পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কবিতা লেখার আগে গোলাপজলে শুদ্ধ কোরো অন্তর।
কবিতা বলার আগে এসো অবগাহন করে আসি কাছের জলাশয়, নদী কিংবা সমুদ্রে।
মাটির প্রদীপ জ্বেলে শপথ নিই সত্য ও ন্যায়ের।
কপালে এঁকে নিই লাবণ্য চন্দন।
অপবিত্র হয়ে কবিতা অঙ্গনে যেও না কখনও।
কবিতার শরীরে থাকে ঐশী আলো, শুদ্ধতার নির্যাস।
কবিতা লেখার আগে জাত পাত ধর্ম ভুলে প্রান্তিক মানুষের দাওয়ায় এসে বসো।
কবিতা লেখার আগে কলমকে স্পর্শ করাও মাটি।
কবিতা লেখার আগে বৃক্ষবন্দনা কোরো।
কবিতা লেখার আগে পাখিদের জন্য রাখো শস্যদানা, এক পাত্র জল।
কবিতা, সত্য ও সুন্দরের অবিনাশী বীজমন্ত্র এক।
সময়ের শিল্পীত স্থাপত্য।
হৃদয়ের গহন থেকে উঠে আসা অস্তিত্বের সংবেদী কণ্ঠ..
কবিতা লেখার পর বসুমাতাকে কোরো প্রণাম।
বাতাসে ভাসিয়ে দাও অসীম কৃতজ্ঞতা।
তুমি আমি পৃথিবীর মালিক নই, ক্ষণিকের অতিথি মাত্র।
অক্ষর ও কর্ম আমাদের দিতে পারে অমরত্ব।
আমরা নেহাতই চলমান অক্ষরসাধক এক।
প্রেম ও প্রতিবাদের প্রজ্জ্বলিত আগুন হলো কবিতা।
এসো, সেই আগুন স্পর্শ করে আমরা হিংসা, দ্বেষ, সমস্ত অনাচার মুছে পৃথিবীকে আনন্দতীর্থ করে তুলি।
সহমর্মিতায় প্রতিটি মানুষকে দেবার চেষ্টা করি, মানবিক মর্যাদায় বাঁচার সুযোগ।
এক আবহমান রূপকথার নাম কবিতা ।
এক সর্বগ্রাসী ভালোবাসার মন্ত্র কবিতা।
এসো, জাগরণের ভোরে আমরা আমাদের শিকড়ের কাছে নতজানু হয়ে, চেয়ে নিই আশীর্বাদ।
মানবতার প্রহরী হয়ে মশাল হাতে জেগে থাকুক বিশ্বের প্রতিটি সত্যবদ্ধ উচ্চারণ।
ভোরের লাবণ্য মেখে ডানা মেলুক
আমাদের লালিত স্বপ্ন, চিরন্তন কথামালা।
-----------------------------------------------
কাব্যগ্রন্থ : ঘুম ভাঙানিয়া তুমি
(আনন্দ প্রকাশন, কলকাতা)
প্রকাশ : আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা ২০২৫

0 মন্তব্যসমূহ