীর আলোটুকু দেখতে পাচ্ছো! তাহলে সেটাও আর দেখা হবে না, আমার চরম
অভিশাপে!
মনে থাকে যেন কথাটা!
এখন শুধুই, তোমরা মেতে থাকো, অহমিকার উল্লাসে!
প্রাণ খুলে করে যাও জয়ধ্বনি!
জয়, উন্নত সভ্যতার জয়!
জয়, সর্বেসর্বা বিধাতার জয়!
সর্বোপরি, ব্যর্থ সমাজতন্ত্রের জয়!
জয়, ঘৃণ্য মনুষ্যত্বের জয়!
জয়, জঘন্য প্রবৃত্তির জয়!!!

1 মন্তব্যসমূহ
দুটি কবিতাই ভীষণ ভালো লাগলো
উত্তরমুছুন