কবিতা গুচ্ছ || অজিত দেবনাথ




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

১.ঠিকানা বদল


গহীন অরণ্যের মধ্য দিয়ে যে জীবন বয়ে যায় 

কখনো ফেরে না হিমেল বাতাসের বিভঙ্গে 

পাড় ভেঙে যে নদী ছুটে মগ্নচৈতন্যে 

জোয়ার এলে আসে না কাছে 

পুনর্জন্ম বড় দুরন্ত!

স্থবির চোখের তারা যদি কখনো জেগে ওঠে মেঘের গর্জনে 

চোখের নদীরেখা বয়ে যায় স্রোতের আলতো শব্দে 

একটি নিদ্রার জীবন যখন বনমোরগের মতো জঙ্গলের দিকে ছুটে 

কান্নার ভিতরে ফুটে রামধনুর অনির্বাণ ঔজ্জ্বল্য

ঠিকানা বদল হয়েছে অনেক 

ফুটপাত হয়েছে দখল অশরীরীর তমোময় নৃত্যে 

উদ্ভ্রান্ত কুয়াশারা এদিক-ওদিক ঘোরে

ঘুমন্ত বালিশের ভিতরে এখনও কি জেগে আছে মনখারাপের দিনগুলো? 

অন্ধকারের কেশগুচ্ছ যদি ত্রাণের নৌকা হয়ে ভেসে আসে 

আবার শিশু হয়ে জন্মাব গাছের শিকড় জড়িয়ে

আমি যে শান্তিপতাকার পদাতিক এক্সপ্রেস।



২.পথিক


সবুজ ঘাসের ওপর আমি রেখেছি পদচিহ্ন 

খুব সন্তর্পণে হেঁটে যাব

বুকে কিঞ্চিৎ উষ্ণতা জড়িয়ে

শিশিরের অতলে ডুবিয়ে হতে চাইনি বিস্মৃত 

আমি যে পথিক

খুঁজি জীর্ণ পাতার শীর্ণ বক্ষ

লতাগুল্মময় জলাশয়ের কাছে গিয়েও এসেছি ফিরে 

খুঁজে পাইনি টলটলে অমল জল

তবে কি তপ্ত বৈশাখ তীব্র দাহে টেনে নিয়েছে তক্ষকের বেশে

এখন শুধু দর্পণে ভাসে বিন্দুবিন্দু কণা

বিপন্ন তারার মতো খসে বিচূর্ণিত স্মৃতির প্রদীপ

পাথরের বুকে চোখ রেখে হেঁটে যাই দীপ্র অনুরাগে

দুর্বোধ্য রেখায় ঢাকে ভ্রমণের পদছাপ

নির্জন দ্বীপের এক পশলা বৃষ্টির সমারোহ 

টেনে নেয় পরিযায়ী পাখির পদ্মবিলে

এখন ঢেউয়ের কল্লোলে জাগে অচেনা জলাশয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ