দর্পণ পত্রিকা || স্বাধীনতা দিবসের কবিতা ~ পর্ব -১




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

দেশ মানে কী কবিতাই ?

সায়ন্তিকা 


দেশ মানে কী কবিতা ?


ছেলেটা কাল ঝাঁপ দিয়েছে অন্ধকারে , মেয়েটার স্তনে দাঁত বসিয়েছে হরিণী শাবক , ঘাসফুলে ফুটেছে পদ্ম কিম্বা গোলাপ ۔۔۔


দেশ মানে ?


শিরদাঁড়া বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে রক্ত , ধানক্ষেত ঢেকে গ্যাছে বারুদে , পোস্ট۔মর্টাম কবির ۔۔۔۔


ভারতবর্ষ ?


জাহাজের ডেকে খসে পড়ছে চাঁদ , আলোহীন সভ্যতা , দাম্পত্য কলহ জুড়ে যৌনতা অথবা পরকীয়া ۔۔۔


বিপ্লব ?


কলমের নিচে পিষে চলেছে পথগুলো , হাওয়াই চটির স্ট্রাপে আটকে যাচ্ছে শব্দরা , দার্জিলিং টি۔তে ডুবে যাচ্ছে মরুভূমি !


স্বাধীনতা ?


কবিতা লিখতে লিখতে আমরা লিখি নিজেকে , 

অথচ বৃদ্ধার কপালে ভাঁজ পড়লে অস্ত্রাগারের দরজা বন্ধ হয়ে যায় , নন্দনে লাল বাতি হাতে নিয়ে মিছিলে হাঁটে দেশ ,

বীরভূমে তখন কেউ কবিতা বোঝেনা ,

কন্যাকুমারীরা দেবী হতে পারেনা ,

কমরেডের পায়ের শব্দে শোনা যায় না শ্রমিকের ভাষা !


সাতাত্তর বছর ধরে আমরা শিখেছি কেবল এইটুকুই ۔۔

দেশ মানে কেবলই একটা দেশ ۔۔"ভারতবর্ষ!"

=====

স্বাধীনতার-আগডুম বাগডুম

শৌভিক গাঙ্গুলী 


আর্য বলেছেন- আগডুম বাগডুম!

অনার্য চায়- একটা নিষিদ্ধ ক্লাইম্যাক্স! 


ফুলকি থেকে আগুন জ্বলে- বুকের চিতায়।

পোড়া সানকিতে সম্পর্কের উচ্ছিষ্ট প্রসাদ,

দেবতার অঙ্গুলিহেলনে বীর্যের আস্ফালন!

নগ্ন স্তনের ড্রাম-স্টিকে পদ্মের সসেজ! 


যদি-

লাল মাটির টিলা গুলো দুর্গ হতে পারত,

খিদে পেলে কেঁদে উঠত ঘুমহীন শৈশব;

পোষা স্মৃতি নিলাম হওয়ার আগে-

মোৎজার্টের সিম্ফনি বোধনটা সেরে ফেলতো!

প্রত্যাশার চাদরে অপেক্ষা; সমাহিত বোবা চাহিদাগুলো থিক থিক করছে জীবিত প্রাণের শরীরে! 


বিসর্জনের পর ভেজা খড়ের কাঠামো তুলে এনেছি; যত্ন করে কবিতার বর্মে মুড়ে দেব শরীর; তারপর-

অপেক্ষা করব একটা নিষিদ্ধ ক্ল্যাইম্যাক্সের!

====

হে স্বাধীনতা

শংকর ব্রহ্ম


হে স্বাধীনতা 

জিলিপি চাই না খেতে একদিন

প্রতিদিন সম্ভ্রমের ভাত কাপড় চাই 

দান অনুদানে ভিখিরি বানাতে চায় যারা

তাদের প্রতিবাদ করিনি বলেই

হে স্বাধীনতা

তার মানে এই নয়

শাসকের ধূর্ততা ধরতে পারিনি


হে স্বাধীনতা

তোমার পতাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলে যারা

নিজেদের স্বার্থ পূরণে

বুক চিতিয়ে যেন তাদের মুখোশ টেনে ছিঁড়ে

খুঁদিরাম সুভাষের মতো দাঁড়াই নির্ভয়ে


হে স্বাধীনতা 

কিংবা তোমার পতাকা হাতে নিয়ে

মাতঙ্গিনী হাজরার মতো 

যেন নির্ভিক ছুটে যেতে পারি শত্রুর সন্মুখে


হে স্বাধীনতা

মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াবার

একবার দীক্ষা দাও শুধু 

=====

সাতাত্তরের কবিতা

এবং দে বা শী ষ



এমন গান গাইনি কিংবা গীতবিতানহীন পথে,

যতো শুকিয়ে আসা এক পৃথিবী জন্ম আমাকে মানবিক করে তোলে,

আমার চিৎকার গ্যালাক্সি পর্যন্ত যায় -

ফুল হয়ে ফোটেনা বাগিচায় ,

এই নিয়তি,  কি হারিয়ে পেয়েছি খনন আর তেরঙা বিশ্বাসে ,

চাষার হাতে চৌঁচির লাঙল আর কাস্তে হাতুড়ি চড়াই উতরাই শ্রমিক -

কয়েক পশলা ঘাম রক্ত হয়ে মিশিয়ে যায়,

এই কবিতায় কথা বলা দায়,

এখানে প্রতিবাদ প্রতিরোধ আসলে ভ্রকুটি ,

মানুষ হতে ভুলে যাচ্ছি প্রতিদিন,

স্বাধীনতা দিবসে মাতি ।

গুনাহ শহীদ বেদী , পোস্টারে হোডিং আশ্রয়,

আমায় ভোর হলে ডেকে দিও,

এই কবিতায় ভারতবর্ষ লেখা আছে! 

এবং বোধদয় !

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ