পোস্ট বার দেখা হয়েছে

কংস ছিলেন মথুরার রাজা উগ্রসেনের ( অন্ধক বংশীয় যাদব ) পত্নী পদ্মাবতি ও রাক্ষসরাজ দ্রুমিলের অবৈধ সন্তান। রাক্ষস দ্রুমিলের রক্ত বইত কংসের শিরা- উপশিরায় আর স্বভাবতই কংসের চরিত্রে রাক্ষসদের চরিত্রের উগ্র বৈশিষ্ট্যই দিনে দিনে প্রকাশ পেতে থাকে। আবার মগধের শক্তিশালী রাজা জরাসন্ধের দুই কন্যাকে কংস বিবাহ করেন। জরাসন্ধের সহযোগিতায় রাজা উগ্রসেনকে মথুরার সিংহাসন থেকে সরিয়ে নিজেই মথুরার সিংহাসনে বসেন। জরাসন্ধ সেইসময় খুবই শক্তিশালী রাজা ছিলেন এবং যাদবগোষ্ঠীর বিরোধী ছিলেন। তাই জামাতা কংসের সাহায্যে তিনি যাদবগোষ্ঠীরকে কখনো মাথা তুলে বাঁচতে দেননি। মথুরার সিংহাসনের প্রকৃত উত্তরাধিকারী ছিলেন যাদবশ্রেষ্ঠ উগ্রসেন যাঁকে কংস বন্দি করে মথুরার সিংহাসনে বসেন। কংসও অত্যন্ত যাদববিরোধী ছিলেন। তাই যাদবরা কখনোই চাইত না যে কংসের ঔরসজাত সন্তান পরবর্তীকালে মথুরার সিংহাসনে বসেন। এইকারনে তাঁরা অত্যন্ত গোপনে একটি পরিকল্পনা করেন যে বসুদেব ও দেবকির সন্তান মথুরার সিংহাসনে বসেন। এদিকে কংস তাঁর পিতৃব্য দেবকের কন্যা ভগ্নী দেবকীকে অত্যন্ত ভালবাসতেন । কংস নিজেই বৃষ্ণিবংশীয় রাজা সুরসেনের পুত্র অতি সৎ চরিত্রবান বসুদেবের সঙ্গে বিবাহ দেন। শক্তিশালী যাদবনেতৃবৃন্দ এই বিবাহে খুব খুশি হন। কারণ মথুরার সিংহাসনে এঁদের সন্তান বসুক এটাই চাইতেন কিন্তু কোনোমতেই কংসজাত সন্তান নয়। যাদবগোষ্ঠীর এই পরিকল্পনার কথা দুর্ভাগ্যজনকভাবেই সেইসময় কংসের কানে আসে যখন সদ্য বিবাহিত পত্নীকে নিয়ে বসুদেব নিজ বাসস্থান অভিমুখে যাত্রা করেন । এই কথা শোনামাত্র বসুদেব ও দেবকীকে মথুরার কারাগারে নিক্ষেপ করেন। আর এই অন্ধকার কারাগারেই একদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্ম হয় মাতা দেবকীর গর্ভে।ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অন্ধকার কারাগৃহে জন্ম নেবার এই হল প্রেক্ষাপট। এর পরের ঘটনা প্রায় সকলেরই জানা।
0 মন্তব্যসমূহ