শ্রেষ্ঠ পরিসংখ্যান কলম | ড. রাখীবৃতা বিশ্বাস




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

                                                                   সৃজন : দে বা শী ষ

 ছেলেবেলার গান

এক ঝলক আলো 
আর এক পশলা বৃষ্টি,
দেদার খেলাধূলা 
আর অনেক অনাসৃষ্টি।
ছেলেবেলার দিনগুলো সব 
ছিল ভারী মিষ্টি!

এই  যে হল আড়ি
আবার একটু পরেই ভাব,
সোজা - সাপ্টা, সহজ, সরল
সব ছিল হিসাব।

কালের ফেরে
বছর ঘুরে দিন গিয়েছে বেড়ে,
জীবন পথের জটিল বাঁকে,
মন গিয়েছে হেরে!

ছোট্টবেলার স্বপ্নগুলো
ছিল সবচাইতে দামী!
এখন বড় হওয়ার
ভীড়ের মাঝেই হারাই 
আমার আমি।

দেয়া - নেয়ার মলিন সুতোয়
জড়িয়ে গেছে জীবন!
তাই একলা পথে
মাঝে মাঝেই,
ছেলেবেলার স্মরণ।।

====
 অনুষঙ্গ

মন ছুঁয়ে আছে মন!
ঝোড়ো হাওয়াতে,
পথ ভুলে আসা 
সেই একলা পাতাটাও
বলে দিয়ে গেল...
আজও,
মন ছুঁয়ে আছে মন।

যে হৃদয় হারিয়েছে
মানুষের ভিড়ে,
এলোমেলো চিন্তা গাঁথা
অনুষঙ্গ ডোরে...
দূরে, বহু দূরে...
ব্যস্ত দুপুর আর 
পড়ন্ত বিকেলের 
সবুজে ও নীলে,
আজও, মন ছুঁয়ে আছে মন।

সময় পেরিয়ে গেছে ঘড়ির কাঁটায়!
বাস্তব এক মুঠো কাঁচ,
হতবাক্!

তবু মনের ক্যানভাসে,
দুটি পাতা আর চকোলেট...
প্যান্ডোরা'স বক্সে,
সেদিন ভরা ছিল...
একমুঠো অ্যসটেরয়েডস্!

রঙ, তুলি আর একটা ছুরি!
এডিটেড হয়ে যায় শেষ ছবিখানি,
সিগনাল - সাইরেনে,
ঘটে গেছে অনেক বদল।

রদবদল হয়ে গেছে ভিসুভিয়াস - 
ফুজিয়ামায় , 
আর সেদিনের সেই 
সবুজ ঘাসের গালিচায়।

গোলাপী আলোয় মোড়া ফুল,
আস্তিনে রাখা, চেনা ভুল...
আনকোরা মেঘের মতন দুটি হাতে,
মন শুধু ছুঁয়ে  আছে মন!

গলি থেকে রাস্তার পরিসরে,
একসাথে 
উড়ে চলা সেই দুটি পাতা...
আজ তারা অনেক তফাতে।

একসাথে কারা তবে রয়ে গেল বল?
মুঠোফোন আর স্টেরয়েড!
ফানুস হয়ে উড়ছে আকাশে...
পুড়ে ছাই আজ,
স্বপ্নের  সেলুলয়েড!

====

                                                                ছবি সংগৃহীত 

 মানুষ সাজার সাজা

মানুষ তুমি নিজেই নিজের বোঝা!
সত্যিকারের মানুষ হওয়া অতই বুঝি সোজা ?
ওগো মানুষ, তুমি নিজেই নিজের বোঝা ।

নিজের স্বার্থে পরকে তুমি করছ কুপোকাত;
ভাবছ মনে চুপিসারে আহা কী আহ্লাদ !

বুদ্ধি নিয়ে জিততে গিয়ে, 
দিলে বিবেক বিসর্জন।
লোক ঠকিয়ে, অসৎ হয়ে করলে মান অর্জন।

ভালোবাসার প্রতিদানে দিচ্ছ অপমান,
বোকা ভেবে বিশ্বাসেতে করছ আঘাত।

বিষয় বিষে মজতে গিয়ে আপন হল পর,
যখন পড়ল ধরা মিছে আশ্বাস;
ভাঙল তোমার ঘর।

হারবে না তো, জিতবে শুধু; 
তোমার আছে অনেক অপশন্!
মরবে মরুক অন্য মানুষ,
সে তো নয় তোমার টেনশন্ !

তোমার লোভের করাল গ্রাসে নির্মল এই প্রকৃতি,
পায়নি কোন ছাড়পত্র, ভুগছে নিরবধি!

মানুষ তোমার মনেই ব্যাধি, সয় না কারো ভালো,
অন্যের ভালো দেখলেই তুমি মুখটি করো কালো।

মান আর হুশ হারিয়ে হেলায় মেখেছো মনেতে কলুষ,
মুখোশ পড়ে, রঙ বদলে সেজেছো মিথ্যে মানুষ!

কিন্তু বাপু ক'দিন তুমি থাকবে এমন করে?
গা বাঁচিয়ে, বুক উচিঁয়ে হাসিতে মুখটি ভরে!
স্বার্থসিদ্ধি করে!

জানো না কি জীবন নদী বয় না একই খাঁতে,
চিরদিন যে যায় না সমান, আছেইতো প্রবাদে।

মনে রেখো কালের ফেরে কোনো একদিন,
তোমারো বিচার হবে, শুধতে হবে ঋণ।

কড়ায় গন্ডায় পাবে ফেরৎ,
যেমন বুনলে বীজ।
প্রমাদ তোমায় গুনতে হবে,
যেমন ছড়িয়েছিলে বিষ!

জেনে রেখো এই বিচারে হবে না হেরফের,
যা দিয়েছ ফেরৎ পাবেই,
কিছু থাকবে না অবশেষ।

তাই তো বলি ফের,
ওগো মানুষ, তুমি নিজেই নিজের বোঝা।
সত্যিকারের মানুষ হওয়া অতই বুঝি সোজা ?
মুখোশধারী মানুষ, তুমি নিজেই নিজের বোঝা 

====
 বন্ধু দেখা হবে

বন্ধ দরজার ওপারে...
অগাধ শূন্যতা!
দিন থেকে রাত 
আর রাত থেকে দিন,
দ্বিপ্রহর, সায়াহ্ন জুড়ে
রয়ে গেছে ঋণ।

দূরবীনে চোখ রাখি ,
ঝাপসা সব কিছু।
যতই আঘাত ঢাকি,
স্মৃতি নেয় পিছু...।

নরম ঘাসের কোলে,
ঝরে পড়ে মন।
ছোট ছোট স্পর্শেরা
বলে অনুক্ষণ...

একদিন দেখা হবে,
একলা পরিসরে...
অলিন্দ ও নিলয়ের,
নিমগ্ন ভোরে,
বৃষ্টিমাখা রোদ্দুরে,
কোনো এক নীড়ে অথবা 
হাজার মানুষের ভিড়ে!
জানি না,  কোন্ সে  সুদূরে...
হয়তো বা হাজার আলোকবর্ষ পরে!
এই জীবনের উপান্তে দিগন্ত রেখায়,
কিম্বা দূর থেকে ভেসে আসা 
কোনো এক চির পরিচিত গানে গানে...
"আমার জীবন নদীর ওপারে" ।।

====
 শহীদ

মাতৃজঠর থেকে ভূমিষ্ঠ হয়ে
রসে - বশে রসনার পরিতৃপ্তিলাভ,
আর আরামকেদারার প্রগলভতা...
এইটুকুই আমাদের জীবনের
মহার্ঘ্যভাতা...পরম সম্বল।

মোক্ষলাভ হবে এই আশা নিয়েই,
মাঝখানের কিছুটা সময়...
পরশ্রীকাতরতার অমূলক পরিচর্যা,
আর স্বকীয়া ও পরকীয়ার মেলোড্রামায়,
কাব্যিক জীবনের মিথ্যা উদযাপন!

থ্যানাটস -এর বিষক্রিয়ায়,
কলুষিত হয়ে গেছে
ইরস - এর যাবতীয় বহুলাকাঙ্ক্ষিত
প্রাপ্তি আর প্রাচুর্য,
গাঙুরের বিশুদ্ধতা,
আর আমাদের অন্তঃস্থল ও...!

এই সমস্ত স্ব-গর্বিত পাপের পর,
নিহত হই তুমি...আমি...আমরা...।
আর আমাদের মত কিছু অনাহুতের 
নিয়মানুগ মৃত্যুতে ভারমুক্ত হয়
এই পৃথিবী ...
বারবার, প্রতিদিন,
প্রতিপলে!
কিন্তু ওরা! 
ওরা হয় "শহীদ"!
ওরা লড়াই করে সীমান্তে,
অন্তরীক্ষে, স্থলে, জলে।

অতন্দ্র প্রহরী ওরা...
নিবেদিত প্রাণ।
দেশমাতৃকার সেবায় আর 
আমাদের মতো কিছু পাপাকীর্ণের জীবন রক্ষায়...
একলহমায় ওরা
সঁপে দেয় প্রাণ।

দেশের জন্য যারা 
দিয়ে গেল প্রাণ,
নিহত নয় তারা জেনো...!
স্মরণে রেখো তাদের, মেনো।
তারা যে শহীদ মহাপ্রাণ!
ওরা, অমর - অম্লান।

মরণ তো হয় আমাদের,
ইতর মনুষ্য জীব যারা।
ওরা হন অমর - শহীদ
নিহত মোটেও নয় তারা।।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

1 মন্তব্যসমূহ