পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কবির বার্তা
দিন- রাতের আসা যাওয়া
যুগের পরে যুগের চাওয়া,
কালচক্রের রথের চাকায়
একটি ধ্বনি শুনতে পাওয়া।
চিরন্তন ডাক দিয়ে যায় আজ
এসেছি আমি পঁচিশে বৈশাখ।
খোল সবাই দোর খুলে দাও
প্রকৃতির কোলে রূপ ঝরাও।
দেশের প্রান্ত ছাড়িয়ে এসেছি
শূণ্যতায় জীবনের গান গেয়েছি।
মাতৃভূমিকে পৌঁছে আমি দিয়েছি
বিশ্বের দ্বারে গানের মাল্য দিয়ে।
সমাজের সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে,
নারীর সম্মান আলোয় ভরিয়ে,
ধর্মের সীমানা পেরিয়ে এখন
গাও মানবিকতার জয়গান।
======
খেয়ালের খেলা
খেলায় মেতেছে কেন জলবায়ু এ ধরায়!
আজ যদি বসন্ত হয় বৈশাখ যাবে কোথায় ?
রবির উত্তাপে বিপর্যস্ত বিশ্বের অন্তরাত্মা -
প্রকৃতির সাজে নেই যে আর ফুলেদের বার্তা।
ডাক দিয়ে যাই আমি আকাশে,বাতাসে,জলে -
গ্রীষ্ম বলে হেসে,'এইতো এসেছি আমের মুকুলে'
জ্যোৎস্নারাতে বিভোর আমি বেলফুলের সৌরভে,
ভরে ওঠে হৃদয় আমার জুঁই,রজনীগন্ধার গৌরবে।
সূর্যোদয়ের কালে হেসে ওঠে নীলকন্ঠ আকাশে,
কৃষ্ণচূড়া হাসে - আমি আছি ঠিক রাধাচূড়ার পাশে ।
পলাশ বলে - ' হয় নি এখনো আমার যাবার সময় '
থাকি আরো কিছুক্ষণ, অবেলায় দিও না বিদায়।
বেলের শাখায় এসেছি আমি সবুজ কচি পাতা,
তোমরাও এসো গো জাম,জামরুল,লিচু ,আতা!
সূর্যের কঠোর শাসনের রূপ প্রকাশ পায় তীব্রতায় ,
ডুবে যাই আমি প্রকৃতির নতুন রূপের আদ্রতায়।
বৈশাখী ঝড়ের শীতল ছায়ায় এসো তোমরা সবাই
আজ আমরা নববর্ষের মিলন-উৎসবের গান গাই।
=====
বৃষ্টি ঝরার কালে
ভোরের আকাশ কেন
সজল মেঘে ভরা !
সূর্য আজ পায় নি সময়,
দেয়নি সে দেখা,
বাতাস কেন গাইছে গান
মন উদাস করা!
বেদনা হয়ে ঝরবে!
কোথায় আছে লেখা ?
অবাক চোখে তাকিয়ে আছে
বিরহীনি পৃথা,
বলে - " কবে তুমি আসবে
আমার কাছে ?"
আকাশ বলে মিষ্টি হেসে-" আসব তখন
মেঘ হয়ে জমবে যখন ,
আমার বুকের মাঝে।
ঝরব আমি বৃষ্টি হয়ে
দেখবে তখন তুমি,
ভিজবে তুমি,ভিজবে
শুষ্ক- রিক্ত ধরা,
আনন্দে গাইবে গান
চাষীরা সব মাঠে।
ধানের চারা রোপন
করবে এখন ওরা।"
পৃথা বলে-"রামধনু হয়ে
দাওনা রাঙিয়ে!"
আকাশ হাসে - " আগে
বৃষ্টি যাক থেমে।
রবির আলো ছড়িয়ে
পড়ুক জলকণায়
সাতরঙে রঙিন হয়ে
মুগ্ধ করবে তোমায়।
তুমি যখন পারি দেবে
দূর অজানার দেশে ,
প্রেম হয়ে তখন আমি
থাকব তোমারই পাশে।
=====
অনন্ত জিজ্ঞাসা
চেতনা তুমি কার ?
- শুধু তোমার।
তুমি কোথায় থাকো ?
- তোমার উপলব্ধিতে।
তুমি কবে এলে ?
- যবে বুঝতে শিখলে।
তুমি কি করে জানলে ?
- তোমার প্রেমে।
তুমি কি চাও ?
- তোমার প্রেম।
প্রেম কোথায় থাকে ?
- তোমার আত্মায়।
আত্মা কি ?
- তোমার চেতনা।
চেতনার শেষ কোথায় ?
- শেষ নেই , অমর।
আমি যখন থাকব না তখন ?
- দেহ নশ্বর,আত্মা অবিনশ্বর।
আত্মার কে আছে ?
- পরমাত্মা আছেন।
তাঁকে দেখা যায় না ?
- উপলব্ধি করতে হয়।
কিভাবে ?
- জন্মের উদ্দেশ্য সাধন করে।
সাধনায় কি হয় ?
- চেতনা জাগে।
চেতনাই পরমাত্মা ?
- হ্যাঁ।
পরমাত্মা কি ?
- আত্মার চালিকাশক্তি।
আমি কোথায় ?
- মহাবিশ্বে।
মহাবিশ্ব কি ?
- পরমাত্মার রাজ্য।
এই রাজ্যে কারা থাকে ?
- জীবাত্মারা।
জীবাত্মা কি করে ?
- পরমাত্মার নির্দেশ পালন করে।
নির্দেশ যদি কেউ না মানে ?
- শাস্তি পায়।
স্বাধীনতা নেই ?
- না। নিজের কিছুই নেই।
মহাবিশ্ব কি পরীক্ষাকেন্দ্র ?
- অবশ্যই।
জীবাত্মা পাশ না করলে ?
- পরমাত্মার রাজ্য থেকে বেড়িয়ে যেতে হয়।
তাহলে তো মুক্তি ?
- না। আবার পরীক্ষা দিতে হয়।
কোথায় দিতে হয় ?
- এই মহাবিশ্বে।
সেটি কিভাবে ?
- আবার জন্ম নিতে হয়।
এর শেষ কোথায় ?
- পরমাত্মার পরীক্ষার পাশে।
কতবার পরীক্ষা দিতে হবে ?
- যতবার নির্দেশ পালন না করছ।
কে পরীক্ষা নেবেন ?
- বিষ্ণু।
তবে মহাবিশ্ব ধারণ করেন কে ?
- শিব।
আত্মার কি মুক্তি নেই ?
- আছে।
কিভাবে ?
- বিষ্ণুর নির্দেশ কার্যকর করলে ।
পরীক্ষার পরিবেশ থেকে মুক্তি ?
- হ্যাঁ।
তারপর জীবাত্মার কি হয় ?
- সে বিন্দুতে মিলিত হয়।
কোন বিন্দু ?
- যেখান থেকে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি।
বিন্দুই কি পরমাত্মা ?
- হ্যাঁ পরমাত্মাই ঈশ্বর।
জীবাত্মার পরমাত্মার সাথে মিলন ?
- হ্যাঁ। আর এর নাম মুক্তি।

0 মন্তব্যসমূহ