এক পুরুষের অজানা আত্মকথা! | দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

                                       ছবি সংগৃহীত 

২১ দিন 
দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য 

__________________________________

অজান্তেই আমরা জড়িয়ে পরি কিছু মুহুর্তে ।অকারনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কিংবা গুছিয়ে নিই চারপাশ।  মানুষ চলাচলের মধ্যেই জীবন খুঁজে নিয়ে পথচলা । এভাবেই আসে বার্ধক্য। এমনও বার্ধক্য  আছে যেখানে প্রতিবাদ নেই, প্রতিরোধ নেই, খুশী বলতে বিছানায় এপাশ ওপাশ কোনোমতে । পিঠসুলের  দুর্গন্ধ কিংবা নিজের চারপাশে নিজেরই বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা।
নিঃশ্বাসের গতিবিধি পার্কের বেঞ্চ কিংবা অচেনা শহরে পরিভ্রমন। এমন পরিস্থিতিতে প্রিয় সঙ্গীনীর চলে যাওয়া। তারপর ..... ২১ টা দিন। 

বিভেদের আঙুল - হয়তো একলা থেকে যায় বিপন্নতায়। থেঁতলে শরীরের আবেগ আর আকাশ বলতে সিলিং চিনে নেয় পরিনতি।
এভাবেই প্রিয়জন চলে গ্যাছে। আগলে রাখা জামা, সম্ভ্রমী দস্তাবেজের মতো আপন। কিছুই নেই, কোথাও কিছু নেই - সভ্যতা হয়তো ঘরের আলো - আর ন্যপিপ্যাড।

আর ভালো লাগেনা এপাশ ওপাশ ঘুরতে - পিঠ শিরদাঁড়া বেয়ে শীতল রক্ত স্রোত - একমুখী কোন মতে টিকে থাকা নিঃশ্বাস। 

 পুরুষতান্ত্রিক গঠন, জন্মের পরিচয় কবেই হারিয়ে গ্যাছে - কেবলমাত্র ফেলে আসা গুটিকয়েক স্মৃতি - হিসেব নিকেষ আর টিকটিকি।
দেওয়ালের রংচটা কোণ'টা বড়ো আপন, আবদ্ধ দুনিয়ায় একমাত্র সঙ্গী ফ্যানের ব্লেড, মাঝে মাঝে আসা যাওয়া খুচরো পয়সার মতো সম্পর্ক।

থেকে থেকে বিবশ হয়ে ওঠা । সে তো আসবে না আর ফিরে। বদ্ধ ঘরে জরাগ্রস্থ সংসার - একাকী প্রবলভাবে একাকী জীবন ।

ইচ্ছে করে ইচ্ছে হয়ে উঠি - এতোদিন মনে হয়নি ; আজ প্রবলভাবে ছুটতে ইচ্ছা করে,  আজ ইচ্ছে হয় যৌবনের সেই চিঠি লিখে ফেলি এক ঝটকায়। অবশ হাত কোনমতে বুক পর্যন্ত ওঠে - দুচোখে জল আবারও অপেক্ষা - পঁয়ত্রিশ বছর বিভিন্নভাবে সামলানো শরীরটা কদিন আগে পুড়েছে! পুড়ে গ্যাছে অস্থির অস্থিত্ব। অগোছালো নিয়মে দিনরাত্রির নিরবতা এবং পুরষত্ব ।

আমরা রোজই লিখতে থাকি। লেখার মতো করে নয়। শোনার মতো কলিজা সরিয়ে জীবনের ইতিহাস। হয়তো বিশ্বাস জরাগ্রস্থ হতে শেখেনি এখনও।  

আজ প্রথম রাত। হাল্কা শীত করছে। ঠান্ডা পড়েছে মনে হয়। ঠিক বুঝিনা। কাল রাতে চাদরটা গায়ে দিয়ে দিয়েছিলো বৌ। আজ নিজেই কোনমতে পা ঘষে টানছি উপর দিকে। এতো রাতে পাশের ঘরে ঘুমন্তদের বিরক্ত করতে চাইনা অযথা। আমি তো উঠতে পারিনা আর। বারো বছর আগে শক্ত সমর্থ দেহটা দুমরে মুচড়ে বিছানায় ফেলে দিয়েছে নিয়তি। কোনমতে ঘষটে ঘষটে জীবনের ইঙ্গিত বয়ে চলা। 

প্রবল বিশ্বাস আঁকড়ে যে মেয়ে মানুষটা আর্থিক অনটনে টেনে চলেছিলো সংসার এবং আমাকে।
একমাত্র ছেলের দুর্দশায় হতাশা হতে চাইনি কখনও। কখনও স্ত্রী , কখনও জননী,  হয়ে পাশে থেকেছে চিরটা কাল - আজ নেই। গত রাত ১১ টার পর আর দেখতে পাইনি তাকে। 

হ্যাঁ সে চলে গ্যাছে চিরতরে দূরে বহু দূরে। আর ফিরবে না। নিজেকে এখন অচেনা মনে হয়। ২০ টা দিন কাটানোর পর আর ইচ্ছা করে না বাঁচি। কোনমতে নিরিবিলি টিকে থাকা বিছানা জড়িয়ে। তারপর ২১ তম দিন সকালের চাদর সরিয়ে দুপুর গড়াতে না গড়াতে নিঃশ্বাসের বয়ে যাওয়া শেষ কিনারায়। শান্তি - শান্তি - শান্তি!
আমিও আসছি তোমার জগতে আবারও একসাথে বাঁধবো ঘর। আসছি ! 
শান্তি শান্তি শান্তি।

এক নিমেষে নিথর দেহ। সবটুকু শেষ। আর আসবে না!  আর হাসবে না। কথা বলবেনা। বিদায় বাবা। ভালো থেকো। ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

4 মন্তব্যসমূহ




  1. পুড়ে গেছে অস্থির অস্তিত্ব....
    কখন স্ত্রী কখন সে জননী...


    কিছু বলার নেই
    আবেগ ভেতর থেকে এল

    উত্তরমুছুন
  2. অসাধারণ দুর্দান্ত লিখেছেন।

    উত্তরমুছুন
  3. অসাধারণ দুর্দান্ত লিখেছেন।

    উত্তরমুছুন
  4. লেখাটা যতবার পড়ি ততবার মুগ্ধ হই ... অসাধারণ কালজয়ী লেখা একটা 🙏🙏

    উত্তরমুছুন