পোস্ট বার দেখা হয়েছে
মাতাল
পাখি—যাও, যে ডাকেনা তার কাছে যাও,
অতর্কিত, মুহূর্তে উধাও।
দরজা বন্ধ। বাতাসে ভেসে আসে গন্ধ, চুল,
ভিতরে যুদ্ধ, বাইরে ফুল।
গাছের পাতায় আলো এসে দাঁড়াল। ঋষি?--
নদী ভুলপথে দুহাত বাড়া্য অহর্নিশি,
ঠোঁট খুঁজি। তোমার সমস্ত শরীর জুড়ে ঠোঁট,
কে যেন খুবলে নিল বিকেলবেলা , সে এক চোট,
ঈর্ষা এসে ঘন হয়ে বসেছে শিয়রে, চোখের পাতায়,
পরের স্টেশনে শব্দচোর, তাও পালাচ্ছ?মহিমার দায়?
ঈশ্বর হেঁকে উঠেছে—কুরশী লাও
পাখি- যাও, যাও, পেয়ালা বদলাও।
=====
মানব-জমিন
সেভাবে বলিনি আমি যাতে রৌদ্র ঝরে পড়ে,
ঝড় বয়, অশনি সংকেতে ভেসে ওঠে ভয়,
সেভাবে বলিনি যাতে আবরণ খসে যায়, এলোচুলে-
চলে যেতে পারো অলীক স্নানের দিকে,
শুধু দৃষ্টিতে ধরা ছিল অলিখিত কালের মূর্চ্ছনা,
ভিখারি বালক ফিরে গেলে যেভাবে ফেলে যায় যন্ত্রণার ছাপ,
যত যত্নে তিলে তিলে মানুষের সাজানো গরিমা
এক হাতে ভেঙে দেয় অনায়াসে গাঢ় আলো-তীরে...
সেভাবে বলিনি তোমায়, পথে পথে ফেলে রাখো সাজ,
আভরণ ছুঁড়ে দাও, মঞ্চ থেকে নেমে এসো ঋণ,
তোমাকে লিখবো আমি বিহবল সাদা পৃষ্ঠায়
তুমিও লিখতে থাকো আর্তের মানব-জমিন।
====
মিথ্যেকল্প
রেলিং এর উপর দিয়ে শালিক উড়ে গেল, ছায়াকে শুইয়ে রেখে এলোমেলো পায়ে বিকেল হেঁটে এল আমার দিকে,
ওকে ঠিক তোমার মত দেখতে , জানো?
আমি , সাকীইইইইইই বলে দৌড়ে যেতে গিয়ে দেখি বাসের জানলা গলে রোদ্দুর উপছে পড়ছে কালো মেয়ের চোখে, আর , নীল রং এর জামা পড়া ছেলেটা একছুট্টে রাতের মত আকাশ রাখছে মাথায় , আর কি দুরন্ত ঝর্ণা মাটি থেকে ডানায় ভর করে উড়ে যাচ্ছে পাহাড়ের দিকে---
অমনি তোমার রান্নার গ্যাস ফুরোলো, কালো ঝুল পড়া শিকগুলোয় রবিবারের ছায়া এসে পড়ল, তোমার চুলগুলো এদিক ওদিক উড়তে উড়তে কুয়াশার গন্ধ নিয়ে মিশে গেল চাঁপার মত আঙ্গুলে...
আমার ব্রাউন সোয়েটার মুড়িয়ে রাখল খুচরো হাওয়া, উত্তরের হিমগন্ধ, আর পরশুদিনের তোমার ভ্রু-ভঙ্গিমা---
ওকে ঠিক তোমার মত দেখতে জানো?...
আমি সাকীইইইইইইই বলে দৌড়ে তোমার কাছে আসতে গিয়ে দেখি, সব বাস সিগ্ন্যালে দাঁড়িয়ে ,
জেব্রা-ক্রসিং পেরিয়ে স্মৃতির বিকেল একান্ত মিলিয়ে যাচ্ছে স্কাই-স্ক্র্যাপারের পনেরোতলার অলীক বারান্দায়,
সাকীদের ঘরের বিছানার বেডকভারে, মেঘবালকের গা ঘেঁষে...
আমি দৌড়েই যাচ্ছি...তোমার কাছে পৌঁছোব বলে, আর সন্ধ্যে নেমে আসছে মিথ্যে শহরের দুপুর চুরমার করে, কিছুতেই কথা শুনছেনা গড়িয়াহাটার চৌমাথা...
মেঘ পোড়া ছাই
সে সমুদ্র অনেক। তার মূল লক্ষ্য ঢেউ,
তবু ঢেউ, তুমি নদীর অনলে শেষ,
আমি শেষ তাড়া করি, ধরি, কলার ঝাঁকালে কেউ,
মেঘ ফুঁড়ে রেখে যাই, ভ্রম অনি:শেষ।
★
মধ্যরাতে, মেঘের ঐ ভেঙ্গে যাওয়া আলপথে
কে উঠে দাঁড়ালো?
কে হেঁকে গেলো -- দই চাই, দই--
না দেখা তড়িৎশাস্ত্র হাতে, কে মুখ বাড়ালো,
কে উল্টালো কবিতার বই??
★
টুঁটি ছিঁড়ে ফেলে গেছে -- মৃত্যু বিষয়,
শুকনো পথ, মেঘটি ঝোঁকানো,
চোখে চোখে ভেসে যাচ্ছে অকল্পিত ভয়--
চুপ, কেউ যেন না জানে, তুমি কি কি জানো।
★
প্রতিবার আমাকে কেটে ফেলা হয়, কাউকে বলিনা তাই লিখি,
সে এক আশ্চর্য শয়তান, আগুনে পুড়ছে ধিকি ধিকি,
বুকে পা রেখে টেনে বের করছে উঠোন--আকাশ--মেঘ, এক বালতি সূর্যের রঙ,
পথে পড়ে থাকছে জননী শরীর, খুঁড়ে খাচ্ছে দেবদূতের সঙ।
★
মেয়েটি প্রেম, ছেলেটি দিশেহারা,
মেয়েটি বিবাহিত, অলঙ্ঘ্য ইশারা,
আকাশে মেঘ ছিল, বাকিটা---কি চাস?
কবিতা শুরু হয়?--জুড়োলে হাড়মাস??
====
যখন তখন
ঘুম থেকে অন্য এক ঘুমে, ক্ষতরাও হেঁটে যায় একা,
আমার ভিতর আজও ইতিহাস বেড়ে ওঠে যখন তখন ,
খোঁজে কেউ কেউ ,
আমিও যে হেঁটে যাই ক্ষতদের পিছন পিছন ,সে কথা জানেনা ;
দিঘিদের বুকে ছায়া পড়ে,
কেউ কেউ আজও জিজ্ঞাসা করে, চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি কেমন ?
এর কোনো জবাব কী হয়? হরপ্পায় দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা আছে
কারা ভালোবাসে, কারা হাত নেড়ে পিছনে তাকায় ,
কারা শুধু বেচে দিতে আসে ভিখারি সময়…
পুজো শুরু হলে রাত্রিও উৎসব হয় নদীটির অদ্ভুত কিনারে,
অপেক্ষার ফসিল থেকে চারাগাছ মাথা তোলে ,
অববাহিকায় সংকীর্ণ চর মনে হয়, ঝড় শেষ হলে আর থাকবে না, তবুও কী হেঁটে যাব?
ট্রেন আসা বাকি আছে কারও ? পুনরুদ্ধার ?
ইতিহাস হেসে ওঠে যখন তখন -
জ্যোৎস্না থেকে অন্য এক জ্যোৎস্নার অলীক গভীরে…


2 মন্তব্যসমূহ
অনবদ্য
উত্তরমুছুন😊😊😊
মুছুন