দর্পণ পত্রিকা || স্বাধীনতা দিবসের কবিতা ~ পর্ব -৩




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

স্বাধীনতার অমৃতকাল

কুশল রায়


আমার দেশ আমার সম্পদ,

এই মৃত্তিকা জুড়ে আটকে আছে প্রাণ,

দেশের জন্য সমস্ত কিছু ত্যাগ করার বিরল সম্মান।

ভুবন জুড়ে আলোর বাতাসে মিশে আছে সব অভিমান ৷


গেরুয়ার তেজে তেজস্বী মোরা,

সুর্বণ বর্ণে বর্ণিত চির সত্য আচির চেরা,

অশোকের চক্র যাহা বোঝায় আত্মবল ,

ঐক্যের বাঁধন বেধেছে সকল দেশের নাগরিকেরা৷


এই দেশের জন্য সমস্ত জীবন বিসর্জন দিতে রাজি,

ধর্ম-বর্ণ-জাতি ভুলে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের মিলন ,

নানা রকম সজ্জা হতে নানাবিধ অনুষ্ঠানে

সবাই সবার মতো করে আজকের দিনটিকে করেন পালন ৷


এই আমার দেশ এটাই আমার ধর্ম,

এক দেশে মত ভিন্ন হলেও আমরা যে এক মায়ের জন্য,

দেশের মূল মন্ত্র হল আমরা দেশবাসী,

একসাথে থাকব ভালোবেসে, হবে না সম্প্রীতি বিপন্ন৷

====

আমাদের স্বাধীনতা দিবস

প্রণব কুমার বসু 


সেজেগুজে স্কুলের মাঠে লাইন দিয়ে যাওয়া

জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা উত্তোলন সেরে খাওয়া দাওয়া -

এন সি সি আর প্যারেড করা ছিল দিনের অঙ্গ

বন্ধুরা সব একধারেতেই ছাড়িনা কারো সঙ্গ -

অনুষ্ঠানের শেষে ছিল দল বেঁধে ফুটবল

শিক্ষকেরা বাহবা দিতেন, ছুঁড়ে দিতেন বল

দিনের শেষে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফেরার তাড়া

পেছন থেকে ডাকলে যে কেউ দিতে হবে সারা |

====

 চলমান স্বাধীনতা

অনিরুদ্ধ দত্ত


জন্ম মুহূর্ত থেকে ছিয়াত্তর বছর ধরে

হাজার হাজার মাইল পথ হেঁটে চলেছে

স্বাধীনতা; জন্মলগ্নেই, তার চোখে মুখে 

ছিল বেশ কিছু প্রশ্ন! আজ হাঁটতে হাঁটতে

 নানা অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ স্বাধীনতা;-- দুঃখ,

 যন্ত্রণা-বেদনা, হাসি-কান্না,অট্টালিকা-

 কুঁড়েঘর, অভুক্ত শিশু, জারজ সন্তান

সব কিছুই হেঁটে চলেছে তার সঙ্গে; অনেক

সমস্যায় জর্জরিত স্বাধীনতা! হাঁটতে হাঁটতে

 পেয়েছে অনেক সমাধানও;আবার কখনো

 কখনো সমাধানের অন্তিম মুহূর্তে, ধর্মীয়- রাজনৈতিক চক্রব্যূহে আবর্তিত হতে হতে

হারিয়ে গেছে সমাধানের সূত্র; সৃষ্ট হয়েছে

নতুন করে সমস্যা!কখনো কখনো ক্লান্ত 

হয়ে পড়ে সে; আসলে জন্ম মুহূর্ত 

থেকে বেশ কিছুটা চলার পথ, যে সব 

সদা হাস্যময় মানব শিশুরা তার 

সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিল; আজ কিন্তু 

চলার পথে মাঝে মাঝে দেখা হয় 

তাদের সঙ্গে,বোধ হয় ক্রমে বিলুপ্ত

 হতে চলেছে এই মানব শিশুরা!তাই

মাঝে মাঝে ক্লান্ত স্বাধীনতা, ভিজে

মাটির সোঁদা গন্ধ নেয় নিজেকে

উদ্দীপিত করার জন্য ;কিন্তু কখনো 

কখনো ওই মাটির সোঁদা গন্ধের সঙ্গে 

মিশে থাকা টাটকা রক্তের গন্ধে

স্বাধীনতা শিউরে ওঠে! ভীত- সন্ত্রস্ত 

স্বাধীনতা,প্রকৃতির কাছে প্রার্থনা

 জানায়,--- ফিরিয়ে দাও আমার 

সঙ্গী ওই সদা হাস্যময় মানব শিশুদের,

কারণ এখন‌ও যে আমাকে হাঁটতে

 হবে হাজার হাজার বছর ধরে

হাজার হাজার মাইল পথ!

=====

হর ঘর

সৌরভ যাদব


স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব,

হর ঘর তিরাঙ্গা।

সত্যিই খুব গর্বের ও খুশির মুহূর্ত।

দেখে জেনো মনে হচ্ছে একটা সাজানো ভারতবর্ষে পৌঁছে গেছি,

চোখের সামনে ঝকঝক করছে একটা স্বপ্নের ভারতবর্ষ,

একটা লোভনীয় স্বর্গীয় ভারতবর্ষ ,

একটা বিভূতিমাখা ভারতবর্ষ !!


সত্যিই খুব গর্ব হচ্ছে,

 কিন্তু,

মনের মেঘে একরাশ প্রশ্নও উঁকি দিচ্ছে???

 হর ঘর আঁধার মুছে গেছে কি?

হর ঘর 

শিক্ষা পৌঁছে গেছে কি?

হরঘর ভুখা পেট দুমুঠো খাবার পাই কি ? 

কচি শিশুর কচি পেটে আগুন জ্বলে না তো?

হর ঘর স্বাস্থ্য সুস্থ আছে তো?

হর ঘর দূর্নীতির গ্রহণ থেকে মুক্ত কি?

হর ঘর নারীরা সুরক্ষিত কি?

হর ঘর নকরি আছে কি?

হর ঘর মহানেতাদের  বুলি গ্রাস করেনি তো?

পুঁজিবাদ মাথা চড়া দিয়ে উঠেনি তো?


হর ঘর ধর্ম ধর্ম খেলা বন্ধ করো!

হর ঘর রাজনীতির রণনীতির বন্ধ করো?

হর ঘর জাতি বর্ণের ছোঁয়া থেকে দূরে রাখো? 

 হর ঘর ভালোবাসো বিলিয়ে দাও!

হর ঘর সমতায় ভরিয়ে দাও!

হর ঘর তোমাদের দেওয়া রাজকীয় প্রতিশ্রুতিগুলো পূর্ণ করো,

 আলাদা করে লোকদেখানো কোনো মহোৎসব করতে হবে না।

 দেখবে 

তিরাঙ্গার তিনটি রং

নর 

নারী

শিশু

এদের খুশির রঙেই একটা মহোৎসবের সৃষ্টি হবে, আকাশ আলোয় ভরে উঠবে!!

====

 প্রকৃত স্বাধীনতা 

 মহুয়া হাজরা



এদেশ আমার দেশ, আমার ভারতবর্ষ

জন্মেছি তোমার বুকে. হৃদয় পুরিত হর্ষ।

মাগো! যত বহিরাগত করেছে তোমার শোষণ

কাঁটার মুকুট পরে হয়েছ বিদীর্ণ, করেছ নীরব রোদন।

আজ আমরা হয়েছি স্বাধীন!

নই আর কারও অধীন। 

কতো শহীদের, রক্তে রাঙ্গানো এ স্বাধীনতা

কতো বিপ্লবী মরণকে বরণ করে হয়েছে উদারচেতা।

অনেক রক্ত, অনেক অশ্রু ঝরেছে, 

অনেক মায়ের কোল খালি হয়েছে,

অনেক রক্ত, অনেক ঘাম মিশেছে গঙ্গা, যমুনাতে। 

অনেক সিঁথির সিঁদুর মুছেছে স্বাধীনতা আনতে।

স্মরণ করি আজ সেই সব বীর শহীদদের,

সেই রক্ত ঋণ শোধ করতে তাদের! 

ভারত আমার জন্মভূমি, এ যে এক দেশ মহান।

গড়ছি আমরা, সোনার ভারত, রাখবো দেশের মান!

কিন্তু! এ সবই যে গল্প কথা হয়ে রয়ে গেছে,

সত্যিই কি এতো বছর পেরিয়ে এসেও প্রকৃত স্বাধীনতা পেয়েছে?

আজও মনে তাই একটাই প্রশ্ন জাগে

প্রকৃত স্বাধীনতা পেতে আরও কত কাল লাগে???

====

স্বাধীনতা দিবস

শর্মিষ্ঠা মিত্র পাল চৌধুরী


স্বাধীনতা হলো সুখ পাখি ,

সে এক মরীচিকা -

আমরাও দৌড়াতে থাকি.....

গান -বাজনা -রং -তুলিতে

স্বাধীনতা আজ হাতের তালুতে ।।

ধুলায় শুকানো রক্তের গন্ধ

যায় না নাকে ,নাক তো বন্ধ !!

অশিক্ষা , কুশিক্ষা পদে পদে

করেছি ধ্বংস করাঘাতে ??

কি আদর্শ লালন করেছি আগামীর বুকে ??

নিঃস্বার্থ বন্ধনে কতটা  বেঁধেছি

এ পৃথিবীকে ??

প্রশ্ন হোক না যতই কঠিন ,

উত্তর জানলে তবেই স্বাধীন ।


শিরদাঁড়া বিকিয়ে হয় কি স্বাধীন ?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ