দৈনিক কবিতা গুচ্ছ




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

কবি এক মা
নীলাঞ্জনা ভৌমিক


কবিতা এক জন্ম নেয় এক শিশুরই মতো
কবির হৃদয়ে জমে যেমন ভাবনা শত শত।
দশ মাস দশ দিন যেমন থাকে সে মাতৃজঠরে
সব আবেগ জমা হয় তেমন এক কবির অন্তরে।
আমার সৃষ্টির সময় যেমন আমিও এক মা
কবিতা হোক বা সে শিশু সে আমার পরমা।
যাতনা যেমন সে লগ্নে মাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে ধরে
শব্দরা যখন দেয় না ধরা কবির হৃদয় পরে।
সূর্য যেমন প্রকাশিছে ধারাপাতের অন্তে
আনন্দও জেগে ওঠে তেমন কবির সৃষ্টিতে।
শিশু যেমন জন্ম নিয়ে মায়ের কোলে হাসে
কবিতাও তখন মগ্ন থাকে কবির উল্লাসে।
রাগ-অনুরাগ-বিরহ- বিচ্ছেদ সবই যেমন আছে
মিলনের আকুলতাও আছে অনুভবের মাঝে।
ধীরে ধীরে ব্যথা যেমন মনবীণায় বাজে
অনুরাগও মগ্ন তখন অমৃতধারার মাঝে।
সৃষ্টিকর্তা যেমন তুমি বিশ্ব সৃষ্টি কর--
কবিতা হয়ে তেমন তুমি আমারই হাত ধরো।
মায়ের বুকের সুধাধারায় শিশুর দিন যায়
কবি হয়ে আমার দুচোখে অশ্রুধারা বয়।
কবিও তাই মায়ের মতন সাহিত্যকে ভরান
শিশুর হাতটি ধরে যেমন মা হাঁটতে শেখান।  

====

অসহায় পৃথিবী
স্মৃতি বেগ বিশ্বাস

অণুজীব আজ বাসা নিতে চায়  আমাদের ফুসফুসে
বিশ্ববাসী আতঙ্কে তাই কাঁপছে,
বলবে কি কেউ যারা কুরে খায় জগতের হৃৎপিণ্ড
তারা কী শাস্তি পাচ্ছে ! 

উষ্ণায়নের আফিং খেয়ে নেশায় বেহুঁশ যারা
আরও চায় সুখ, বিলাস-যাপন,
বরফ গলায় জীবানুর দল পাড়ি দেবে দেশে-দেশে
আরও করো সব স্বেচ্ছাচারিতা সাধন। 

লোভ-লালসায় মত্ত মানুষ বসুধা শোষণ করে'
পাচ্ছিস কেনো ভয় ! 
গলা ছেড়ে আরও বর্গীকে  ডেকে তছনছ করে
পৃথিবীতে আন লয়।

রুষ্ট-বিধাতা তাঁর হাতে গড়া পৃথিবীর অবহেলা 
সইবেনা অজুহাতে,
নটরাজ হয়ে প্রলয়ের সাজে ধ্বংস-দামামা বাজাবে এবার
অনলস প্রতিঘাতে।

বেয়াদব যত স্বেচ্ছাচারী,হঠকারী অমানুষ
জবাব কী দিবি আজ ? 
তোদের দাপটে অসহায় জীব বেঁচে মরে আছে
নিয়ে প্রাণে ভয়,লাজ।

পৃথিবী বোধহয় বিদায় নেবে গো অনাচারী আর বর্বর যত
মানুষের কাছ থেকে,
জানেনা নিজেও এক কণা তার  বাঁচাতে পারলে
কার কাছে যাবে রেখে ! 

====

ভোটের রাজনীতি
মঙ্গল মিদ্যা 

" আহা্ ছেলেটা খুব ভালো ছিলো গো "!
কথাটা গ্রামের ঢিলিপিসি সুর করে কান্নার ফাঁকে বললো।
আরও অনেকে কতোসব ভালো ভালো কথা বললো।
সামনে ভোট, তাই দলের হয়ে কাজে নেমেছিলো।
গ্রামের সদ্য যুবক হওয়া সুমিত।

নিজের অনেক চেস্টা করেও চাকরী সে জোটাতে পারেনি।
অথচ, ৩বার ফেল করা তার সমবয়সী ছেলেটা,
দলের পতাকা আর সুপারিশে বেশ চাকরিটা বাগিয়ে নিলো।

আসলে সুমিত রাজনৈতিক ঘোরপ্যাঁচ ওতো জানে না,
তাই গুলিটা কখন তার বুকে এসে লাগলো বুঝতে পারেনি।

স্কুল কলেজে ভালোভাবে পাশ।
এমনকী চাকরির পরীক্ষাটাও ভালো দিতো,
তবুও তার চাকরিটা হয়নি।
একটা ইন্টারভিউতে যখন দু লাখ চাইলো -
তখন তার মন ভেঙে যায়, আর কখনো পরীক্ষায় বসেনি।

যাইহোক, সমাজের বুক থেকে একটা সন্ত্রাসবাদী যুবক শেষ হলো।
শাসক দল ওটাই প্রচার করবে।
আর গ্রামের ভোটার রা সেই কথায় মেতে ভোট দিয়ে জিতিয়ে,
তাই প্রমাণ করবে।

কেউ বিনা দোষে মরলো।
আর কারোর ভাগ্য খুললো।।
এটাই তো ভোটের রাজনীতি !!



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ