আগুনের ফুল তুমি কবি নজরুল || ফাতেমা খাতুন মুক্তা




পোস্ট বার দেখা হয়েছে
"অগ্নিবীণার ঝংকারে ফোঁটা তুমি আগুনের ফুল" হ্যাঁ সেই আগুনের ফুলই হচ্ছে মৃত্যুঞ্জয়ী কবি কাজী নজরুল। দূর আকাশের সূর্য নামক অগ্নিপিণ্ড যেমন আলো দিয়ে তাপ দিয়ে পৃথিবীকে সতেজ রাখে, জীবন্ত রাখে চলমান রাখে তেমনি কবি নজরুল বঞ্চিত নিপিড়িত মানুষকে ভালবাসার শিক্ষা দেয় , শোষিত মানুষদের মাথা উঁচু করে বাঁচার দীক্ষা দেয়, নারীকে মাথা উঁচু করে বাঁচতে শেখায়, নারী পুরুষের ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষায় অনুপ্রেরণা যোগায়। মানুষকে ভালবাসার জন্য যুগে যুগে কবির রচনাবলী মনের মণিকোঠায় এক অবিনশ্বর মন্ত্রবাণী। যে কবির কাব্যে ছিল চিরযৌবনের জয়ধ্বনি। তাঁর লেখনীর অগ্নিঝরা বাণী পরাধীন জড়তাগ্রস্থ সমাজের বুকে সঞ্চারিত করতো নবযৌবনের জয়গান।
বাংলা ভাষার অন্যতম, অসাম্প্রদায়িক, অনন্য ও অসাধারণ এক কবির নাম কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯—১৯৭৬)। 

বাঙালির জাতীয় কবি, বিশ্বমানবতার এই কবি অখণ্ড ভারতবর্ষের শোষিত ও বঞ্চিত জনারণ্যে অনন্য ও অদ্বিতীয় এক কাব্যপ্রদীপ জ্বেলে দিয়েছিলেন জাতির বন্ধ্যাকালে। এ কারণেই কাব্যযাত্রার প্রথম পদক্ষেপেই তিনি হাতে তুলে নিয়েছিলেন অগ্নিবীণা। যে অগ্নির দ্রোহ-বিদ্রোহ এবং প্রতিবাদের ঝংকারে ঘরে ঘরে মানুষ বুক ফুলিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে দীক্ষিত হয়েছিল উজ্জীবিত হয়েছিল। 

কবি নজরুল ইসলাম সব ধর্মের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। তাঁর একটি কবিতার বিখ্যাত একটি লাইন ছিল - ''মানুষের চেয়ে বড় কিছু নাই, নহে কিছু মহীয়ান"। জাতীয়তবাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য বহুবার কারাবন্দী হয়েছিলেন কবি নজরুল ইসলাম। জেলে বন্দী অবস্থায় লিখেছিলেন 'রাজবন্দীর জবানবন্দী'। তাঁর এইসব সাহিত্যকর্মে সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা ছিল প্রকট। সাংবাদিকতার মাধ্যমে এবং পাশাপাশি তাঁর বিভিন্ন সাহিত্যকর্মে তিনি শোষণের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও সোচ্চার ছিলেন। আর সে কারণেই অসাম্প্রদায়িক নজরুল একহাতে যেমন লিখেছেন ইসলামি গজল তেমনি আরেক হাতে লিখেছেন শ্যামাসঙ্গীত। হিন্দু-মুসলমান মিলনের জন্য সংগ্রাম করেছেন অক্লান্ত। তিনি লিখেছেন: ‘মোরা এক বৃন্তে ফুল হিন্দু মুসলমান / মুসলিম তার নয়নের মণি হিন্দু তার প্রাণ'। সৃষ্টিশীলতায় কবি অনুভবের বিচরণ সমৃদ্ধ হতো বিচিত্র অনুভূতির অনুরণনে। লেখার জগতে এত বিচিত্র রূপে কখনো কোনো কবি ধরা দেননি আগে।


দ্রোহ ও প্রেমের কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রেমেও পড়েছিলেন বারবার। প্রেমিকাদের জন্য লিখেছেন অজস্র গান, কবিতা, ঘটিয়েছেন নানা ঘটনা। তাইতো তিনি যেমনি ছিলেন দ্রোহের কবি, ঠিক তেমনি ছিলেন প্রেমের কবিও। নজরুল আমাদের যুদ্ধদিনের প্রেরণার কবি। মানবপ্রেমে সোচ্চার হয়ে পরাধীনতাকে উচ্ছেদ করতে নজরুল যেমন লিখেছেন বিদ্রোহী কবিতা ঠিক তেমনি নারী প্রেমে আকৃষ্ট হয়ে নিজেকে সমর্পন করছেন বহুল কবিতা গানের বহু চরণে চরণে। 

অগ্নিঝরা সাহিত্য সাধনার মাধ্যমেই তিনি দেশের মানুষের অন্তরে আজো স্থায়ীভাবে আসন লাভ করে আছেন। আজ অবধি এমন একটা দিন নাই যে, তাঁকে কোন না কোনভাবে স্মরণ করা হয় না। তাই যথার্থ অহঙ্কারেই তিনি বলতে পেরেছিলেন ‘ আমি চিরতরে দূরে চলে যাব তবু আমারে দেব না ভুলিতে’। সত্যিকার অর্থেই তিনি চিরস্মরণীয়, চিরবরণীয় এবং বাঙালি জাতির গর্ব। আমরা তাইতো গর্বভরে ও উচ্চ মর্যাদার সাথে এখনো কবিকে প্রতিদিনই স্মরণ করি।


কবি লেখনীর আলোচনা সমালোচনা যুগে যুগে বহুভাবে আজ অবধি হয়ে আসছে, ভবিষ্যতেও হবে। কবি লেখনীর গুণগানই হোক বা দুর্নাম কোনোটারই শেষ হবার নয়, বিভিন্ন আঙ্গিকে বিভিন্ন রূপে চলছে চলবেই। 
সবচেয়ে যে ভাবনাটি আজও অনেকের মনে ঝড় তোলে তা কখনো ফুঁসে উঠেছে কখনো চাপা পড়েছে কালের অতলে।
যে কবির কাব্যে ছিল মৃত্যুঞ্জয়ী চির যৌবনের জয়ধ্বনি, অগ্নিবীণার সুর ঝংকার, যিনি ধীর স্থির অচঞ্চল বাংলা কাব্যে বয়ে এনেছিলেন দুর্বার কালবৈশাখীর ঝড়, যিনি বাংলা কাব্যের শান্ত সুন্দর পরিবেশে তৃষ্ণার্ত মানবের সুপ্ত ব্যথাকে অগ্নি স্ফুলিঙ্গের মত ছড়িয়েছিলেন, শুষ্ক মরুদ্যানে ফুটিয়েছিলেন ফুলের হাসি, ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তিনিই কেন উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে অচৈতন্য ও অথর্ব হয়েছিলেন!! 

প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কেন প্রিয় তা বলে বোঝানো যাবে না। কেন তাঁর লেখা প্রিয়, কেন হৃদয় মন ছুঁয়ে যায় তার ব্যাখ্যা যতভাবে বলি না কেন ছোটই হবে। 

কিন্তু প্রিয় কবিকে নিয়ে যে ভাবনাটি আজো মনে ঘুরপাক খায়, আমাকে ও কবি ভক্তবৃন্দদের ক্ষতবিক্ষত করে তা হচ্ছে --------- কবি কেনো লিখেছিলেন, " ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি"!!! তবে কি তিনি জানতেন যে তিনি একসময় নির্বাক হয়ে যাবেন, নিজেকে গুটিয়ে নিবেন।
কবি প্রয়ানের ৪৬ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও যে প্রশ্নটি ঘুরেফিরে আজও কবিভক্ত চিন্তাশীল মানুষদের প্রশ্নবিদ্ধ করে যাচ্ছে, কিসের দহনে কবি নজরুল বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন? এ নিয়ে বিতর্ক ব্রিটিশ শাসনকাল অর্থাৎ ১৯৪২ সাল থেকেই। ৪২ সালের ৯ জুলাই কলকাতা বেতার কেন্দ্রে প্রোগ্রাম চলাকালীন হঠাৎই কবি নজরুল অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার জিভ আড়ষ্ট হয়ে জড়িয়ে গিয়েছিল। থরথর করে কাঁপছিল তার ঠোঁট। মুখ দিয়ে কোনো স্বর বের হচ্ছিল না। 
বিশ্রাম ও চিকিৎসার জন্য ২০ জুলাই কবিকে নিয়ে যাওয়া হয় বিহারের মধুপুরে। সবাই ভাবলেন কবি ঠিক হয়ে যাবেন। না, কবি ঠিক হননি। ফিরে আসেন কলকাতায়। 
১৯৪২ সালের জুলাই মাসে তার রোগ যখন সবার চোখে প্রকাশ পেল তখন চিকিৎসা হয়েছিল বটে; কিন্তু প্রাথমিক চিকিৎসা অত্যন্ত অপরিমিত ও অসম্পূর্ণ হয়েছে ( এটা সে সময়কার ডাক্তারদের অভিমত)। আবার কোনো কোনো ডাক্তার বলেছিলেন যে বড় দেরি হয়ে গেছে।
যিনি নজরুলের অসুস্থতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কথা বলেছেন- তিনি হলেন এই উপমহাদেশের চিকিৎসা শাস্ত্রের এক অত্যন্ত পরিচিত ব্যক্তিত্ব। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নিউরো সার্জন ড. অশোক কুমার বাগচী। ইনি সর্বপ্রথম নজরুলের অসুস্থ জীবন সম্পর্কে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আলোকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দাখিল করেছেন এবং একটা বড় সময় যিনি নজরুল পরিবারের সান্নিধ্যেও ছিলেন। ড. বাগচির মতে,"১৯৪২ সাল থেকে কবির সঠিক চিকিৎসা হলে তিনি বাকরুদ্ধ থাকতেন না। সঠিকভাবে তাঁর চিকিৎসাই হয়নি"। ভিয়েনার চিকিৎসকরাও বলেছিলেন, ১৯৫৩ সালে এসে নজরুল চিকিৎসা বিজ্ঞানের বাইরে চলে গেছেন। তখন আর কিছু করার নেই চিকিৎসকদের। 

১৯৪১ সালে ৫ ও ৬ এপ্রিল কলকাতা মুসলিম ইন্সটিটিউট হলে বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতির রজত জুবলী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এই অনুষ্ঠানে নজরুলকে সভাপতি করা হয়। সেদিনের সেই সভাপতির ভাষণই ছিল নজরুলের জীবনের শেষ অভিভাষণ। ‘যদি আর বাঁশী না বাজে’ শিরোনামে অভিভাষণটি গ্রন্থিত করা হয়েছে। ভাষণের উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ নিম্নে তুলে ধরা হলো:
"যদি আর বাঁশি না বাজে- আমি কবি বলে বলছিনে, আমি আপনাদের ভালবাসা পেয়েছিলাম সেই অধিকারে বলছি-আমায় আপনারা ক্ষমা করবেন ,আমায় ভুলে যাবেন।
বিশ্বাস করুন আমি কবি হতে আসিনি আমি নেতা হতে আসিনি, আমি প্রেম দিতে এসেছিলাম। সেই প্রেম পেলামনা বলে আমি এই প্রেমহীন নীরব পৃথিবী থেকে নীরব অভিমানে চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম। যেদিন আমি চলে যাব সেদিন হয়তোবা বড় বড় সভা হবে। কত প্রশংসা কত কবিতা বেরুবে আমার নামে, দেশপ্রেমিক-ত্যাগী, বীর-বিদ্রোহী - বিশেষনের পর বিশেষন, টেবিল ভেঙ্গে ফেলবে থাপ্পর মেরে,বক্তার পর বক্তা!
এই অসুন্দরের শ্রদ্ধা নিবেদনের শ্রাদ্ধ দিনে বন্ধু তুমি যেন যেওনা। যদি পারো, চুপটি করে বসে আমার অলিখিত জীবনের কোন একটি কথা স্মরণ করো, তোমার আঙ্গিনায় বা আশেপাশে যদি একটা ঝরা, পায়ে পেষা ফুল পাও , সেটিকে বুকে চেপে বলো, বন্ধু আমি তোমায় পেয়েছি—-“ তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু আর আমি জাগিবনা,কোলাহল করি সারা দিনমান কারো ধ্যান ভাঙ্গিবনা, নিশ্চল-নিশ্চুপ, আপনার মনে পুড়িব একাকী গন্ধ বিধুর ধূপ!" 

নজরুল জীবনে প্রদত্ত শেষ ভাষণের এই খণ্ডিত অংশে গভীর মনোনিবেশ করলেই তাঁর পুঞ্জীভূত অভিমানের রেশ অনুধাবন করা যাবে যে কারো পক্ষেই। 

১৯৪২ সালের ১০ জুলাই অকস্মাৎ বাকরুদ্ধ হওয়ার পর নির্বাক অবস্থায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ৩৪ বছর ১ মাস ২০ দিন বেঁচেছিলেন। এরপর ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ৩৪ বছর তাকে সাহিত্যকর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়েছে। না জানি কতটা যন্ত্রণায় কবি নজরুল চিরতরে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। কী এমন হয়েছিল, যা তার বাকি জীবনটাকে তছনছ করে দিয়েছিল। পুরো ৩৪টা বছর সৃষ্টিশীলতা থেকে আড়াল করে দিয়েছিল কবিকে। যদি সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হতো তবে ভারত উপমহাদেশ ও বাংলাদেশের বৃহত্তর বাঙালি জাতিকে, এমনকি বিশ্বের সব সাহিত্যপ্রেমী মানুষকে কবি নজরুলের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও সাহিত্যকর্ম থেকে বঞ্চিত হতে হতো না। ৩৪ বছরের এই পরাজিত অধ্যায় শুধু কবি নজরুলের একার নয়, এই পরাজিত অধ্যায় বিশ্বের সব নজরুল ভক্তদের জন্য এক বিশাল অনুশোচনা এক বিশাল হাহাকার।


আজ পর্যন্ত সংগৃহীত কবির লেখা গান, কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ ও নাটক সবই দেশপ্রেম, ধর্মাচার, অসাম্প্রদায়িকতা, ভিনদেশী দখলদারদের তোষামোদি- গোলামী, মানবপ্রেম ইত্যাদিতেই অধিক পরিমাণে সমৃদ্ধ। সবধরনের প্রসঙ্গ নিয়েই কবি তৎকালীন সময়ে যা যা লিখে গেছেন তা নিঃসন্দেহে সে যুগেই যথেষ্ট আধুনিক মননের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমাদের এখনকার যুগের কোনো কবি লেখকই আজ পর্যন্ত সেই আধুনিক ধ্যান জ্ঞানের লেখা লিখে উঠতে পারেনি বা প্রকাশ করতে পারেনি ভয়ে। পাছে সমালোচনার মুখে পড়তে হবে। যে কোন কবিই একজন মানুষ, স্বাধীন মানুষ। প্রতিটি মানুষের মতো কবিদেরও নিজ মত প্রকাশের অধিকার থাকতে হবে (অবশ্যই যে লেখনীর মাধ্যমে যাতে কোন দেশ জাতি ধর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে না)।

কবি নজরুল ইসলাম নিজ মত প্রকাশে সাহসী একজন আধুনিক মানুষ ছিলেন। তিনি কবি হলেও তিনি একজন মানুষ, ফেরেশতা নন। তাঁর লেখনীর ভাণ্ডার দ্বারা সমাজ, দেশ, জাতি বহুভাবে উপকৃতই হয়েছে। তিনি তাঁর লেখনীর দ্বারা কেবল অপশক্তির বিরুদ্ধেই রুখে দাঁড়িয়েছেন, সহজ সরল ভীরু মানুষের ঘুম ভাঙাতে নিজ কলমকে বহু শব্দের অলঙ্কারে সুসজ্জিত করেছেন, নানা ধরনের ছাঁচে নিত্যনতুন রূপ দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন, কবিতায় ও গানে রূপকধর্মী অনেক বাক্য প্রয়োগ করেছেন। অনেক বিরুদ্বাচরণকারী যার সঠিক ব্যাখ্যা না দিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ ও হুজুগে মানুষদের শুধু বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনাচারের বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল চিরদুর্নিবার কিন্তু দেশ, জাতি ও ধর্মের সঠিক মূল্যায়নকারীদের বাড়া ভাতে তিনি ছাই দেননি কোনোদিনই । চরম মুহুর্তে ঠিক যেনো আগুনেরই ফুল ছিল প্রিয় কবি কাজী নজরুল। যে ফুল অহরহ এ অঞ্চলে সে অঞ্চলে ফুটে না, পৃথিবী নামক বৃক্ষে শত সহস্র বছরে হঠাৎ একটিই ফুটে। যে আগুনের ফুল সমগ্র পৃথিবীকে শুধু আলোকিতই করে। তবুও প্রাণের কবি ভালোবাসার কবি কেনো আজো এতোটা বিতর্কিত, এতোটাই সমালোচিত !!!!!!!! 

অথচ ব্যক্তিমাত্রই জানে, প্রতিটি আবেগী জীবনের নিজস্ব একটা জগৎ থাকে। সুচারুভাবে বলতে গেলে বলতে হয় যে, দার্শনিক মনোভাব, গভীর আবেগ আর মহান কাজ এই তিনটি প্রক্রিয়াই একইসাথে অতি সূক্ষ্ম ভাবে কাজ করে আবেগী জীবনের বিভিন্ন বাঁকে। আবেগী মানুষের আবেগপ্রবণতা সাধারণ বিশ্লেষণের বাইরেও অনেক বেশি অর্থবহ। তাঁদের আবেগকে চেনা যায় তাঁদের প্রতিফলনে, সে আলোতে তাঁরা নিজেদের জগতকে আলোকিত করে। তাঁদের জগত মনের বানানো জগত, মনের আচরণ। এঁদের নির্ণয় করা যায় না, এঁরা নিয়ম ভাঙে নিয়ম গড়ে। এঁরা ‘ ভবিষ্যতের মত অস্পষ্ট', ‘বর্তমানের মত ক্ষণস্থায়ী', আর সৌন্দর্য্যের অলংকারে অলংকৃত অথচ অর্থহীনতার বৈরিতায় অভ্যস্থ ও চির সহনশীল। লোকচক্ষুর অন্তরালে অন্তরীণ রাখে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিমান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ