পোস্ট বার দেখা হয়েছে
অন্তহীন
পৌলমী গঙ্গোপাধ্যায়
সেদিন ছিলাম অপেক্ষায় তোমার
নীল নদীর ধারে,
গোলাপি রঙে রাঙিয়েছিলাম নিজেকে
তোমায় দেখানোর তরে।
অপেক্ষার প্রহর চলেছিলাম গুনে
তবু এলে না প্রিয় তুমি,
দুচোখ ছিল প্রতীক্ষায় তোমার তবু
একাকী রয়ে গেলাম আমি।
বেলা হয়ে এল শেষ তবু যে কেন
এই প্রতীক্ষা অন্তহীন,
পাহাড়ের কোলে সূর্য গেল অস্তাচলে
মনের তার কেটে গেল সেদিন।।
====
বন্ধ্যা নারী
স্মৃতি বেগ বিশ্বাস
বন্ধ্যা-নারী যদি নারীত্বের মহিমা পূরণে ব্যর্থ হয় তাহলে বন্ধ্যা-পৃথিবীও হারায় তার মহিমা।
সেকালে সমাজপতিদের তৈরী নিয়মে বন্ধ্যা-নারী শুভ-অনুষ্ঠানে থাকতো সম্পূর্ণ ব্রাত্য।
ফল যেমন গাছের পরিচয় তেমনই সন্তান-প্রসবযোগ্যা নারীই হলো নারীত্বের দাবিদার।
আর নিঃসন্তান বা বন্ধ্যা-নারী ছিলো দণ্ডযোগ্য অপরাধী।
তখন ছিলোনা কোনো যুক্তিপূর্ণ কথার মূল্য বা কদর-----
সন্তানের জন্মদানে পুরুষের অক্ষমতাকেও ভাবা হতো কুলক্ষণা নারীরই পাপস্পর্শ।
যুগের বদলে নারী এখন সেই অন্ধকূপ থেকে মুক্তি পেয়েছে--
মাতৃত্ব গ্রহণের ইচ্ছা-অনিচ্ছার স্বাধীনতা এসেছে তাদের।
তার ফলে সমাজের ভাবনায় পরিবর্তন এলো নতুন পদক্ষেপে--
আগে তাদের বন্ধত্ব ছিলো অপয়ার তকমায় আর এখন মাতৃত্ব গ্রহণের স্বাধীন ইচ্ছা হলো চরম নিন্দনীয়।
চাকরী করা নারীর বড়ো সময়ের অকুলান, ঘরে-বাইরে সামাল দিতেই
হিমসিম-- তার উপর আগে পরের সময় ছাড়াও 'নয় মাস দশ দিন' গর্ভব্যস্ততা !
ভাষাগত বিচারে পৃথিবীও নারীর গুণে ভূষিতা --
নারীর নামানুসারে তাই তাকে বলা হয় বসুধা,বসুন্ধরা ধরিত্রী আরও কত কি---
নারীর বন্ধত্ব বা সন্তান ধারণে অনীহা নিয়ে যে সমাজ এতো সরব তারা কী করে তিলে,তিলে ধরিত্রীকে বন্ধ্যা করে তুলছে !
ফুল-ফলের জন্মদাত্রীকে ধ্বংস করে,নানাভাবে পৃথিবীকে দূষিত করে কেনো প্রতিদিন হনন করছে তার জন্মদান বা সৃষ্টির ক্ষমতা ? অনাচারে,দুর্বিচারে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে ক্রমে,ক্রমে পৃথিবীকে করে চলেছে কুলক্ষণা বন্ধ্যা-নারী।
====
বেনামি অপেক্ষা
তন্ময় রানা
কিছু অপেক্ষারা এভাবেই থেকে যায়
দিন বদলের সাথে,
থেকে যায় একাকী বিষন্নতা মাখা অন্ধকারের নির্ঘুম প্রতি রাতে l
খোলা বারান্দা থাকে নির্বিকার
উদাসী চোখে,
আকাশের নীলিমার মাঝে, কাকে যেন
খোঁজে!
শ্রাবন আসে-যায় ঋতুর পরে ঋতু
পার করে দিয়ে,
ভিজিয়ে দিয়ে যায় এসে ,শ্যাওলা পড়া
বিষাদি মনে l
ভেসে গেছে একে-একে সব আজ যেন কোন-সে প্লাবনের জলে !
অপেক্ষারা তবু জেগে থাকে কাঙ্খিত
এ'মনে l
সিলিং ফ্যান বুঝি প্রচন্ড রাগে, হাওয়া
ছুঁড়ে মারে চোখে l
আলপিন দূরত্ব সম্পর্কেরা করেছে, দ্রাঘিমা-রেখা পার যেন দূরত্ব বাড়িয়ে !
কিছু অপেক্ষা তুবু জেগে থাকে রোজ রাতে
চোখে মোবাইলের আলো মাখিয়ে l
জীবন এভাবেই ভেসে চলে রোজ
খড়কুটো'কে আগলে ধরে ,
পৌঁছাতে নির্ধারিত সে মোহনার চড়ে........

2 মন্তব্যসমূহ
অসাধারণ তিনটি কবিতাই সাথে অপূর্ব আঁকা পৌলমীর 👏👏♥️♥️
উত্তরমুছুন
উত্তরমুছুনঅসাধারণ প্রতিটা কবিতা ও আঁকা