'চিত্ত যেথা ভয়শূন্য -- || প্রিয়াঙ্কা রায় চৌধুরী সান্যাল




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

বর্তমান শতাব্দীতে যখন সাম্প্রদায়িকতা তার চূড়ান্ত রুপ ধারণ করেছে, ধর্মীয় গোঁড়ামি, জাত -পাতের লড়াই, সাম্রাজ্যবাদ মাথা চারা দিচ্ছে তখন ভারত তাঁর সনাতন শিক্ষাগুরুদের শিক্ষাকে সার্থক রুপ দিতে মরিয়া। ভারত কেমন যেন স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, সুভাষচন্দ্রের মতধারাকে স্মরণ করে এগিয়ে চলেছে গৌরবজ্জ্বল এক অধ্যায়ের দিকে।


                              আজ ২৫ শে বৈশাখ, প্রখর বৈশাখের রবি যেন সমগ্র ভারতকে তাঁর প্রবল তেজে বলিয়ান করতে এসেছে। রবীন্দ্রনাথ একসময় বলেছিলেন ভারতবর্ষকে জানতে হলে বিবেকানন্দকে জানতে হবে। আমার মনে হয় ভারতবর্ষের প্রাচীন শিক্ষাব্যবস্থার উৎকৃষ্টতা ও আশ্রমিক শিক্ষাব্যবস্থার অপরিহার্যতাকে আধুনিক রুপ দিতে পেরেছিলেন গুরুদেব, শান্তিনিকেতন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারতেও ব্রিটিশদের চোখে চোখ রেখে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পিছপা হননি। তাই তো তিনি সবার চেয়ে আলাদা, সকলের প্রিয় বিশ্বকবি। তিনি কঠোর অথচ কল্যাণময়। ঠাকুরপরিবারের প্রাচুর্য তাঁকে একাধারে যেমন আভিজাত্য দিয়েছিলো তেমনি মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের আশ্রমিক শিক্ষা কবিকে সর্বত্যাগী হয়ে সমাজের কল্যাণ সাধনেও উদ্দীপ্ত করেছিল। তাইতো তাঁর স্বপ্নের শান্তিনিকেতনের জন্য তিনি নিজের স্ত্রীর অলংকারটুকুও অম্লান চিত্তে দিয়ে দিয়েছিলেন শিক্ষার বেদিমূলে।

                             অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ ছিল তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ- তারই প্রতিফলন পাই তার লেখার মধ্যে বারবার। ভারতবর্ষের শিক্ষাব্যবস্থার এক সিংহভাগ জুড়ে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। অথচ গতানুগতিক কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা তাঁকে কোনোকালেই আকৃষ্ট করতে পারে নি। তাই একাডেমিক শিক্ষাব্যবস্থার অন্তর্ভূক্ত না হয়েও তিনি ছিলেন জ্ঞানভান্ডার। তিনি নিজেই একটি ইনস্টিটিউশন স্বরূপ। জ্ঞানকে তিনি বরাবরই মুক্ত রাখতে চেয়েছিলেন। 

                                রবীন্দ্রনাথকে জানতে গেলে  তাঁকে উপলব্ধি করার প্রয়োজন অনেক বেশি বলেই মনে হয় । মুখস্থবিদ্যার তিনি চূড়ান্ত বিরোধী ছিলেন। যার প্রতিফলন তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়। বিদ্যা যাঁর অন্তরের সম্পদ, তাঁকে তো গতানুগতিক সিলেবাসে ধরে রাখা যায় না!

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ