পোস্ট বার দেখা হয়েছে
' সমাজ ' – শব্দটি যেন এক জ্যামিতিক কাঠামো, যার প্রতিটি দিক নির্ধারিত হয়েছে বহু পুরনো রীতিনীতি ও প্রথার দ্বারা। এই সমাজে পুরুষ ও নারী একসঙ্গে বসবাস করলেও, নারীর জীবনের প্রতিটি বাঁকেই সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। বিশেষত, একজন নারী যদি বিধবা হন বা তালাকপ্রাপ্ত হন, তবে সেই চোখে সমাজের চাহনি অনেক বেশি তীক্ষ্ণ, অনেক বেশি প্রশ্নবিদ্ধ।একজন বিধবা নারীর জীবনে স্বামীর মৃত্যু কেবল ব্যক্তিগত শোক নয়, সমাজের চোখে সে যেন নিজের জীবন থেকে সমস্ত রঙ হারিয়ে ফেলে। তাকে বলা হয় “অশুভ”, তাকে উৎসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখা হয়, এমনকি অনেক সময় তাকে নতুন জীবন শুরু করার স্বাধীনতাও দেওয়া হয় না। সামাজিক আচরণে এক ধরনের করুণা থাকে, যা আদতে অপমানের নামান্তর। ‘স্বামীহারা’ হয়ে ওঠে তার মূল পরিচয়, তার শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিত্ব, স্বপ্ন – সব যেন হারিয়ে যায় এই এক পরিচয়ের ছায়ায়।
অন্যদিকে, তালাকপ্রাপ্ত নারীকে সমাজ দেখে আরেকরকম চোখে। এখানে করুণা নয়, বরং থাকে বিচার ও সন্দেহ। প্রশ্ন ওঠে – “কেন টিকল না সম্পর্ক?”, “নারী হিসেবে সে কি ব্যর্থ?”। অনেক সময় তাকে স্বার্থপর, আধুনিকতার নামে বেপরোয়া বা পরিবারবিরোধী বলে চিহ্নিত করা হয়। অথচ একজন পুরুষ যদি তালাকপ্রাপ্ত হন, তাহলে তার জীবনে আবার বিয়ে, নতুন সম্পর্ক কিংবা স্বাভাবিক জীবনের সুযোগ অবাধভাবে মেলে।
এই ভেদাভেদ শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা সমাজকেই পিছিয়ে দেয়। একজন নারী তার স্বামীর অনুপস্থিতিতেও পূর্ণাঙ্গ, শক্তিশালী ও আত্মনির্ভর হতে পারেন – এই সত্যকে সমাজের অনেক অংশ এখনো মেনে নিতে পারেনি।
তবে পরিবর্তনের হাওয়াও বইছে। আজকের নারীরা শিক্ষিত, সচেতন, সাহসী। মিডিয়া, সাহিত্য, ও সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসছে। শহরাঞ্চলে অনেক নারী নিজেদের মতো করে নতুন জীবন শুরু করছেন, সমাজের বাঁধা নিয়ম ভেঙে স্বাধীনতাকে বেছে নিচ্ছেন।
এই পরিবর্তন আরও ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের বুঝতে হবে, নারীর মর্যাদা তার বৈবাহিক অবস্থার উপর নির্ভর করে না। তার স্বপ্ন, সাহস, ও জীবনবোধই তার প্রকৃত পরিচয়।
0 মন্তব্যসমূহ