পোস্ট বার দেখা হয়েছে
ছবি সৃজন : দেবাশীষ
পরিযায়ী
রোজ ভোরেতেই অপেক্ষাতে,
খোলে দুটি আঁখি!
ইতি উতি চায় যে শুধুই...
জোটে কেবল ফাঁকি।
দস্যি ছেলে, কোলের মেয়ে,
জীর্ণ পরিধান।
আধপেটা ভাত, তাও জোটে না
আকাশ-ঢাকা...
ঘরের চাল!
ভরাতে পেট, শোধ দিতে ঋণ,
একটা কাজের খোঁজে...
ছেলের বাপে ঘর ছেড়েছে,
দেড়টা বছর আগে।
ভিন্ রাজ্যের শ্রমিক এখন,
আমার ছেলের বাপ!
সেই টাকাতেই পাঠালো
ফোন, কিনে সে একখান্।
কাজের চাপে,
আর হয়নি তার যে ঘরে ফেরা।
যোগাযোগের জন্য শুধু...
একটুকু ফোন করা।
এমনি করেই কাটছিল দিন,
একটি - দুটি করে।
আশা ছিল আসবে সুদিন,
আমার ভাঙা ঘরে।
কোথা থেকে ভিন্ দেশী এক,
রোগ এল - করোনা।
রোগীর,
ছোয়াঁচ লেগেই মরছে মানুষ...
এমনই যাচ্ছে শোনা!
বিশ্বজুড়ে লাগল মরক,
এই রোগের আগ্রাসে...!
ওষুধ-টীকা নেই যে কিছুই,
তাই লক্ ডাউন সব দেশে।
বন্ধ দোকান, বন্ধ অফিস,
স্তব্ধ পথ-ঘাট।
ট্রেনের চাকা ও ঘুরবে না আর,
জানালো সরকার।
কেমন করে আসবে তবে,
ফিরবে মানুষ ঘর ?
দুশ্চিন্তায় বাক্ সরে না...
কাটে না প্রহর!
এমন সময় আসল যে ডাক,
বাজল যে ফোনখান্,
'দুদিন পরেই ফিরব ঘরে'...
শুনে শান্তি পেল প্রাণ।
দিন রাতই চলছে ওরা,
মাইলের পর মাইল!
হাঁটছে ওরা ক'জন মিলে,
ধরে রেলের লাইন।
ক্লান্ত শরীর,
পা চলে না...
চাই একটুকু বিশ্রাম।
হাল্কা হাওয়ায় ভর দিয়ে তাই,
রেল লাইনেই বসলাম।
রাতের বেলা তারার আলোয়
জ্যোৎস্নার ঝিলমিল,
স্বপ্নে খুকুর মায়েরই মুখ,
হাসছিল খিল্ খিল্!
তারপর কি ঘটল কখন
আর নেই তা মনে!
রেল দানবেই কেড়েছে প্রাণ,
অতর্কিতে, না জেনে...
কাক ভোরেতেই
ভেঙেছে ঘুম ,
আজকে খোকার মা'র।
স্বপ্নে দেখে ফিরেছে ঘর
যেন খোকার বাপ্!
বলছে যেন 'জল দে রে বৌ'...
এক্ষুনি এক ভাড়,
অনেকটা পথ হেঁটে এলাম,
বাইরে বড়ই তাপ!
কিন্তু এসব অতীত এখন!
শুধুই স্মৃতির রেশ...
খবর এল ভাঙা ঘরে,
সব কিছুই যে শেষ!
অরন্ধন আর সাদা থানেই,
হল সমাপন...
চিরনিদ্রায় পরিযায়ী,
আর লাশকাটা সেই ঘর!!
====
মুখ ও মুখোশ
মুখোশ পরতে আমরা ভালোবাসি,
লাল, নীল, হলুদ, সবুজ,
সাদা আর কালো!
মেকী সব রঙের বাহার...
পোশাকী আলোয় মানায় ভালো!
স্বার্থসিদ্ধি হয় শুধু নিশিদিন,
দ্বিপ্রহর সায়াহ্ন জুড়ে রয়ে যায় ঋণ।
কে বা তার খোঁজ রাখে...
কে বা করে শোধ?
লালসার বেড়াজালে,
স্থবির হয় বোধ!
আবার রাত্রি নামে রোজনামচায়,
আমরা শুধুই পট...
নিয়ন আলোর আঙিনায়।
বৃষ্টিতে বড় ভয়!
কিম্বা হৃৎপিন্ডের রক্তক্ষরণ...!
বারণ!
এইসবই এখন বারণ!
মুখ থেকে মুখোশের পতন?
হয়ত বা এই তার কারণ... ।
বদলেছ তুমি?
হয়ত বা কিছুটাও বদলেছে আমার আমি...!
হয়ত বা ঠিকগুলো হয়ে গেছে ভুল,
নির্বাক অভিমান...
বড় অকরুণ!
ধূসর বনপথ তিমিরে মিশায়,
'অস্হির আয়নায় দেখা হয়ে যায়'।।
====
বন্ধু
তোমার সাথে মেঘে মেঘে ভাব,
কক্ষনো নয় আড়িঁ।
বন্ধু তুমি কাঁদলে আমার,
কষ্ট যে হয় ভারি!
তুমি হলে সেই জন,
যাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি।
তুমি হলে সেই জন,
যাকে মনের মধ্যে রাখি।
তুমি হলে সেই জন,
যে সুখ দুঃখের ছায়া।
সময়ের সাথে বদলায় না,
এমনই মিষ্টি মায়া।
তুমি হলে সেই জন,
যে বুঝে যায় অব্যক্ত।
ঠোঁটের কোণের হাসির আড়ালে,
চিনে নেয় চোখ সিক্ত।
মনকে ছোঁয়া বড়ই কঠিন,
ভালোবাসায় - বিশ্বাসে।
আর শরীর ছোঁয়া বড়ই সহজ,
ছলে, বলে,কৌশলে।
স্বার্থ আর বুদ্ধির কাছে,
যখন হেরে যায় অনুভূতি।
তবুও বন্ধু তুমি থাকো সাথে,
তাই পথ চলি, আজও হাঁটি।
হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসিয়ে দিলাম,
আলতো মোড়া খাম।
জেনো তাতে আদর আছে আর,
আছে তোমার নাম।
কুড়িয়ে নিয়ে মেখে নিও নিজের হাতেই তুমি!
জেনো যতই দূরে থাকি,
তোমায় ছুঁয়েই আছি আমি।
আমাদের দেখা হবে,
অতিমারীর শেষে।
আবার আনন্দেতে ভাসব মোরা,
মিষ্টি আবেশে।।
===
অঙ্কন : হীরক জ্যোতি দাস
বিষাদ অন্তহীন
মনের আকাশ নিকষ কালো,
উজার করে কাঁদতে চায়।
সুরগুলো সব বেসুর বাজে,
বেহাগ জুড়ে বাদল বায়।।
আজ ভালো নেই...
কাল ও একই,
পরশু তবে হবে কি রঙ বদল ?
মুখ-মুখোশের লুকোচুরি,
মনটা জুড়ে কোলাহল!
দূরের মানুষ কাছে এলে,
আরও অনেক দূরের হয়ে যায়...
অভিমানের মল্লারে আজ,
ইচ্ছে নদী দিচ্ছে সায়।।
তাই বানভাসি হোক অনুভূতি,
আর মুক্ত হোক মনের দায়!
চাওয়া পাওয়ার রোজ নামচায়,
জীবন এখন মৃতপ্রায়...
আর মেকি কথার পুতুল খেলায়,
মান আর হুশ হারিয়ে যায়।।
আলোর মাঝে আধাঁর ঘিরে আসে,
মন ভিজে যায় অঝোর বারিধারায়...
প্রতিভাসে অনুষঙ্গ উদ্ভাসে,
রোমন্থন স্মৃতির পটে হারায়।।
ইচ্ছে করে অনেক কিছুই বলি,
কোথায় যেন সব হারিয়ে যায়!
উত্তর সব আছে কালের বুকে,
বেড়ীর বাঁধন ইচ্ছে-পাখীর পায়।।
কালের ফেরে ঋতুর আনাগোনা,
সব রয়েছে যেমন ছিল সেদিন!
মন ভেসে যায় সব পেয়েছির দেশে,
স্বপ্ন আবেশ আমার অন্তহীন।।
====
শূন্য অঙ্ক
শহর ছড়িয়ে দিল আলো!
তবু কেন ভেজা মন ?
স্যাঁতস্যাঁতে...
ভীষণ কালো।
আলো - আধাঁরে,
দৃষ্টির গোচরে বা অগোচরে,
মনের গভীরে,
অনুভূতির ডোরে,
স্মৃতির ভিড়ে...
আজও অম্লান সেই মুখ,
কল্প চিত্ররূপ!
প্রতিদিনে নেই যা মিশে,
মনে তার নিত্য আসা - যাওয়া...
শূন্য থেকে শূন্যে ভেসে ভেসে,
জীবন অঙ্ক সব মেলাতে চাওয়া।
পাওয়ার ভাঁড়ার রিক্ত কেন তবে?
মান আর হুঁশ,
যদি সত্যিই মনে রবে !!


6 মন্তব্যসমূহ
উত্তরমুছুনঅসাধারণ লেখা
Sob kotai osadharon..
উত্তরমুছুনখুব ভালো লাগলো
উত্তরমুছুনআন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন প্রিয় বোন।
উত্তরমুছুনসবগুলো লেখাই অসাধারণ। আমার শুভকামনা রইলো।
দর্পণের এই শুভ প্রচেষ্টা একটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ--- স্বাগত জানিয়ে আমার শুভকামনা ব্যক্ত করছি দর্পণের সকল সহসাথীদের।
আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই দর্পণের সভাপতি দেবাশীষ ভাইকে এবং সকল শুভানুধ্যায়ীদের-- যাদের নিরলস প্রচেষ্টায় আজ দর্পণ বিশ্ব মানের শিরোপা বিজয়ী।
পরিশেষে এই সাহিত্য সংস্হার সকল সদস্যদের প্রতি আমার আন্তরিক ভালবাসা নিবেদন করছি।
সকলের সুন্দর ও সুস্থ জীবন কামনা করছি।
শুভ সন্ধ্যা।
অনবদ্য লেখনী
উত্তরমুছুনএত সুন্দর লেখনী.......❤
উত্তরমুছুন