পোস্ট বার দেখা হয়েছে
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১জ্যৈষ্ঠ অবিভক্ত বাংলায় বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় "জৈষ্ঠর ঝড়" হয়ে কবির আবির্ভাব ঘটেছিল। সে ঝড় চিরতরে থেমে গিয়েছিল বাংলাদেশের ঢাকার পিজি হাসপাতালের বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিনে।১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ই ভাদ্র .. ১৯৭৬ সালের ২৯শে আগষ্ট।
অঙ্কের হিসেবে ওনার জীবনকাল ৭৭ বছরের। তবে সৃষ্টিশীল জগতে পরিপূর্ণ ছিলেন মাত্র ২৩ বছর।
কবি কাজী নজরুলের এই ২৩ বছরের সাহিত্য জীবনের সৃষ্টি কর্মগুলো বাংলা ভাষার অমূল্য সম্পদ। যে কারণে বাঙালি জাতি যথাযোগ্য মর্যাদায়, গভীর শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় স্মরন করে এবং করবে।
বিনম্র শ্রদ্ধা ও গভীর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে কবি সিক্ত হোন প্রতিটি বছর।
তিনি ছিলেন আপোষহীন, সত্যকে সত্য, আর মিথ্যাকে মিথ্যা বলতেন দৃঢ কন্ঠে, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে গেছেন সুস্থ জীবনে। কবিকে উৎখাত করার আন্দোলন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে,কবিকে গ্রেফতার করা হয়, সেখানে কবি জবানবন্দিতে
বলেছিলেন, আমি রাজ বিদ্রোহী তাই আমি আজ কারাগারে বন্দি, কিন্তু আমি কবি,আমি অপ্রকাশ সত্যিকে প্রকাশ করে সামনে আনি।অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত আমি।শোষিত ও নিপীড়িত মানুষের বঞ্চনার বিরুদ্ধে দীপ্ত শিখার মতো ক্ষোভে জ্বলে উঠেছিল প্রিয় কবি নজরুল। সাম্প্রদায়িকতার বিষকে টেনে ছিড়েছিলেন।ধর্মনিরপেক্ষতা ও মানবতার অমৃত বাণী ছিলো তার খুব প্রিয়। তিনিই আমাদের বিদ্রোহী কবি এবং গানের পাখি বুলবুল, কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
তারপর আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন কবি।
কবি নজরুল যখন বন্দি ছিলেন তখন ১৯২৩ সালের ২২শে জানুয়ারি.. সেই সময় বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ তার বসন্ত গীতিনাট্য গ্রন্হটি নজরুলকে উৎসর্গ করেছিলেন, আর এ আনন্দে জেলে বসে নজরুল ইসলাম "আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে" কবিতাটি রচনা করেন।
কবি নজরুল মাত্র ২৩ বছরে শিল্প সাহিত্য বাংলা তথা বিশ্ব পরিমন্ডলে এক অমূল্য সম্পদ। তিনি ছিলেন একাধারে কবি,সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সৈনিক। বৃটিশ দুঃশাসনের সময়কালে পরাধীন এ দেশের মানুষ যখন নিপীড়িত, নির্যাতিত, এ পরাধীনতার নাগ পাশ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য স্বাধীনতার আন্দোলন করেছিল সেই সময়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে আর্বভাব ঘটে।সেই সময়ে কবির সৃজন "বিদ্রোহী", "প্রলয়োল্লাস" "খেয়া পারের তরণী " "শিকল পরা ছল"দূর্গম গিরি কান্তার মরু " প্রভৃতি গান উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন প্রবল ভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলো। সাংস্কৃতিক, সামাজিক, ও রাজনৈতিকে তার অসামান্য অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে। এই অসাধারণ প্রতিভাবান কবি স্বীয় মেধা ও মননের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে সৃষ্ট কবিতা, গান, উপন্যাস, প্রবন্ধ ইত্যাদি সাহিত্য কর্মের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যকে করেছেন সমৃদ্ধ। তিনি একাধারে সংগীত রচয়িতা,
সুরকার, সংগীত শিক্ষক,সংগীত পরিচালক সবই ছিলেন। অসাম্প্রদায়িকতার মূর্ত প্রতীক ছিলেন কবি নজরুল। সনাতন ও ইসলাম ধর্মের সভ্যতা, দর্শন,দেশাত্মবোধক এক ঐক্য সূত্রে গ্রথিত করেছিলেন তিনি।
কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে মাত্র ১০ বছর বয়সেই পরিবারের ভার বহন করতে হয়েছে তাকে। তখন ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন।কারাবন্দী থাকা অবস্থায় ও তার সৃষ্টিশীল জগৎ থেমে থাকেনি।বহু গান, কবিতা, উপন্যাস, ছোট গল্প সহ অসংখ্য সৃষ্টি করেছেন তিনি।
১৯৭২ সালে কবি বাংলাদেশের তৎকালীন শেখ মুজিবুর রহমান কবিকে স্বপরিবারে ।
ঐ দেশে নিয়ে যান এবং সে দেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।
বাংলা সাহিত্য বিশেষ অবদানের জন্য কবিকে ১৯৭৪ সালে সম্মান সূচক ডিলিট উপাধি প্রদান করেন এবং সে দেশের জাতীয় সম্মান ২১শে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।

0 মন্তব্যসমূহ