রথযাত্রা || জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

আবার ঘুরছে রথের চাকা।


আষাঢ়ের আকাশে শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, ঘণ্টার মঙ্গলসুরে জেগে উঠেছে জনপদ।


হাজার হাজার হাত একসঙ্গে ধরেছে রথের দড়ি— কিন্তু শুধু কি কাঠের সুসজ্জিত রথ টানে মানুষ?


না... মানুষ টানে নিজের অন্তরের রথও।

যে রথ অহংকার থেকে বিনয়ে, 

অশান্তি থেকে শান্তিতে, অন্ধকার থেকে আলোর অভিযাত্রী করে।


শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা— তিনটি রথে যেন তিনটি চিরন্তন আহ্বান।

শক্তি, স্নেহ, আর সর্বজনীন প্রেম।


শাস্ত্র বলে— রথে বিরাজমান জগন্নাথের দর্শন মানুষকে মুক্তি পথের অভিযায় শামিল করে।


কিন্তু তারও বড় কথা— 

যে হৃদয় ভক্তিতে জেগে ওঠে, 

যে জীবন সত্য, সেবা ও প্রেমে সমর্পিত, সেই জীবনই হয়ে ওঠে ঈশ্বরের প্রকৃত মন্দির।


পুরীর মহারথ শুধু এক ঐতিহ্য নয়, হাজার বছরের এক চলমান শাশ্বত মানবযাত্রা।


চৈতন্য মহাপ্রভুর প্রেমধারা, অগণন মনি - ঋষিদের সাধনা, অগণিত ভক্তের অশ্রু, 

সব মিলিয়ে রথযাত্রা আজও বলে—

"ঈশ্বর দূরে নন, তিনি মানুষের মধ্যেই বিরাজমান।"


আজ যখন পৃথিবী হিংসা, বিভেদ, লোভ আর অহংকারে ক্ষতবিক্ষত,

তখন রথের চাকা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—

ধর্ম শুধু বাহ্যিক আচরণ নয়, 

ধর্ম হলো নিজেকে প্রতিদিন আরও সত্য, আরও নির্মল, আরও মানবিক করে তোলার এক নিরন্তর সাধনা।


এসো, রথের দড়ি ধরার আগে নিজের হৃদয়টাকেও প্রসারিত করি সত্য ও সুন্দরের  দিকে।


ভক্তি যেন কেবল প্রণাম ও উৎসবেই সীমাবদ্ধ না থাকে— 

সে বিকশিত হোক মানবসেবায়, রাষ্ট্রের কল্যাণে, প্রকৃতিবান্ধব শপথে,  প্রতিটি শুভকর্মে।


কারণ ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে বড় পথ মানুষকে ভালোবাসা, আর্ত মানুষের সেবা।


তাই আজ প্রার্থনা—

প্রত্যেক মানুষের অন্তরে জেগে উঠুক আত্মচেতনার রথ।


অহংকারের চাকা যাক থেমে। 

সন্তুষ্টি আসুক জীবনে।

করুণার চাকা ঘুরুক।

মানুষ মিলিত হোক পরমাত্মার 

অসীম প্রেমে।


এই পৃথিবী হয়ে উঠুক— এক বিশাল নন্দীঘোষ, যেখানে প্রতিটি হৃদয় উচ্চারণ করবে—

সুস্থ সমাজবদ্ধ জীবনের অঙ্গীকার।

বিশ্বশান্তির প্রার্থনা।



জয় জগন্নাথ।

জয় মানবতা।

জয় চিরন্তন প্রেম।

---------------------------------------------

পুণ্য রথযাত্রার । ১৬ জুলাই ২০২৬। কোলকাতা ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ