পোস্ট বার দেখা হয়েছে
কবি বিষ্ণু দে - এক ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনা
কাকলী দাশগুপ্ত
কফি হাউজের আড্ডায় নিখিলেশ-সুজাতারা নিয়মিত তর্কে মেতে উঠতেন বিষ্ণু দে’কে নিয়ে। এই গানের সুবাদে হয়তো অনেকের কাছেই বিষ্ণু দে খুব পরিচিত একটি নাম। তবে শুধু নামটিই তার পরিচয় পেয়েছে, তিনি কিংবা তার কবিতাগুলো দূরেই রয়ে গেছে। খুব বেশি পরিচিত কবির তালিকায়ও তার নাম পাওয়া যাবে না।
তবু কফি হাউজের গানটি শুনতে গিয়ে কখনো না কখনো আপনার মনেও নিশ্চয়ই প্রশ্ন জেগেছিলো- “কে এই বিষ্ণু দে?”
রবীন্দ্র পরবর্তী যুগের যে কবিরা রবীন্দ্রপ্রভাবমুক্ত হয়ে কবিতা লেখার কলম ধরেছিলেন, তাদেরই একজন বিষ্ণু দে। কল্লোল যুগের পঞ্চপান্ডব কবি রবীন্দ্রবেষ্টনীর মধ্যেই সীমিত থাকলেও বিষ্ণু দে নিজেকে সেই সীমায় আটকাননি। তিনিই প্রথম খোলাখুলিভাবে বলতে পেরেছিলেন।
তিরিশের কাব্য ধারায় বিষ্ণু দের মধ্যেই প্রথম রাবীন্দ্রিক কাব্যবলয় অতিক্রমণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়। মার্কসীয় তত্ত্বকে জীবনাবেগ ও শিল্প সম্মত করে উপস্হাপনার ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্য অপরিসীম। বিষ্ণু দে একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, শিল্পানুরাগী এবং চিত্র সমালোচক।
১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কোলকাতার পটলডাঙ্গায় তাঁর জন্ম। পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি এবং মা মনোহারিণী দেবী ছিলেন গৃহিণী। হাওড়া জেলার পাঁতিহাল গ্রাম থেকে আগত তার পূর্বপুরুষ উনিশ শতকের প্রথমার্ধে কলকাতায় বসবাস করতে আসেন। উনিশ শতকীয় বঙ্গীয় জাগরণের সঙ্গে তাঁর পরিবারের সম্পর্ক ছিল বলে স্বদেশ আন্দোলনের একটা ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল।
কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলে বিষ্ণু দে অধ্যয়ন করেন। ১৯২৭ সালে তিনি এ স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। তারপর বঙ্গবাসী কলেজ থেকে আইএ (১৯৩০), সেন্ট পলস কলেজ থেকে ইংরেজিতে বিএ অনার্স (১৯৩২) এবং থেকে ইংরেজিতে এমএ (১৯৩৪) ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষা সমাপনান্তে তিনি অধ্যাপনাকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে ১৯৩৫ সালে কলকাতার রিপন কলেজে যোগদান করেন। পরে ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত মৌলানা আজাদ কলেজ এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত কৃষ্ণনগর কলেজে তিনি অধ্যাপনা করেন।
আধুনিক বাঙ্গালি কবিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও চিন্তাশীল ব্যক্তিত্ব বিষ্ণু দে তাঁর কাব্য রচনার মূল গঠনে যেমন ইউরোপীয় আধুনিক কবিদের চিহ্ন রেখেছেন, তেমনই কবি টি এস এলিয়টের রচনাশৈলী এবং ভাবনা দ্বারাও তিনি প্রভাবিত হয়েছিলেন। এর পাশাপাশি বামপন্থী দর্শনে উদ্বুদ্ধ বিষ্ণু দে-র রচনায় প্রভাব ফেলেছিল মার্কশীয় দর্শন। তিরিশের কাব্যধারায় বিষ্ণু দে-র মধ্যেই প্রথম রাবীন্দ্রিক কাব্যবলয় অতিক্রমণের প্রয়াস লক্ষ করা যায়। মার্কসীয় তত্ত্বকে জীবনাবেগ ও শিল্পসম্মত করে উপস্থাপনার ক্ষেত্রে তাঁর সাফল্য অপরিসীম।
১৯২৩ সালে 'কল্লোল পত্রিকা' প্রকাশের ফলে যে নতুন সাহিত্য উদ্যম ও ব্যতিক্রমী শিল্প চেতনার সৃষ্টি হয়, বিষ্ণু দে ছিলেন তার অন্যতম উদ্যোক্তা। ১৯৩০ সালে কল্লোল পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি ১৯৩১ শে সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পরিচয় পত্রিকার দায়িত্ব পালন করেন ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত।
কবি বিষ্ণু দের মধ্যে নতুন এক পথ দেখতে পেয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি বেছে নিয়েছিলেন নগর জীবনের নাগরিক শব্দমালাকে, যে শব্দমালা তাঁর কবিতায় আমরা পাই প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত। তিনি নিজে 'নিরুক্ত' নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। শুধুমাত্র সাহিত্যে নয় - শিল্প, সঙ্গীত ও সংস্কৃতির বিবিধ বিষয়ে তাঁর একাধিক বুদ্ধিদীপ্ত রচনা অভিনন্দিত হয়েছে।
বাংলা কবিতায় আধুনিকতার আনয়নে তার অনেকটাই ভূমিকা ছিলো। প্রচন্ড প্রগতিশীল ভাবধারার এই কবি কবিতা ছাড়া গদ্যেও বেশ স্বচ্ছন্দ ছিলেন, কিন্তু কবিসত্ত্বাটিই তার সমস্ত কিছু ছাড়িয়ে প্রবল হয়ে ওঠে। এজন্য বিষ্ণু দে’কে জানতে হলে তার কবিতাকে জানাই যথেষ্ট। তার মতাদর্শ, জীবনবোধ, তাড়না, বাস্তববাদিতা সবকিছুরই দেখা মেলে তার কবিতায়। যা কখনো বিশ্বাস করেননি তা তার কবিতায় তিনি লেখেননি, কোনো মিথ্যে বিশ্বাস কবিতায় রেখেও যাননি।
তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলির মধ্যে 'উর্বশী ও আর্টেমিস' (১৯৩৩), 'চোরাবালি' (১৯৩৭), 'সাত ভাই চম্পা' (১৯৪৪), 'রুচি ও প্রগতি' (১৯৪৬), 'সাহিত্যের ভবিষ্যৎ' (১৯৫২), 'নাম রেখেছি কোমল গান্ধার' (১৯৫৩), 'তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ' (১৯৫৮), 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত' (১৯৬৩), 'রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা' (১৯৬৬), 'মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা' (১৯৬৭), 'In the Sun and the Rain' (১৯৭২), 'উত্তরে থাকো মৌন' (১৯৭৭), 'সেকাল থেকে একাল' (১৯৮০), 'আমার হূদয়ে বাঁচো' (১৯৮১) ইত্যাদি। 'In the Sun and the Rain' নামে রচনা সংকলনের প্রাপ্য রয়্যালটি তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে দান করেছিলেন। ছড়ানো 'এই জীবন' নামে তাঁর একটি স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ আছে। এছাড়াও রয়েছে ১০টি কাব্য সংকলন, ৭টি অনুবাদগ্রন্থ এবং ২টি সম্পাদিত গ্রন্থ। তাঁর একটি সম্পাদিত গ্রন্থ হচ্ছে 'এ কালের কবিতা'।
বিষ্ণু দে’র রচিত অনুবাদ কাব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে - ‘এলিয়েটের কবিতা’ (১৯৫৩), ‘হে বিদেশী ফুল’ (১৯৫৬), ‘মাও সে তুং-এর কবিতা’ (১৯৫৮) ইত্যাদি। লেখালেখির মাঝে বিষ্ণু দে কবিতার বই ছাড়াও অনেক গদ্য রচনা করেছন। তিনি একজন মননশীল প্রাবন্ধিক ও সমালোচকও। তার লেখা বেশ কয়েকটি ইংরেজি বইও রয়েছে।
বিষ্ণু দে’র প্রবন্ধের বইগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রুচি ও প্রগতি’ (১৯৪৬), ‘সাহিত্যের ভবিষ্যৎ’ (১৯৫২), ‘এলোমেলো জীবন ও শিল্পসাহিত্য’ (১৯৫৮), ‘রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা’ (১৯৬৫), ‘মাইকেল, রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা’ (১৯৬৭), ‘জনসাধারণের রুচি’ (১৯৭৫), ‘যামিনী রায়’সহ (১৯৭৭) প্রভৃতি।
তার কবিতাগুলো কখনো ফ্যান্টাসিতে হারিয়ে যাওয়ার মতো কিছু নয়, যা আমরা কবিতা বললেই ভাবতে শুরু করে দিই- অবাস্তব, কল্পনার ভাষা! তিনি বাস্তব জগতকে যেমনি দেখেছেন তেমনি লিখেছেন, হয়তো কোথাও অনেক উপমাও দিয়েছেন। কিন্তু দিনশেষে বিষ্ণু দে’র কবিতা বাস্তব সমস্যাগুলো কিংবা যা আছে যা হচ্ছে-হয়েছে, তাকেই নির্দেশ করে। তার কবিতাগুলো একই সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সমন্বয়কারী। তিনি বস্তুনিষ্ঠভাবে চোখে রঙিন চশমা না লাগিয়ে কবিতায় তুলে এনেছেন তখনকার বাস্তবতাকে এবং পরক্ষণেই বিষয়নিষ্ঠ হয়ে বাস্তববাদিতার মধ্য দিয়েই যে একটা বিপ্লব দরকার, মুক্তির জোয়ার আসা দরকার - তা তিনি খুব স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
সময় ও সংকটবোধ তার কবিতায় আধুনিক পথে যাত্রা করেছে। কবি-চেতনার প্রবল তাড়না দেখি কবিতাগুলোয়। তার কবিতাগুলোকে এককথায় প্রকাশ করলে বলা যায় ‘অ্যান্টিরোমান্টিক’। তার ব্যক্তিমনের প্রেমভাব বা অনুভূতির ওপরে উঠে তিনি স্থান দিয়েছেন প্রবল আত্মসচেতনতার। তার লেখা তাই ভাবালুতার খাদমুক্ত।
মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন। 'ওফেলিয়া জিজীবিষা', 'ঘোড়সওয়ার' ইত্যাদি তাঁর লেখা অন্যতম কবিতা । তিনি একাধারে ছিলেন সঙ্গীত শিল্পী ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সতীর্থ এবং চিত্র শিল্পী যামিনী রায়ের বন্ধু।
বিষ্ণু দে’র কবিতার উপজীব্য কী? এ প্রশ্নের উত্তরে বলা যায়, ‘জীবন’। সত্যিকারের জীবন যাতে মিশ্রণ আছে দুঃখ-সুখ, বন্ধন-মুক্তি, প্রেম-অপ্রেম, সুন্দর-কুৎসিত এর। তিনি এজন্যই দ্বান্দ্বিকতায় বিশ্বাসী ছিলেন, যেকোনো এক পক্ষে যাওয়াকে তিনি বস্তুনিষ্ঠতার অভাব বলে মানতেন। যখন তার ‘তিনটি কান্না’ কবিতায় কান্নাগুলো তিনি বর্ণনা করেন, তখন আমরা কিন্তু খুব পরিচিত কিছু মুখ দেখি। এতে উপোসীর ক্ষমাহীন কান্না, বিধবার অভিশাপ কিংবা পথের ধারের ঐ ভিখারীটির “গান করে নাকি কান্না?” শুনতে পাই!
অন্যের প্রভাব এমন একটি জিনিস যা নিজস্ব পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে জানা-অজানায়ই চলে আসে। অন্য সব কবি অথবা মানুষের মতো বিষ্ণু দে এর বাইরে যেতে পারেননি। রবীন্দ্র প্রভাবমুক্তি তার উদ্দেশ্য হলেও তিনি একেবারে প্রভাবমুক্ত ছিলেন না। নানা দেশের প্রায় ৫০ জন কবির প্রভাব পড়েছে বিষ্ণু দে’র ওপর। এর মধ্যে টি. এস. এলিয়ট এর প্রভাব সবচাইতে প্রবল। এছাড়া তার কবিতায় অতীত ও বর্তমানের বিখ্যাত যে সকল কবির ছাপ পাওয়া গেছে তারা হলেন :- শেক্সপিয়ার, দান্তে, গ্যেটে, শেলী, ব্লেক, লেরমন্ট, হুইটম্যান, রিমবড, ব্যডেলেয়ার, মালার্ম, ইয়েটস, পাউন্ড, প্যাস্টেরনাক, লরকা, এলুয়ার্ড, আরাগন, ব্রেটচ, নেরুদা প্রমুখ।
বিষ্ণু দে ছিলেন ইংরেজি ভাষা সাহিত্যের বিশিষ্ট অধ্যাপক ও কল্লোল যুগের অগ্রণী কবি। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একদা আরেক অগ্রণী কবি টমাস স্টার্নস এলিয়টের বিখ্যাত কবিতা “জার্নি অফ দি ম্যাজাই” অনুবাদ করেছিলেন। সেকথা মনের মধ্যে উঁকি দিয়ে গেল।
'Journey of the Magi' নামে তেতাল্লিশ লাইনের একটি কবিতা লিখেছিলেন ব্রিটিশ কবি টমাস স্টার্নস এলিয়ট (১৮৮৮ - ১৯৬৫)। সেই কবিতা ১৯২৭ সালে প্রকাশ পেয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর “পুনশ্চ” কাব্যগ্রন্থে এই কবিতাটির একটি অনুবাদ সংকলন করেন। এই অনুবাদ সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অনুজ বাংলা আধুনিক কবিরা একটু যুক্ত রয়েছেন।
ইংরেজি ভাষার অধ্যাপক বিষ্ণু দে ছিলেন কল্লোল যুগের অগ্রণী কবি। বাংলাভাষার আধুনিক কবিদের সাথে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দ্বন্দ্ব-মধুর সম্পর্ক ছিল। কবিতা কী, কেন, কবিতায় আধুনিকতা ঠিক কী, তা নিয়ে অনেক আলাপ ও বিতর্ক হত। কিন্তু অনুজদের তরফে সম্পর্কের মূল সুরটা ছিল গভীর শ্রদ্ধার।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'পুনশ্চ' ও 'লিপিকা' আর তার গদ্যবুনোট দেখে বিষ্ণু দে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি “পুনশ্চ” গ্রন্থের কবিতার গদ্য ধাঁচটা আয়ত্ত করতে চেয়ে এলিয়টের “Journey of the Magi” কবিতাটির স্বকৃত অনুবাদ কবির কাছে পাঠিয়ে দেন। ওঁর প্রার্থনা ছিল ওঁর অনুবাদের সাথে 'পুনশ্চে'র গদ্যবুনোটের একটা মেলবন্ধন করে দেখিয়ে দিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
রবীন্দ্রনাথ বিষ্ণু দে কৃত সেই এলিয়টীয় কবিতার অনুবাদ আত্মস্থ করে “তীর্থযাত্রী” শীর্ষক একটি কবিতা লেখেন। বিষ্ণু দে তাঁর স্বকৃত অনুবাদের নাম দিয়েছিলেন “রাজর্ষিদের যাত্রা”।
বিষ্ণু দে ত্রিশোত্তর বাংলা কবিতার নব্যধারার আন্দোলনের প্রধান পাঁচজন কবির অন্যতম ছিলেন। তিনি মার্কসবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ ছিলেন। কাব্যভাবনা ও প্রকাশরীতিতে বুদ্ধিবৃত্তি ও মননশীলতাকে অঙ্গীকার করেই তিনি কবিতা লেখেন। তাঁর কবিতায় টি.এস এলিয়টের কবিতার প্রভাব রয়েছে। দেশের অতীত ও বর্তমানের নানা বিষয় এবং বিদেশের বিশেষত ইউরোপের শিল্প-সাহিত্যের বিচিত্র প্রসঙ্গ তাঁর কাব্যের শরীর ও চিত্রকল্প নির্মাণ করেছে। এসব কারণে তাঁর কাব্য দুর্বোধ্যতার অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়।
যামিনী রায়ের অনুপ্রেরণায়ই তিনি শিল্প-সমালোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে বেশ কয়েকখানি মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেন। 'Art of Jamini Ray' (১৯৪৪), 'The paintings of Rabindranath Tagore' (১৯৫৮), 'India and Modern Art' (১৯৫৯) প্রভৃতি গ্রন্থ তাঁর এ উদ্যোগের ফল।
১৯৫৮ সালে বিষ্ণু দে-কে কবি সম্বর্ধনা দেওয়া হয়। ১৯৬৬ তে 'সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার', ১৯৬৭ তে 'নেহেরু স্মৃতি পুরস্কার', ১৯৭১ রে তিনি তাঁর 'স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত' বইটির জন্য ভারতের সর্বোচ্চ সাহিত্য পুরস্কার 'রাষ্ট্রীয় জ্ঞানপীঠ পুরস্কার' লাভ করেছিলেন। তিনি 'রুশতি পঞ্চশতী'র জন্য 'সোভিয়েত ল্যান্ড পুরস্কার' পেয়েছিলেন। 'ভারতীয় গননাট্য সংঘ', 'প্রগতি লেখক সংঘ', 'সোভিয়েত সুহৃদ সমিতি' প্রভৃতি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
১৯৩০-এর দশকে যে পাঁচজন কবির নেতৃত্বে আধুনিক বাংলা কবিতার নবজাগরণের সূচনা হয়েছিল, তাদের মধ্যে বিষ্ণু দে অন্যতম। রবীন্দ্র কাব্য বলয়ের বাইরেও এক সফল আধুনিক কবিতার ধারা সৃজন করেন এই লেখক। ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় কবি বিষ্ণু দের প্রয়াত হন।
বিষ্ণু দে কাব্য সুচনায় “হেথা নয় রুপদক্ষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর” এই প্রত্যয়ে নিয়ে শুরু করলেও তিনি রবীন্দ্র বিরোধী ছিলেন না। আসলে তিনি রবীন্দ্রনাথের অক্ষম অনুকরণ ও পুনরাবৃত্তির সংক্রমণ ঠেকাতেই এবং বাংলা কবিতাকে মুক্তি দিতেই ভিন্ন পথের সন্ধান করেছেন।
তিনি ছিলেন নাগরিক কবি, প্রেমের তীব্র আবেগ ও তার ছন্দোবদ্ধ শব্দবন্ধে আসাধারন কাব্যরুপ পেয়েছে। তিনি যুগযন্ত্রনাকে অস্বীকার না করেও অস্তিবাদী এবং সেই অস্তিবাদের উৎস মার্ক্সবাদী চেতনা। তাই তিনি মানুষের সংগ্রামী ভুমিকার মধ্য দিয়ে যুগান্তরের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
বাংলার কাব্যজগতে বিষ্ণু দে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেননি কখনও। এমনকি তাঁর সমকালীন কবিদের তুলনাতেও তিনি স্বল্পপঠিত। তা সত্ত্বেও বিষ্ণু দে’র কবিতায় রয়েছে এমন মননরস যা পাঠককে বাধ্য করে জগৎ ও জীবন সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে। সেই ভাবনা শুধু মস্তিস্কের অবসর বিলাস নয়, তাতে পরিশ্রম লাগে, মেধা লাগে, অধ্যাবসায় লাগে।
আজ কবির জন্মদিবসে আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য।
★ তথ্যসূত্র :- বঙ্গদর্শন, রোর মিডিয়া, বাংলাপিডিয়া, একুশে টিভি ডট কম, পিউপিলস রিপোর্টার ডট ইন, টার্গেট বাংলা, টেক টাচ টক ডট ইন।
*****************
কবিতা আর আসে না
তুলসী মন্ডল
কবি ,তুমি কি আজ খুলেছ খাতা, ধরেছো কলম,
আমি সেজেছি এই বিহান বেলায় ,তোমার মনের মতন,
দুটি নয়ন মোর লাল নীল চুনি পান্নার বরন।
মনের মেঘে ধরেছি অরুন কিরণ ,উজ্জ্বল তার শোভা,
আলোর সাগরে ঢেউ কেটে সাঁতরে বেড়াই, তরী মোর সাদা আলোয় ধোওয়া।
এইতো পালে পেয়েছি উষ্ণতা ,থামবো না ,আর নাই ভয়,
যতই খল জল ধরাক কাঁপন ,কপালে মোর লেখা আছে জয়।
তুমি তো জানো, জল দেখে তরী কি কভু ডরে ,
বুক ফুলিয়ে সে, থাকে নিজ ভারে ।
ডাকে হাওয়া , আয় আয় আয় ,আয় লাগ পালে ,
পাড়ি দেবো দূর দেশে ,ঢেউ তালে তালে।
ভয় নাই ভয় নাই ,ওরে হাসে মোর তরী, সদর্পে ভাসে জলে,
গহীন যত হোক না পাথার ,বুক ফুলিয়ে চলি ,নিজ মনোবলে।
কবি দেখো দেখো, এই দুটি ডানা মেলেছি পলকা হাওয়ায় ,
দেখো, একদমে কেমনে পৌঁছে যাই ,ওই সাদা মেঘের চূড়ায়।
এই দেখো---
শুনলে না মোর ঘুম জাগানিয়া কলি ,
আবছা ভোরে শাখে শাখে গেয়ে যাই কাকলি ।
হিম শিখর থেকে ,বরফ গলা ঝরনা ধারা যেথায় গেছে বেঁকে ,
ফেরি করি প্রেম আমি সেথায় হেঁকে হেঁকে ।
এই দেখো ,আঁচলে মোর নিয়েছি ভরে ,মোহনার গন্ধ, হাওয়ায় ভেসে যাচ্ছি হেসে ,বারতা দেবো নদীকে, ও পাবে চলার ছন্দ।
কবি! কেন মন মরা হয়ে বসে আছো অদ্য ,
খাতা খোলো ,ধরো কলম ,লেখো পদ্য।
কবি বলে, কেন মোরে ডাকো, এ কবি যে বড়ই গরীব ,
এই দেখো ,ভেঙে গেছে মোর কলমের নিব ।
গতরাতে উঠেছিল বিধ্বংসী ঝড় ,
মড়মড় করে ভেঙে গেছে ,সত্য ,আদর্শ ,ন্যায়ের ঘর। ভালবাসার আজ নেই ---
ধমনী ছিঁড়ে তাজা রক্ত নিয়ে অসুর দল খেলেছে হোলি ,
মায়ের কলিজা উপড়ে নিয়ে ,ভাগাভাগি করে খেয়েছে একদল দাঁতাল হায়না ,
ওই শোনো ওই তাদের খিলখিল হাসি,
তুমি তো জানো না, কাল রাতে পুত্রের হাতে হয়েছে পিতার ফাঁসি।
শব্দ আর আসে না ,পাষান পাথর হয়েছি আমি,
সুন্দর আমাকে আর দেয় না মর্মরে দোলা,
এখন মৃত্যুই আমার কাছে অধিক দামি ।
হে সুন্দর ---শোনো এই হতভাগার কথা
কবিতা আর আসে না
এ মনে যে বড় ব্যথা ব্যথা ব্যথা।
******************
প্রশ্ন
বিজুরিকা (ঝিমলি)
প্রশ্ন জমেছে একেরপর এক মনে,
বারবার আমি উত্তর খুঁজি তাই;
কিছু উত্তর কখনো যদিবা মেলে-
নতুন প্রশ্ন মনে করে নেয় ঠাঁই।
সব প্রশ্নের জবাব পাব কি কখনো?
এই প্রশ্নটা তোমাকে করছি আজ;
হয়তো ভাবছ উন্মাদ কি যে বলে!
হিজিবিজি যত চিন্তা আর অকাজ।
ভেবে দেখো তুমি প্রশ্ন তোমারও অঢেল,
কিঞ্চিৎ বাদে বাকির উত্তর নেই;
উত্তরগুলো চলো খুঁজি একসাথে-
ফিরে যাব যবে ওই সেই শুরুতেই।।
****************************
কবির ছোঁয়ায়
স্বপন কুমার ধর
কবিতাগুলো গ্ৰীষ্মের প্রখর দাবদাহে,
অনেকটা ক্লান্ত হয়ে নির্জনে,
কোলাহল হীন স্থানে, একান্তে,
একটু তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল,
হয়তো কয়েকটা ঘুমিয়েও পড়েছিল।
পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কবি,
মৃত ভেবে,একটু জল ছিটিয়ে ছিল,
আর তাতেই,-
ধীরে ধীরে আড়মোড়া ভেঙ্গে কবিতারা,
জেগে উঠে, মাথা নীচু করে,
সলজ্জ নয়নে বসে পড়ল।
কবি কন্ঠের আগুনের প্রজ্বলিত শিখায়,
তাদের বর্ণগুলো চক্ চক্ করে উঠলো।
কবি পড়তে শুরু করলেন,
এবং তা শেষ করে,
আঙ্গুল দিয়ে দিক্ নির্দেশ করলেন,
স্তব্ধতার দিকে,মৌন হয়ে,
যারা অসময়ের বিকেলে,
আগুয়ান ভোরের প্রবেশের,
অপেক্ষায় সময় অতিবাহিত করছিল।
মনে হচ্ছিল, এ যেন কবিতার,
পশ্চাদপটে কবির আশা, ভালোবাসার,
দিবারাত্রির স্বপ্ন জেগে উঠেছে,
তারই মাধুর্যময় ছোঁয়ায়।
************************
যুক্ত কর এ'বার
মনোজ কুমার রথ ( শ্রীমান অকুলীন )
যুগ তো চলে যায়,
এ'বার না হয় যুক্ত কর...
যুক্ত কর মনের সাথে মন,
হাতের সাথে হাত,
ভাবনার সাথে ভাবনা...
ইপ্সিত মনের সাথে মনের ভাব না হলে কী
মন ভালে থাকে,বলো?
অনেক দূরে নৌকা,
আমাদের ঘাটে আসতে এখনও অনেকখানি বাকী...
ফাঁকি দেওয়ার বিন্দুমাত্র উপায় নেই,
সত্য মাঝি হাঁক দিলে যেতেই হতে ওই যে ও-ই পারে...
বারে বারে ভুল করতে কার আর ভালো লাগে বলো?
বিয়োগের অঙ্কে আমার চিরকালই অনিহা,
তবু অপ্রয়োজনীয় বা ক্ষতিকারক কিছু বিয়োগ দিতে
ভুল হয় না আমার;
রাগ বিয়োগ দিয়েছি বিরাগভাজন হব না বলে,
অভিমান বিয়োগ দিয়েছি অধরাকে ধরার অভিযান
থেমে যাওয়ার ভয়ে,
অভিযোগকেও রাখি না যোগের খাতায়...
তাকেও বিয়োগ দিই
অভিষিক্তা,এক'শভাগ তোমাতে সিক্ত হবার লোভে...
যখন অন্যায় দেখেও
প্রাণের ভয়ে প্রতিবাদ না করতে পেরে
ক্ষোভে ফেটে পড়ছে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ,
কালো টাকা সাদা করে অট্টালিকার শীর্ষে উঠে
অট্টহাসি হাসতে হাসতে সুখের ফানুস ওড়াচ্ছে
আকণ্ঠ রঙিন তরল পান করা
চারিপাশের ক্রমবর্ধমান অসংখ্য সমাজের পাপ...
তখন পাগলের মতো কী প্রলাপ বকছি বল?
ভিখারীর মতো প্রেম ভিক্ষা চাইছি দুয়ারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে!
বাড়িয়ে দাও হাত...
অন্য কেউ জানবে না... দরকারও নেই জানার,
শুধুমাত্র তুমি জানো...
আমি তোমার জন্য পাগল,
প্রেমের জন্য ভিখারী সেই কবেকার থেকে!
যুগ তো চলে যায়,
এ'বার যুক্ত কর...
মনের সাথে মন,
হাতের সাথে হাত,
তারপর......!
*****************************
বাস্তব চিত্রায়ন
অনিরুদ্ধ দত্ত
আমার আঁকার খাতা নিয়ে আঁকতে
বসলাম,পাতার পর পাতা এঁকে
চলেছি;----- বৃষ্টিস্নাত প্রকৃতি,
গাছ , আকাশ, মেঘ ,কিশোর, কিশোরী-----
কিছুতেই ছবিগুলো নিখুঁত হচ্ছে না;
মনের মধ্যে এক ভীষণ অস্থিরতা!
একটু অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিলাম;
সম্বিত ফিরলো পাশের বাড়ির বাচ্চা
মেয়েটির মায়ের চিৎকারে,দেখলাম
মেয়েটি আমার আঁকার খাতা নিয়ে
প্রতিটা পাতায় হিজিবিজি কেটে
দিয়েছে,আর আমার দিকে তাকিয়ে
খিল খিল করে হাসছে; যাঃ!
আমার আঁকাগুলো নষ্ট হয়ে গেল, কী
আর করা যাবে!বাচ্চা মেয়ে;-- খাতাটা
নিয়ে পাতাগুলো উল্টাতে লাগলাম, কিন্তু
এ কী !আমার ছবিগুলোর বাস্তব চিত্রায়ন
ঘটিয়েছে তো মেয়েটি ওই হিজিবিজির মধ্য
দিয়ে, যা এতক্ষণ আমি পারছিলাম না!
******************************
অদ্ভুতুড়ে
কে দেব দাস
ভূতের অস্তিত্ব নিয়ে নানা মুনির নানা মত। ভূতের অস্তিত্বের প্রমাণ আজ পর্য্যন্ত ও আবিষ্কৃত হয়নি প্রাচ্য কিংবা প্রাশ্চত্যের দেশগুলোতেও। কিন্তু সবাই এক বাক্যে স্বীকার করে "evil'spirit" অপশক্তি বলে একটা অনুকম্পা বা অনুভূতি মানুষের মনের গভীরে প্রতি নিয়ত অনুভূত হয় যার ফলস্বরূপ আমরা ভূতের অস্তিত্ব আছে বলে মনে করি। কিন্তু তার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা যুক্তি আমাদের জানা নেই। তাই নানা বিধ দোলা চালে আমরা দোদুল্যমান। দিগন্ত ও তার ব্যতিক্রম নয়। সবে মাএ সে কলেজে ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে। এর সত্যতা জানার জন্য ওর যথেষ্ট কৌতুহল। কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবে তার জানা নেই।
সেদিন ছিল ঘোড় দুশ্চিন্তার রাত। চারিদিকে অন্ধকার আর অন্ধকার । কোথাও কিছু দেখবার উপায় ছিলনা। সে কালে কোথাও আলোর ব্যবস্থা ছিলনা গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। তাই রাত বিরাতে লোকে সাধারঃণত ঘর থেকে বের হতো না। শেষে ভূত প্রেত আশ্রয় করে বসে। শুধু মাত্র সন্ধ্যাবেলা লোকের বাড়িতে প্রদীপ কিংবা লন্ঠনের আলো জ্বলতো।
গ্রামের অশীতিপর বৃদ্ধ যামিনী বাবুর কাশতে কাশতে মাঝরাতে প্রায়ঃশয় ঘুম ভেংগে পড়তো। ঘুম থেকে উঠে আপন মনে কিছু একটা বিড় বিড় করতো আর সরলা দেবীকে বলতো হুঁকোটা জ্বালিয়ে দিতে। সারাদিনের পরিশ্রমের পর অজোড়ে ঘুমাতো সরলা দেবী। মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গালে ভীষণ বিরক্তি বোধ করতো। কিন্তু উপায় কি। অগত্যা অনিচ্ছা সত্ত্বে ও হুঁকোটা জ্বালিয়ে দিতে হতো সরলা দেবীকে। তাই সরলা দেবী যামিনী বাবু কে বহুবার বলেছিল ঐ বদ অভ্যাস টা ছেড়ে দিতে। কিন্তু না উপায় নেই ওটা যে যামিনী বাবুর বার্ধক্যের সঙ্গী। হুঁকোতে টান না দিলে যামিনী বাবু যে কিছুই মনে করতে পারতো না বর্তমান কিংবা অতীত।
সে দিন যামিনী বাবু রাতের শেষ প্রহরে বাড়ি ফিরছিলেন। কারণ বিনয়ের সদ্যোজাত মৃত সন্তানের পরলৌকিক ক্রিয়াদি সম্পন্ন করতে করতে গোটা দিন গড়িয়ে গিয়েছিল। সকালের দিকটা গাঁয়ের প্রাধানের উপস্থিতিতে বিনয়ের মৃত সদ্যজাতকে সমাধিস্থ করেছিল গাঁয়ের অনতি দূরে নদীর ধারে। যামিনী বাবু যখন বিনয়কে বলছিল এবার তোমার ছেলেকে নিয়ে চল আর দেরি করা যাবেনা তখন বিনয়ের স্ত্রী যামিনী বাবু আর প্রধানের পা জড়িয়ে ধরে ঢূঁকড়ে ঢূঁকড়ে কাঁদতে কাঁদতে বলছিল আমার সন্তানকে নিয়ে যেওনা তোমরা। ওর কিচ্ছুটি হয়নি, ও আমার কাছে থাকবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু নিরুপায়, মৃতাকে যে সমাধিস্থ করতেই হবে।
অতঃপর পরলৌকিক ক্রিয়দি সম্পন্ন করে যামিনী বাবু, বিনয় আর গ্রামের প্রধান কে নিয়ে থানায় ডায়েরি করাতে রওনা হলেন। থানা ও তো গ্রাম থেকে প্রায় দশ মাইল দূরের আধা শহরে। অবশেষে থানায় ডায়েরি করে যথারীতি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন।
যামিনী বাবু বাড়ি ফিরতে ফিরতে রাতের প্রায় শেষ প্রহর হয়ে গিয়েছিল। প্রধান আর বিনয় যে যার বাড়ি ফিরে গিয়েছিল। কিন্তু যামিনী বাবু কে যে আরও অনেকটা পথ একা একা যেতে হবে ঐ নদীর ধার ধরে ধান ক্ষেতের আল দিয়েই। বর্ষার ভরা নদী শাকো ছাড়া নদী পারাপারের আর কোনও বিকল্প ছিলনা। যামিনী বাবু যখন নদী দিয়ে শাঁকো পাড় হচ্ছিলেন তখন নিজের অজান্তেই মনের গভীরে বিনয়ের সদ্যোজাতর কথা মনে পড়ে গেল। ওকে যে এখানেই নদীর ধারে সকালে সমাধিস্থ করা হয়েছিল। আর তাই ভেবে ভেবে মনের গভীরে একটা ভীতি ও আসছিল। চারিদিকে ঘূঁট ঘূঁটে অন্ধকার, শুন শাণ রাস্তা, নিঃশব্দ রাত্রি, মাঝে মধ্যে পেঁচার ডাক কানে আসছিল।ঊনাকে যে ঐ অন্ধকার রাতে ধানক্ষেতের আল ধরেই এখনও অনেকটা পথ যেতে হবে। তাই নিজেকে বড় অসহায় মনে হচ্ছিল। দূরু দূরু বুকে গৃহাভিমুখে এগোচ্ছিলেন।
বাড়ির কাছে পৌঁছতেই হঠাৎ লক্ষ্য করলো পুকুর পাড় দিয়ে একটা ইয়া বড় কালো মোষ বড় বড় সিং নিয়ে যেন তাকে তাড়া করতে আসছে। ভয়ে সযোড়ে হাতের লাঠি টা উঁচু করে ঘোরাতেই সেই মোষটা কোথায় যেন বিলিন হয়ে গেল। কিন্তু যামিনী বাবুর মনের ভিতর টা আতঙ্কে ধড়ফড়িয়ে উঠেছিল। মুহুর্তের মধ্যে শরীরের লোমকূপ খাড়া হয়ে গিয়েছিল। এমতাবস্থায় কোন ও মতে বাড়ি ফিরে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন।
বাড়িতে ঢুকে সরলা দেবীকে ঢাকলেন দরজা খুলে দেবার জন্য। সরলা দেবী দরজা খুলে এলো চুলে পুকুর পাড়ে গিয়ে মাথায় জল ছিটিয়ে ঈশ্বরের নাম করতে করতে ঘরে ঢুকলেন এবং যামিনী বাবু র সাথে কিছু কথোপকথন হতেই যামিনী বাবু লক্ষ্য করলেন সরলা দেবী যেন কিছুটা অসংলগ্ন কথাবার্তা বলছেন। নানা ধরনের অঙ্গ, ভঙ্গি করছেন। যামিনী বাবু সরলার মধ্যে কিছু একটা ব্যতিক্রম লক্ষ্য করছিলেন। তাই সরলা দেবী কে সংযত থাকতে শাশিয়ে উঠলেন। না, কিন্তু না, সরলা দেবী যে তার কিছুই শুনছেনা। কখন ও হাসছে তো কখনও থুথু ফেলছে। যামিনী বাবু সজোড়ে একটা চর কষালেন বদান্যতা থামাবার জন্য কিংবা অন্যমনস্ক করাবার জন্য। কিন্তু না কোনও হেলদোল নেই সরলা দেবীর। যামিনী বাবু বুঝতে পেরেছিল যে ওকে ভূতে ধরেছে। এক্ষুণি ওঝা ডাকতে হবে।
ওদিকে দিগন্ত সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই সরলা দেবীর ঘরে কোলাহল শুনতে পাচ্ছিল। ও বুঝতে পেরেছিল সরলা দেবীর ঘরে কিছু একটা হয়েছে। ছূটে গিয়ে দেখে সরলা দেবীর ঘরে অনেক লোকজন ভীড় করছে। ২/৩ জন সরলা দেবীকে ধরে রাখতে পারছেনা। ঊনার গায়ে যে যথেষ্ট শক্তি। দিগন্ত ভেবে পায়না হঠাৎ সরলা দেবীর কি এমন হলো যে ঊনার গায়ে এত শক্তি এলো কোথা থেকে। কাল রাতে ও তো একসাথে খাওয়া দাওয়া করেছে। কিছু ব্যতিক্রম তো লক্ষ্য করা যায় নি তখন। তাহলে হঠাৎ এই পরিবর্তন কি করে সম্ভব।
ততক্ষণে ওঝা এসে হাজির। ঊনি, ঊণার মত কাজ করে যাচ্ছিলেন। একটা সময় দেখা গেল ঊনি শলার ঝাঁটা দিয়ে সরলা দেবীকে প্রচন্ড মারছিলেন। কোথাও কোথাও ঊনার গায়ে থেকে রক্ত ঝড়ছিল। তাই দেখে সবাই বলছিল এবার ছেড়ে দিন। কিন্তু না ওঝা তার মারের গতি আরও বাড়িয়ে চলছিল। একটা সময় সরলা দেবীকে বলতে শুনা গেল আমায় ছেড়ে দে, আমায় ছেড়ে দে, আমি আর থাকবোনা, আমাকে যেতে দে, ইত্যাদি ইত্যাদি। ওদিকে ওঝা বলে যাচ্ছিল তুই যে চলে যাবি তার প্রমাণ কি। প্রমান দিয়ে যা।নূতবা বোতলে ভরে দেবো। আমাকে প্রমাণ দিয়ে যা। নূতবা আর ও মেরে শেষ করে ফেলবো । কিছুক্ষনের মধ্যে দেখা গেল সরলা দেবী হঠাৎ দৌড়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পালাবার চেষ্টা করলো। বাড়ির দরজার সামনে গিয়ে ধড়াস করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। সবাই মিলে সরলা দেবীকে তুলে ঘরে নিয়ে এলো আর এক গ্লাস গরম দুধ খাওয়ানো হলো। ক্লান্তি বশতঃ সরলা দেবী কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর বিকেল হতে সরলা দেবীর ঘুম ভাঙ্গলো। ঘুম ভাঙ্গতেই দেখে ঘর ভর্তি লোকজন। হঠাৎ বলে বসলেন ঘরে এত লোকজন কেন? আমি এত দুর্বল অনুভব করছি কেন? সবাই মুখে কুলুপ এঁটে ছিল। বিকেল পর্য্যন্ত সরলা দেবী সমস্ত ঘটনাবলি জানতে পারলো আর ভীত হলো।
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো আমরা যদি ভূত প্রেতে বিশ্বাস না করি তাহলে উপরিউক্ত ঘটনাবলী কে কি বলে আক্ষা দেওয়া যাবে তা দিগন্তের বোধগম্য নয়। যুক্তি তর্ক অনেক হতে পারে। বৈজ্ঞানিক প্রমাণ দেওয়া সম্ভব নয়। তবে এটা বাস্তব অভিজ্ঞতা যা কিনা দিগন্ত তার নিজের চোখে দেখেছিল। গ্রামীণ জীবনে এই ধরণের ঘটনাবলী আকছাড় ঘটে থাকে যা কিনা যারা সচক্ষে দেখেনি তাদের বিশ্বাস হবার নয়। তারা শুধু কল্পনার অভিব্যক্তি তাদের লেখনীর মধ্য দিয়ে প্রকাশ করে। তাই দিগন্ত তার সচক্ষে যা দেখেছিল তার ইতিহাস আজ ও অজানা।
*************************
বয়সের ধর্ম
সুজিত চক্রবর্তী
তখন সবেমাত্র সকাল হয়েছে বলে
আমরা উঠব-কি-উঠব-না ভেবে
শেষ পর্যন্ত উঠে ব্যালকনিতে এসে
দুজনে মিলে গাইছি সেই প্রিয় গান,
এমন সময়ে চেয়ে দেখি আমাদের
বিস্তারিত চোখের সামনেই কী করে
কুঁড়ি ফেটে গিয়ে ফুল হলেও কিন্তু
বিস্কোরণে পাখিরা আতঙ্কিত নয়!
বরং তারা সমস্বরে কলরব শুরু করেছে!
কুঁড়ির নিঃশব্দ বিপ্লব তাদের পছন্দ নয়।
তারা ব্যাপক প্রচার না করে কোনও দিন
কিছু করতে পারে না কেন আমি জানি না।
কেউ কেউ বলে থাকে এটা নাকি বয়সের ধর্ম!
***************************
Be careful.
Ajit Kumar Dey.
There is a red mark next to the name,
Be careful now.
The summons will come soon.
You have to leave the bonds of love.
are you still thinking
The rest of the work must be completed.
Think at the end of time,
What have you done for yourself?
You have given a lot to the family.
They won't give it to you when you leave.
How many days will you stay in the rented house?
The contract will expire in one day.
No one values work.
When the work is done, you are miserable.
Sing praises to the Lord,
Do bhajan repeatedly.
Eternal God among men,
Take care of them.
At the end of the day, at the end of the day,
No one will be by your side.
At the end of the day, when the sun goes down.
Lost in the dark, lost direction.
Your life is empty, empty,
Will not return again.
At the bottom of the deep ocean,
Your life will go down.
****************************
চিরন্তন গান
কৌশিক গাঙ্গুলী
ও ভোলা মন , পৃথিবীতে সবাই সবার জন্যে , ভালোবাসায়, কান্নায়।
কিন্তু উপহাসে ভরা এই সমাজে
কালো কফির মতো তিতকুটে স্বাদ লাগে সরলতার । আমি তো বৈষ্ণব পদাবলী পড়েছি, আমি তো শাক্ত পদাবলী পড়েছি, আমি কান্নায় মণিমুক্তো পেয়েছি, আমি তো হাসিমুখে হীরক খণ্ড খুঁজে পেয়েছি, তবু তোমরা আমাকে আপন করে নাওনি , দেখো আমার মুখে মন ভোলানো হাসি ,আমার গলায় সেই চিরন্তন গান ।ও ভোলা মন কেউ কারো নয় আর আমি ভাবি ও ভোলা বোন আমি সবার,
সবাই আমার সাথী।
তাই রুক্ষতায় পূর্ণ রক্তমাখা পথে হাঁটতে শুরু করি গন্তব্য না জেনে তারপর চিঠি লিখি অচেনা বন্ধুর উদ্দেশ্যে, আমাকে ভুল বুঝোনা , আমি যে তোমাদেরই লোক । আমি তো সেই ম্যাজিশিয়ান
যার চোখে মায়াবী জাদু ,
তার কোন হেরে যাওয়া নেই
তার কোন জিতে যাওয়ার ইচ্ছে নেই,
সে খালি পথ চলে অমৃতের সন্ধানে,
সে খালি পেতে চেয়ে আলোর স্পর্শ মাখা স্বপ্ন ছোঁয়া দিন ।
একদিন ভোর হবে ,একদিন শান্তি ফিরে পাবে চারিদিকে নিস্তব্ধতায় ভরা থাকে ,
তাকে চ্যালেঞ্জ জানাবে নতুন পাখির ঝাঁক,
কলকাকলি।
ওরে ভোলা বোন আমি তোদের ভুলবো না ।
****************************
অথ সারমেয়
দেবারতি গুহ সামন্ত
পাড়ার মোড়ে,
গরম গরম কচুরি তরকারি,
বিক্রি হচ্ছে দেদার।।
আমি
খালি পায়ে হাটছিলাম।
জুতোটা মাঝরাস্তায়
পটাং করে ছিঁড়ে গেল।
পায়ে পায়ে এসে পড়লাম মোড়ের মাথায়,
বড্ড লোভ হল গরম কচুরি দেখে।
লোভ সম্বরণ করলাম,
আমার পেছন পেছন আসছিল একটা সারমেয়,
লোম ওঠা,শীর্ণ চেহারা।
কুড়ি টাকার কচুরি কিনলাম,
তারপর কুকুরটার সামনে রাখলাম।
ও খাবে কিনা আমার অজানা,
কিন্তু আমি পরিতৃপ্ত।
খালি পায়েই হাঁটা লাগালাম
গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে,
তপ্ত রোদ আমার পায়ে লাগল না,
পিছলে গেল পায়ের নীচে,আমি ঘর পৌঁছালাম।
খিদে টের পেলাম না,
এক অদ্ভুত আনন্দে মেজাজ ফুরফুরে,
চটি ছেঁড়ার দুঃখ ছুঁতে পারেনি আমায়।
এই কি তবে ঐশ্বরিক আনন্দ?
অভুক্ত কুকুরকে কচুরি খাওয়ানোর আনন্দ?
অম্লান বদনে নিজের প্রাপ্য অন্যকে দেওয়ার আনন্দ?
আপনারাই বলুন,
তবে কুকুরটি কচুরি খেয়েছিল কিনা,
সেই খোঁজ সম্পূর্ণ করে তবেই আমায় জানাবেন,
তাতে আনন্দ আমার দ্বিগুণ হবে,
রাতে ডিনার ও স্কিপ!
***********************
তোমার অপেক্ষায়
নীল ধ্রুবতারা
কি লিখবে কলম কার কথা কোন ভাষায়,
হঠাৎ করেই বর্ষা প্লাবনে খড়কুটোর মতো ভাসছে অক্ষর,
শেষ রাতের জোছনায় ভিজেছে শব্দমালা,
অকৃত্রিম স্নেহের পরশে কখন যে সকাল হয়েছে টের পায়নি মন,
সুখহীন অসুখে স্বপ্নের আনাগোনা রাতভর,
দ্বিতীয়ার চাঁদে গ্রহণ লাগা আলো আকাশ জুড়ে মেঘ জমেছে,
সময়ের স্রোতে ভেসে যায় কতো আশা আকাঙ্খা,
বৃহদাকার বৃহল্লাঙ্গুলের ভাষনে
অতিষ্ঠ মন প্রাণ,
মানবীয় জনারণ্যে প্রতিদিন গুপ্ত মিছিলে পা মেলাচ্ছে অন্যায়ের পুজারী,
শ্রাবণের মেঘ জমেছে গুমোট গরম ঘামছে আকাশ বৃষ্টি হীন,
মনের দর্পণে প্রকৃতির রূপ দেখে আড়ষ্ঠ জীবকুল -
আরো একটা আকাশ চাই আরও একটা শ্রাবণ মেঘের ভেলায় চড়ে জীবন নদীর স্রোতের টানে বইতে চায় সাহিত্য প্রেমিক,
আমি কলমের বৈঠা ধরে লিখে যাবো সময়ের কর্মকথা,
একটা ভোর আসবে নিকষকালো রাত শেষে,
অপেক্ষায় আছি কবে আসবে জ্যোতির্ময়।
*************************
পথের আঁখিতে স্বপ্নেরা উন্মুখ
অসীম দাস
পেতে পেতে স্বাদ , অভ্যাসে আসে ভোর
ভোর ভেসে যায় নয়ানজুলির জলে
জলের আদরে পানকৌড়ির ঘোর
ঘোরাঘুরি শেষে বসি বকুলের তলে !
তলের তরলে আবারও বাসনা জ্বালি
জ্বালিয়েই ফের নিভে যায় শুকতারা
তাড়াতাড়ি জাগে শিশু রোদ আধফালি
ফালি মেঘে ভেজে মুক্তো শ্রাবণ ধারা ।
ধারা- বিদ্রোহী জীবনের জনমত
মতামত মিলে সন্ধ্যা প্রদীপে সুখ
সুখের অসুখে জনহীন রাজপথ
পথের আঁখিতে স্বপ্নেরা উন্মুখ !
****************************
ডায়রি
নবনীতা ব্যানার্জী
জাগরণে বিভাবরী, স্নাত জ্যোৎস্নার তলে কলম, ডাcয়ারি,
শব্দে, বর্ণে, আবরণে শত-সহস্র লেখা পৃষ্ঠার বাড়ি।
গল্প ,গান, কবিতা নিজেরা নিজেদের আড্ডায় বেসামাল,
আকাশ জুড়ে জমে শ্রাবণের মেঘ, ঝড়ো বাতাস হয়েছে দামাল।
বিদ্যুৎবাণ চমক দিয়ে তীব্র আলোক বন্যায় আসে ধেয়ে,
ছুটে যায় মনের টানে ভিজবে বৃষ্টির গন্ধটুকু পেয়ে।
মাতাল মনে পথ হারিয়ে কালো ভ্রমর ফুলের রেণু মাখে,
অক্ষরমালা নিজেই নিজেকে ছোট্ট কুটিরে আবদ্ধ করে রাখে।
কদম ফুলের গন্ধ ভাসে উদাসী মন দোতারায় বাউল গানে,
মৌমাছি দু'বেলা ঘুরতে আসে মাধবীলতার নিঝুম বাগানে,
লাস্যময়ী নারীর কথা লেখা রয়ে গেছে শেষ পৃষ্ঠায়।
মোহিত রূপে আজ সে এসে হঠাৎই যদি সামনে দাঁড়ায়!
নীলাভ নয়নে তাকিয়ে দেখে ঠোঁটে মৃদু হাসির ছোঁয়াতে।
মনের সাধ মিটেই গেছে তীব্র দহন, কালচে ধোঁয়াতে।।
কালো মেঘের আড়াল থেকে হলুদ ওড়না উড়ে এসে পড়ে,
অক্ষরমালা গভীর রাতে লেখককে ডাকে একান্তে চুপিসারে।
গভীর রাত ছন্দ হারায় গোলাপ বাগে পাপড়ি ঝরে,
ওলটায় কবি ডায়রির পাতা নিদ্রালু চোখে ঘুমের ঘোরে।।
***************************
স্বার্থ
আসিফ রহিম
সময়ের আব্রু ছিড়ে কত নিলজ্জ
ধনী আকাশে উড়ে
নিয়মনীতি বাদ দিয়ে বাম হাতের খেলায় জবরদস্তি করে।
কয়েক হাজার কোটি জীবনে চোখেও দেখেনি --
অথচ কি অবলীলায় পার্সেন্টেজ ব্যবসায় ব্যাংক খালি করে কি আসেনি..।
বিদেশে টাকা পাচার জনগনের সম্পদ লুটে,
উচুতলার বাসিন্দাদের রমরমা জীবন সব সাধ গেছে টুটে।
ভালবাসা ও এখন বিক্রি হয় পানির দরে ---
ফেসবুক টুইটার ইন্সটাগ্রাম সবখানে বিকিকিনি চলে হৃদয়ের আকুলতা ভরে।
শুধু চোখাচোখি নয় চাইলে অল্পকদিনের পরিচয়ে,
আদিম খেলা হয় বিছানায় পাশাপাশি সুখ বিনিময়ে।
টাকা নারী নেশার রঙ্গিন গ্লাসে
ক্যাপসুল লিফটে অভিজাত ড্রইং রুমে ডিজে পার্টির ধুমধাম আসর বসে বিনা ত্রাসে।
বদলে যাওয়া সময়ে যে যেমন করে পারছে টাকা কামাচ্ছে,
নৈতিকতা ধর্মের বারোটা বাজিয়ে ধনী হবার অসুস্থ্য প্রতিযোগীতা চালাচ্ছে।
বাজার বল অফিস বল ব্যক্তিগত বন্ধু স্বজন সবাই একেকজন প্রতারক,
রক্তের টান বল আবেগ অভিমান সবই মুল্যহীন স্বার্থ ই হয় দিনশেষে তোমার হন্তারক।
****************************
সাবাস!! গণতন্ত্র!!
বিপ্লব কংস বনিক
তোরাতো আমার কথা রেখে ছিস,
মান রেখে ছিস বুথে বুথে--
গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়েছিস কেরে,
গুলি বোমা বন্দুক হাতে হাতে।
পাহাড়াদার সব ঠুঁটো জগন্নাথ
তোদের রক্ত চক্ষু ই সব,
নবজোয়ারে ভাসলি সবাই
এটাই গণতন্ত্রের উৎসব।
সন্ত্রাস চললো দিন রাত
আগে পিছে গেল অর্দ্ধশত প্রাণ
ঘোষণা আমি করে দিলাম
অবাধ শান্তিপূর্ণ মতদান।
কার 'মা' র কোল খালি
কার মাথার সিঁদুর মুছলো
আমার কি আসে যায়
আমার দল তো জিতলো !!
****************************

0 মন্তব্যসমূহ