পোস্ট বার দেখা হয়েছে
প্রতিদিন তোমাকে আমি নতুন করে আবিষ্কার করি।
অপার বিস্ময়ে লক্ষ্য করি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এক পল্লবিত প্রাণের মহীরুহ হয়ে ওঠা।
বর্ণালী থেকে ছিটকে আসা আশ্চর্য সব দ্যুতির মতো তোমার বহুমাত্রিক সৃষ্টি ছুঁয়ে থাকে আমাদের।
আনন্দ- শোকে, জয়-পরাজয়ে, প্রেম- বিরহে, সাফল্য- ব্যর্থতায়, জীবনের প্রতিটি অনুভবে আমরা ফিরে ফিরে আসি তোমার কাছে।
কুয়াশায় যখন রুদ্ধ প্রবাহের স্বপ্ন।
অন্যায় যখন ভাসিয়ে দেয় পরম্পরার গৌরব
মানুষের চরম আর্তিতে যখন বাতাসে ভাসে দীর্ঘশ্বাস বিশল্যকরণীর মতো তোমার শাশ্বত উচ্চারণ
নতুন করে পথ দেখায় মানুষকে।
একদিন যারা ভুল বুঝে ফিরিয়েছিল মুখ
বিদ্ধ করেছিল কৌশলী খেলায়
বিস্মৃতির অন্ধকারে নিতান্ত অনাদরে হারিয়ে গেছে তারা।
প্রকাশিত সূর্যের মতোই, অনিবার্য
প্রবলভাবে জেগে আছো।
তোমার ছবিতে পড়েনি সময়ের এতোটুকু ধুলো।
প্রযুক্তি উৎকর্ষ নিয়ে পৃথিবী ছোট হচ্ছে প্রতিদিন
তবু মানুষ আজ বড় বেশি বিচ্ছিন্ন একাকী।
ক্রমশ শিথিল হচ্ছে সেই বন্ধন।
শুভেচ্ছা সফরে বারে বারে ডাক দিয়েছো মানুষকে। নিজেকে জানার মধ্যে দিয়ে অসীমকে জানার মন্ত্র শিখিয়েছো তুমি।
মনুষ্যত্বের উদ্বোধনে তোমার ক্লান্তিহীন পথ চলা আমাদের কাছে জীবন্ত বিস্ময়।
প্রতিদিন তোমাকে আমি নতুন করে আবিষ্কার করি, রবীন্দ্রনাথ।
--------------------------------------------
স্বনির্বাচিত ১০০ আবৃত্তিযোগ্য কবিতা-
জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়
আনন্দ প্রকাশন, কলকাতা আন্তর্জাতিক পুস্তক মেলা ২০২৩

0 মন্তব্যসমূহ