পোস্ট বার দেখা হয়েছে
"চেতনা এবং নজরুল"
সৌম্য কর
কাচের ওপারে একটা ছবি।
আমরা তার চারপাশে গুঁজে দিই
সম্মানের বরাদ্দ মালা।
মাইক বাজলেই
বিদ্রোহ বড় সংক্রামক মনে হয় আমাদের,
উচ্চারণ করি ‘নজরুলের সাম্যচিন্তা’—
যেন ওইটুকুই আমাদের একমাত্র দায়।
তারপর সভা ভাঙে, শব্দেরা কমে এলে
পাপড়িগুলো নিজের নিয়মেই
ঝরে পড়ে মেঝেতে।
আমরা আবার রাস্তায় নামি,
বুকের ভেতর সন্তর্পণে ফিরিয়ে আনি
কাঁটাতার, পদবি আর ঈশ্বরের ভয়।
দেওয়াল থেকে মুখটা সরে যায় না,
ছবির চোখে জমে থাকে
আমাদের সুশৃঙ্খল ভণ্ডামি।
আসলে কোনো দ্রোহ নেই আমাদের,
কোনো জাগরণও না।
আমরা ফ্রেমের মাপটা জেনে গেছি—
যেখানে বছরে একদিন চেতনাকে সাজিয়ে রেখে
নিষ্কৃতি পাওয়া যায়।
====
কাজী নজরুল ইসলামের প্রয়াণ
দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি
হামিদা বানু
ঘরে ঘরে আজ জেগে আছে সঞ্চিতা,
উন্নতশির আদিকবি, নিদ্রাবিহীন সেথা।
নিন্দুকেরা নিন্দে করে, অজ্ঞতায় করে বাস,
উল্টো স্রোতে মহীয়ান তুমি, আমাদের আশ্বাস।
আত্মকথনে উদ্ভাসিত সীমার বাঁধন খুলে,
ভাবাবেগে তিনি উদ্দাম হন বাসুকির ফণা তুলে।
ইস্রাফিলের শিঙার মতো উজ্জ্বল, সুমধুর,
প্রশান্তি বা অশান্তিতে বৈরাগ্যের সুর।
বিধাতার খেয়ালি সৃষ্টির খেয়ালি সেই ধ্যান,
সাইক্লোন বা মাইনের মতো শিকলভাঙার গান।
“দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার”
ভূগোলের সাথে ইতিহাস জেগে স্বচ্ছ হুঁশিয়ার।
অখণ্ড চাঁদ যেমন ডাকে এক আকাশের নিচে,
লেখনী তোমার দৃঢ় জয়গান জাগতিক গ্লানি মুছে।
সাম্যের কবি, প্রেমের কবি, কাব্যের সুরনদী,
“এক বৃন্তে দুটি কুসুম”-সেরা সম্প্রীতির হৃদি।
বড়ো বেদনার সোমরসে ডুবে,
প্রেমিক ওগো, জয়বাণী।
দুর্বার প্রাণে লেটোর গানে
সাহারাতে যুগ যুগবাণী।
আজিও বাতাসে দূষিত হুতাশে বিদ্বেষ ঝরে পড়ে,
তারাও হাসে না, হাসতে দেয় না, পোড়ায় এবং পোড়ে।
শত জনমের বঞ্চিত সুধা, উত্তরণের বীর,
দুখী অপরূপ রূপের কুমার, চির উন্নতশির।
শুদ্ধ ফুলের মালাতে গেঁথেছো বিরহের জয়গান-
“মুসলিম তার নয়নমণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।”
একই বৃন্তে প্রমীলা দেবী, নজরুল ইসলাম,
আলোকিত, মহতি আকাশে- শ্রেষ্ঠ সুরের ধাম।

1 মন্তব্যসমূহ
সব লেখা সুন্দর
উত্তরমুছুন