পোস্ট বার দেখা হয়েছে
আমরা সাদা রঙের রুমালকে হলদে, হলদে কে নীল, নীলকে লাল হতে দেখে আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠি। কারো পকেটে একটা আধুলি রেখে সেই পকেট থেকে পায়রাকে বের করে আনতে দেখে বিস্মিত হই। যাদুকরের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠি। ওদিকে আসল অঘটন ঘটন পটিয়সী যাদুকর দিনরাত তাঁর যাদুর ঝাঁপি নিয়ে বসে দিন থেকে রাত করছেন, রাতের গর্ভ থেকে বের করে আনছেন প্রভাতী নবারুণকে। মনের সাথে এমনভাবে মন যোগ করে দিচ্ছেন, যে মনের মালিকেরই সে হদিস থাকে না।
মঞ্জিলাকে যে শ্রেয়ান ওদের নিজেদের বাড়িতেই এভাবে আবিষ্কার করবে সেটা কী শ্রেয়ানই আদৌ কল্পনা করতে পেরেছিলো কখনও! ওকে দেখে শ্রেয়নের ঘোর কাটতে না কাটতেই যেন ভোজবাজির মতো উবে গেছিলো মঞ্জিলা। রান্নাঘরে চা বসাতে গিয়ে ওর মনে হয়েছিলো যে শ্রেয়সীকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে আসে যে ওদের জন্যও চায়ের জল বসাবে কি না। সেকথা জিজ্ঞাসা করতে গিয়েই ও থমকে দাঁড়ালো। শ্রেয়সী ঘরের ভেতর একা একা বুকশেলফ থেকে বই নামিয়ে সেগুলোকে আবার ধুলো ঝেড়ে সেলফে গুছিয়ে তুলে রাখছে। শ্রেয়ানের বুকে তখন হাজারখানা প্রশ্ন এসে বাসা বেঁধেছে। এতোটুকু সময়ে মেয়েটা কোথায় উবে গেলো, শ্রেয়সীর সাথে ওর পরিচয় কতোদিনের, কীভাবেই বা ওদের ভেতর বন্ধুত্ব তৈরী হলো? মঞ্জিলাও হয়তো শ্রেয়ানকে দেখবে বলেই --
নিজের মনেই হেসে ওঠে শ্রেয়ান। ওর এতো কৌতুহল কিসের জন্য?
--- কিছু বলবি রে?
--- না, না। মানে হ্যাঁ -- জিজ্ঞাসা করছিলাম যে তোরা কি চা খাবি? মানে আর কি তোদের জন্যও কি জল...
--- তোদের মানে? এখানে আবার তোদেরকে দেখছিস কোথায়?
-- ও, আচ্ছা। সে যাকগে, তুই কি চা খাবি?
--- কাল সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠিস, আসছে কাল মঞ্জিলা ফের আসবে।
-- কে আসবে? ও এই মেয়েটি? ওর নাম বুঝি মঞ্জিলা?
--- মন দিলা না বঁধু
মন নিলা যে শুধু ---
জানিস দাদাভাই, মঞ্জিলা খুব ভালো গান গায়।
--- সে,গাইলেই বা আমার তাতে কী?
--- না, তুমি তো গান খুবই ভালোবাসো। আর মঞ্জিলাও সত্যিই ভালো গান গায়।

0 মন্তব্যসমূহ