নাহার আলমের কবিতা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে
                                                 ছবি সংগৃহীত 


বোধের ললিতকলা


কিছু বিরল বৈভব ছুঁয়ে থাকে আমার নিহত সত্তায়
কিছু আশা জেগে থাকে যোগ বিয়োগের গড়পড়তায়
কিছু প্রেম নীরবেই কথা বলে যায় গলিত কান্নায়
কিছু ভাষা প্রাণ ফিরে পায় নৈঃশব্দ্যের গভীরতায়
কিছু পুরাতন ক্রোধ মরেও বেঁচে থাকে হাড় মজ্জায়
কিছু ফেরারি বোধ ভালোবাসা চায় শোভন লজ্জায়
কিছু রাগ আছে যা হাসে কপটে প্রকাশহীনতায়
কিছ ত্যাগ আছে যা ঝুলে থাকে বন্টনহীনতায় 
কিছু কৃপা আছে যা অকারণ জ্বলে থাকে
কিছু ক্ষোভ আছে যা অপলক চেয়ে থাকে
কিছু জ্বালা আছে যা নেভে না কোনোকালে
কিছু মায়া আছে যা তলিয়ে নেয় চোরাবালির অতলে
কিছু প্রণয় আছে যা থাকে সীমাহীন আকুলতায় 
কিছু প্রলয় আছে যা তোলে ঝড় চরম বিক্ষুব্ধতায়
কিছু ছায়া আছে এমন, যারা প্রতিশ্রুতি দিয়ে যায়
কিছু মন আছে এমন, যারা ভাঙনের গান শোনায়
কিছু ব্যথা আছে এমন, যা হৃদয়ের সাথি হয় আজীবন
কিছু কথা আছে এমন, যা মহাকাব্য গড়ে সাহিত্য ভুবন।

====

স্বরচিত গল্পটা আমার


সেদিন সটান দাঁড়িয়েছিলো অথই এক আঁধার,
শিয়রে আমার- ছুঁয়ে বুকের বাঁ পাশ।
আমি সারারাত ধরে জমানো ভালোবাসাকে
পুড়িয়ে পুড়িয়ে এক নিটোল স্বজন খুঁজলাম,
পেলাম শুধুই পচা গলা লাশ।
সাথে ছিলো সাথি হয়ে সিলিং ফ্যানের বনবন আওয়াজ, আর বাদলা রাতের বিকট বাজ।
আয়ুরেখার সাথে সখ্যতা হয় না বুঝি কখনো 
ঘড়ির কাটার!
শত অবরোধ জানি,
কুকুর পাহারায় তবুও সাজাই দেবে-যাওয়া 
জীবন আমার।
দূরত্বের গুরুত্ব বুঝে অতি সন্তর্পণে বয়ে চলে 
ঠিক এমনি করেই আমার না বলা স্বরচিত সে গল্পটা;
মন সহিষ্ণু হলে, 
দৃষ্টির অন্তরালে সৃষ্টির আদিম খেয়ালে চেয়ে 
দেখি কতোটা প্রসারিত হলো নিরেট দহনের 
সে প্রোজ্জ্বল মুগ্ধতা।

====

অতঃপর, আমি চাই...


এই তো, এইমাত্র চলে গ্যালো আরও কিছুটা সময়;
চেয়ে থেকে দেখলাম, ক্ষয়ে যাওয়া প্রহরের 
উল্লসিত জয়।
পৃথিবীর একপ্রান্ত ছুঁয়েছে মাটি
আরেকপ্রান্ত আকাশ- 
মাঝখানে আড়াআড়ি, ছড়ানোর বাড়াবাড়ি
জল হাওয়া অরণ্যের বিরান প্রকাশ।
দূর গাঁয়ে একাকী নিঝুম দ্বীপেরা সরব হলে 
পাখিদেরও বাড়ে কোলাহল,
জলের অকাল প্রয়াণে মরা গাঙে থামে নাও নদী 
বৈঠা জল ঢেউ আর মাঝির নিত্য চলাচল।
বেড়াল স্বভাবে রজনীর শেষে আসে কাছে 
ওৎ পেতে একখাঁচা ভোর;
দ্বিধা কিংবা সংশয়ে, জানি না ঠিক কী ভয়ে,
আলগোছে খুলে নিই আধভেজানো দোর।

ওইদিকে, জীবন্ত ভাদর ছুঁয়ে যায় চরজাগা 
কাশেদের যুবতী নধর।
মধুমাস চলে গ্যালে, শীতেরাও ঝরে গ্যালে,
তারও পরে বাড়ে ফাগুনের সোহাগি কদর।

আমি চাই,
পৃথিবীর অরণ্যে ছ'কোটি তারার সাথে মৃতপ্রায় ঋতুরাও সহাস্যে বাঁচুক।
বিরানের বয়ানে দুঃখের প্রয়াণে
শংকারা মরে গিয়ে ফেরারি সুখেরাও 
স্ব-প্রকাশে হাসুক...

                                          ছবি সংগৃহীত

সৎকার, অতঃপর...


অতঃপর, উঠেছিলো ঝড় বারুদ শাসন জলের দূষণ 
তারপরে থেমে গ্যালো নাগরিক বাতাসে নিটোল 
শ্বাসের সুধীর কাঁপন।
প্রিয় নৈঃশব্দ্যের গোপন কুঠুরিতে রক্ষণ সমাচারে 
ঘুমায় সুঠাম আঁধার এখন!
অপ্রস্তুত ভাবনার কার্নিশে জমে দানা দানা 
নোনা স্বেদকণা
মলিন ঠোঁটের চারিধার- অনন্ত শোভন।
এখানে এখন,
যাপনের অনিবার্য জটিলতায় পঙক্তির আলো 
এসে ভাঙায় না আর ঘুম
এখন এখানে,
সীসার গন্ধ ভরা বুকেও আগুন ওঠে না জেগে
নিয়মিত হাসিরাও হয় গুম।

তবুও আকাশ নদী জল-ভরায় অবিরল
ছায়াপাতা ঘাসে তখনো বয় শিশিরের জল
মগজের সৎকার শেষে
আবারো ফেরে সহাস্যে বিনয়ী কালিজল...

====

ঊনচল্লিশটি দরোজা


আমি ফেলে এসেছিলাম একদিন দু'পায়ে 
ঠেলে ধূলোমাখা যে মেঠোপথ,
অজানা গন্তব্যের সাক্ষী হয়েছিলো যে একটুকরো আঁধারে আলগোছে খসে পড়া আমার রূপালি নথ;
আজ বেলা-অবেলায় কেনো জানি মনে পড়ে খুব 
ফেলে আসা সেই ক্ষণটারে
পথভোলা এক বনবেড়াল নৈঃশব্দ্যমাখা ওই 
শূন্যতার বুকে ক্রমাগত ঢিল ছোড়ে।
আমি পরিপাটি শৃঙ্খলে খুঁজে ফিরি হারানো সেই তুষারকণা ছুঁয়ে নিতে আবার;
নিশুতির ছেঁড়া পাতায় ঘুমন্ত এক সত্ত্বা আমায় 
জাগিয়ে নেয় বারবার!
কান পেতে শুনি, কার যেনো অন্তহীন এক আকুলি ডাক, বিলয়ের ধোঁয়ায় থেকে থেকে খাবি খায়! 
একটিবার, শুধু আমি একটিবার জেনে নিতে চাই,
কোন সে মোহন সুর
কার সে স্নিগ্ধ আঙুল 
আলগোছে টোকা দিয়ে গ্যালো আমার 
ঊনচল্লিশটি দরোজায়...

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

4 মন্তব্যসমূহ