পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কিছু ভাবনা কিছু প্রশ্ন !
ভাবনা ও উপস্থাপনা : দেবলীনা
বর্তমান সমাজের অবক্ষয় আর স্বার্থসিদ্ধির ইঁদুর দৌড় দেখতে দেখতে হয়ত আমরা ক্লান্ত কিন্তু এই পরিস্থিতি থেকে নিজেদের উদ্ধার করার কতটুকু সফল উদ্দ্যোগ আমারা নিয়ে থাকি !
উনবিংশত শতাব্দীতে যখন সমাজে অরাজকতা , অস্থিরতা , অবক্ষয় ঘিরে ধরেছিল তখন সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে নবজাগরণ হয়েছিল , তার পিছনে যাঁদের অবদান ছিল তাঁরা যদি শুধু নিজের স্বার্থসিদ্ধি আর আত্মপ্রচারে মগ্ন থাকতেন তাহলে কি সম্ভব হতো বাংলা তথা ভারতের গৌরবজ্জ্বল
অধ্যায়ের সূচনা !
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে বলেছিলেন — তিনি হিন্দু ছিলেন না , বাঙ্গালী ছিলেন না , ছিলেন ‘মানুষ’। এই মন্তব্যের তাৎপর্য সত্যি গভীর ।
তিনি মানুষের জন্য , সমাজের জন্য , দুঃস্থ - আর্তের সেবা - সাহায্যের জন্য , কুসংস্কার - গোঁড়ামি - ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করে গেছেন । চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেও তিনি তাঁর সেবাব্রত থেকে সরে দাঁড়ান নি ।
শিক্ষাক্ষেত্রে তিনি ধর্মকে স্থান দেন নি , গ্রামে গঞ্জে স্কুল , অবৈতনিক পাঠাগার , বালিকা বিদ্যালয় এবং স্ত্রী শিক্ষার জন্য ঘরেঘরে সাক্ষরতার আলো জ্বালানোর ব্রত নেন । তিনি মনে করতেন নারীজাতি শিক্ষিত ও উন্নত না হলে সমাজের সার্বিক উন্নতি কখনই সম্ভব নয়।
মহাত্মা গান্ধি বলেছিলেন , “ আমি যে দরিদ্র বাঙ্গালী ব্রাহ্মণকে শ্রদ্ধা করি তিনি হলেন পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ”।
সাহিত্যের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান আজও আমরা প্রতি মুহূর্তে অনুধাবন করি ।
এই মহামতি মনিষী ১৮৯১ সালের আজকের দিনে ৭১ বছর বয়সে পরলোকগমন করেন।
কিন্তু তিনি যে সমাজ - সাহিত্য ও দশের হিতের জন্য আমরণ লড়াই করেছিলেন তাঁর প্রতিদান আমরা কতটুকু দিতে পেরেছি !
যে অক্লান্ত পরিশ্রমে নবজাগরণের সূচনা তাঁরা করে গেছিলেন তার কতটুকু আমরা আধুনিক সমাজ গ্রহণ করেছি আর কতটা বাস্তবায়িত করতে পেরেছি !!
ভাবার খুব প্রয়োজন আজ ।


1 মন্তব্যসমূহ
সত্যিই ভাবার খুব প্রয়োজন, খুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুন