কবিতা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

"ঘুম আসুক নিকোটিনে"

আমি বৃষ্টি হতে চেয়েছি মরুভূমিতে
আমি রোদের উষ্ণতায় তুষার ভাঙতে
কতবার যেতে চেয়েছি পর্বত শীর্ষে -
আমি আকাশ গঙ্গা প্রদক্ষিণ করতে করতে
হারিয়ে যেতে চেয়েছি বাস্তবের বাইরে,
বহুদূরে বিস্মৃত যাযাবরের মত।

আমি ব্যস্ত পৃথিবীর যান্ত্রিক শব্দে
কিংবা চোখধাঁধানো আলোর ঝলকে
অবিরত ধাক্কায় -আঘাতে -বিষাদে
আমি একাকিত্বের আক্রমণে ক্লান্ত,
বিনিদ্র রাতের নির্বাক অচিনপুরে শান্ত;
আমি মেঘ হতে চাইতাম রাতের আকাশে
বজ্রপাতে নিস্তব্ধতা চিরে আস্ফালন করতে
একঘেঁয়ে রোজনামচা ছিঁড়ে ফেলে।

তোমার দিনলিপির প্রতিটি পাতায়
নতুন কলমে পলাশের গন্ধ
 সকল চরিত্র যেমন মহুয়ার নেশায় আচ্ছন্ন,
তুমি স্বপ্ন দেখতে পারো রঙিন জীবনের
তুমি ঘুমের দেশে তোমার সাজানো সুন্দর
বসন্তে ভাসতে পারো নায়ক হয়ে।

আমি কল্পনায় কবির মত পদ্য বুনতে চেয়েছি
আমি পূর্ণিমায় ঘুমোতে চাই আফিমের টানে
নেশায় মত্ত হয়ে রূপকথা দেখতে চাই -
আজ শ্রান্ত মনে ঘুম আসুক নিকোটিনে।


২.
"একলা পথের হাতছানিতে"

রাস্তাটা কোথায় শেষ হয়েছে দেখা যায়না
দেখা যায়না ব্যস্ত বাসগুলো হর্ন দিতে দিতে
মিলিয়ে যাচ্ছে কোন অদৃশ্যের ঠিকানায়
রাস্তাটার ধারে বিশেষ গাছ নেই,পাখিও নেই
ব্যারিকেডের ওপারে ফুটপাথে বসে আছে
কিছু নরনারী সারাটা দিন-
গ্রীষ্মের ভর দুপুরে জনশূন্য হয়না সেখানে,
প্রখর ক্ষরা তেও টাইমকলে রোজ জল আসে
পাড়ার প্রতিটা বাড়ির অভাব মিটে যায়,
তবুও তাদের অভাব যেন মেটেনা।
চোখ মেলে দেখি ছুটে চলেছি রাস্তা দিয়ে
কার যেন হাতছানিতে একলা সম্মোহিতের মত;
হুস হুস করে গাড়ী ধাক্কা দিয়ে চলে যাচ্ছে
আমি ছুটে চলেছি সামনের মোড়ের অপেক্ষায়!
ফুটপাথ দিয়ে সচরাচর চলিনা আমি
চলবার জায়গা নেই তো! জবরদখল ;
কালের পরিহাসে দিশাহীন যাত্রী আমি নিরুপায়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ

  1. এই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।

    উত্তরমুছুন
  2. নতুন প্রজন্মকে কখনই দেবনা দিশাহীন যাত্রী হতে
    অপূর্ব অপূর্ব

    উত্তরমুছুন