ধারাবাহিক উপন্যাস || এক সমুদ্র অনেক নদী ~ প্রদীপ গুপ্ত || পর্ব -- সাত




পোস্ট বার দেখা হয়েছে

 

এক সমুদ্র অনেক নদী
প্রদীপ গুপ্ত
পর্ব -- সাত

কারখানার মালিক লক আউট করে দেওয়ার ফলে শ্রেয়ান আর ওর বাবা দুজনের চাকরীরই ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়লো। শ্রেয়ান নিজেকে যেভাবে তৈরি করে নিয়েছে তাতে করে অন্য যেকোনো কারখানায় একটা কাজ জুটিয়ে নিতে কোনো অসুবিধা হবে না ওর। সমস্যা হলো ওর বাবাকে নিয়ে, এখন ওর বাবার যা বয়েস যে, সেই বয়েসের মানুষজনকে কোনো কারখানার মালিক তার কারখানায় কাজ দেবেন না। অথচ বাবা এতদিন ধরে তার সামান্য উপার্জনের টাকায় নিজের সংসার চালিয়েও শ্রেয়ানদের ঘর ভাড়ার টাকা জুগিয়ে গেছেন। এতোদিন পত্রালীকে সেসব কথা ঘুণাক্ষরেও জানানো হয়নি। হঠাৎ করে একদিন পত্রালিকে সে কথা জানানো মাত্র যেন ঘরের ভেতর একোশোটা বাঘিনী হুঙ্কার দিয়ে উঠলো। 
  -- কে বলেছিলো ওনাকে দয়া দেখাতে? কেন নিয়েছো ওনার দয়ার দান? নিজের হিম্মত নেই তো বিয়ে করেছিলে কেন? প্রতিরাতে এই শরীরকে ভোগ করতে, কাঙালের মতো আমার মাংসের দলাগুলোকে ছানবিন করতে লজ্জা করতো না?
শ্রেয়ান দুর্বলভাবে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে --
--- তুমি তো বিয়ের আগেই জানতে পত্রালী, যে আমাদের পরিবার তোমার বাবার মতো ---
-- ফের নির্লজ্জের মতো ঝগড়া করতে এসেছো? নিজের কানাকড়ি মুরোদ নেই নিজের বউবাচ্ছাকে খাওয়ানোর অথচ আমার বাবাকে টেনে কথা বলা? আমার বাবা কি তোমার বাবার মতো ভিখিরি নাকি যে...
বাবাকে ভিখিরি বলাটা শ্রেয়ান একদম সহ্য করতে পারলো না। ডানহাতটা নিজের থেকেই ওপরে উঠে গেলো, কিন্তু শেষ মুহূর্তে নিজেকে সম্বরণ করে নিলো ও। আর এদিকে কান্নায় ভেঙে পড়লো পত্রালী।
এরপর সারাদিন ধরে নিস্তব্ধ হয়ে রইলো ওদের ভাড়াকরা ঘরের আনাচকানাচ। বিকেলবেলা বিছানা থেকে উঠে চোখেমুখে জল ছিটিয়ে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালো পত্রালী। নিজের জন্য এককাপ চা তৈরি করে বিস্কিট দিয়ে একাএকাই খেলো সেটা। তারপর ফোনটা নিয়ে বাথরুমে গিয়ে ঢুকলো।
শ্রেয়ান সেই যে হাঁটুর ভেতর মুখ গুঁজে বসে রয়েছে, সে মুখ একবারের জন্যও তোলে নি।
সন্ধ্যাবেলা মন্দার এলো ট্যাক্সি নিয়ে। ইতিমধ্যেই পত্রালী ওর জামাকাপড় একটা স্যুটকেসে গুছিয়ে নিয়েছে।

( ক্রমশ )

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ