পোস্ট বার দেখা হয়েছে
স্বাধীনতা
সুহিনা বিশ্বাসমজুমদার
দূরে দাঁড়িয়ে যে
সে কে ?
সে কি বিষণ্ণতা ?
নমনীয় কমনীয় রমনীয়
একগুচ্ছ কাশফুল যেন,
ঘন শ্রাবণের ধান জমি হেন,
কুসুমরাঙা আগুনের গোলা কেন ,
বর্ষা রাতের শেষ ধারায় ভেজা অন্তরালের অবলার মতো
কে সে
সে কি প্রসন্নতা ?
স্তব্ধ বাতাস কাঁপে
কাঁপে অশথের পাতা
নামে বটের ঝুড়ি
মুছে যায় বুড়ি গঙ্গার কোল ,
দূরে দাঁড়িয়ে যে
কে সে
সে কি স্বাধীনতা
সেই কি স্বাধীনতা
আমার আপন স্বাধীনতা ?
====
স্বাধীনতা তুমি কোথায়
কবিতা সামন্ত
স্বাধীনতা তুমি কার কাছে বলো
আছোকি ঘুমিয়ে না জেগে
কথায় কথায় বারুদ জ্বালায় ওরা
দাঙ্গা দেয় যে লাগিয়ে।
ঘুম ঘুম চোখে আসেনা ঘুম
কাছে টানে শুধু ভয়
কেমন করে সেসব ছেলেরা দামাল
করেছিল স্বাধীনতা জয়।
মন্ত্র যদি জানা থাকে তবে
বল না গো একবার
কেমন করে আঁধাধার সরিয়ে
আলো দেখবো আবার।
স্বাধীনতা তুমি আদৌ কি আছো
ভারত মায়ের বুকে
মা যে আমার গুমরে কাঁদে ওই
সন্তানকে দেখে দুখে।
====
স্বাধীন
বিজুরিকা চক্রবর্তী
তরতাজা ভাবে প্রত্যেকবার স্মরণের খাতা খুলবো,
বছর বছর বীরগাঁথা শুনে নির্ভয়ে গড়ে তুলবো-
এই মন গড়ে ওঠ্ না এবার তিন রঙা সংমিশ্রণে!
শক্তি, শান্তি, সমৃদ্ধি, ধর্মের প্রবর্তনে-
বিহঙ্গ সম উদ্বেলিত হোক না প্রত্যেকটি দিন,
হাসিমুখ করে বলে উঠি 'দেখো সবাই আমরা আজ স্বাধীন!'
=====
স্বাধীনতার স্বাদ
প্রণতি মণ্ডল
মুক্তি পেয়েও কেন মাগো তোমার চোখে জল?
পথ ভুলেছে আত্মজনে
বাইরে সাদা কালো মনে,
অপচয়ে স্বাধীনতা
লোভ-লালসা আর হীনতা।
তাই বুঝি মা দুখে কাতর কালো আঁখি তল।
=====
স্বাধীনতা
শর্মিষ্ঠা মিত্র সেনগুপ্ত
তারপর সুগন্ধী ফুলেল আবরণে ঢাকে পিচ্ছিল পথ
শঙ্খনিনাদে মুহুর্মুহু কাঁপে বুক
আত্মগরিমার উর্ণা-উষ্ণতায় স্নান করে ওঠে সদ্যজাত মুক্তি।
আর তারপর আবার উদগ্রীব অন্ধকারে অন্ধ হয় পক্ষ্ম
ফোঁটায় ফোঁটায় গলে আত্মবিশ্বাসের চরম সুখ
সন্তরং চৈতন্য ইজারা নেয় অশ্বিনীর পর্যাণ
তরোয়ালের ডগায় লেগে থাকে নগ্ন, অসংবৃত বিদ্বেষ।
যতই মায়ামুকুরে ঢেকে দাও শটনের কশাঘাত,
তুমিই বলো এমন অনৃত স্বাধীনতা-অধিকার কি চেয়েছো তুমি কখনও?

0 মন্তব্যসমূহ